
মার্কিন নৌবাহিনীর অপারেশন প্রধান অ্যাডমিরাল ড্যারিল কডল দেশটির নৌবহরের জাহাজ মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ-সংক্রান্ত সঙ্কট নিয়ে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেছেন, নৌবাহিনী মেরামতের কাজ জমে যাওয়ার এক গভীর সঙ্কটে পড়েছে। এই পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে কয়েক বছর সময় লাগবে এবং এর জন্য কোনো শর্টকাট বা বিকল্প পথ নেই।
মার্কিন নৌবাহিনীর মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ সঙ্কটকে কেবল প্রযুক্তিগত কিংবা বাজেট-সংক্রান্ত সমস্যা হিসেবে দেখা যায় না। বিশ্লেষণ অনুযায়ী, পশ্চিম এশিয়ায়, বিশেষ করে ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানে নৌবহরকে সর্বোচ্চ মাত্রায় ব্যবহারের নীতির প্রত্যক্ষ ও অনুমানযোগ্য পরিণতি এই সঙ্কট।
মার্কিন নৌবাহিনীর কর্মকর্তারা এখন যে বাস্তবতার কথা স্বীকার করছেন, তা মূলত একটি কাঠামোগত সঙ্কট। সাত মাসের দায়িত্ব পালনের চক্র মাথায় রেখে যেসব নৌযান তৈরি করা হয়েছিল, সেগুলোকে বাধ্য হয়ে ১০ থেকে ১৪ মাস পর্যন্ত অভিযানে নিয়োজিত রাখতে হয়েছে। এখন এসব জাহাজ বন্দরে ফিরে আসার পর বিপুল পরিমাণ মেরামতের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। অথচ বিদ্যমান শিল্প অবকাঠামো ও দক্ষ জনবল দিয়ে এই বিপুল কাজ সামাল দেয়া সম্ভব হচ্ছে না।
এই মেরামত-সংক্রান্ত কাজ জমে যাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ পশ্চিম এশিয়ায় পরিচালিত অভিযান, বিশেষ করে ইরানের সাথে যুদ্ধ।
বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাহরাইন ও পারস্য উপসাগরের অন্যান্য স্থানে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলার পর ভারত মহাসাগরে অবস্থিত দিয়েগো গার্সিয়া ঘাঁটিই মার্কিন জাহাজগুলোর বিশ্রাম ও পুনরায় রসদ সংগ্রহের একমাত্র নিরাপদ বন্দর হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। অভিযানস্থল থেকে এই ঘাঁটির দূরত্ব প্রায় দুই হাজার ৫০০ মাইল।
এই দীর্ঘ দূরত্বের কারণে সমুদ্রপথে মাঝপথে বিশ্রাম নেয়ার সুযোগ যেমন কমে যায়, তেমনি মার্কিন নৌযানগুলোকে মাসের পর মাস বন্দরে না ভিড়েই সমুদ্রে অবস্থান করতে হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন নৌবাহিনীর ডেস্ট্রয়ার ‘স্প্রুয়্যান্স’ টানা ৩৪২ দিন সমুদ্রে অবস্থান করে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ের রেকর্ড ভেঙেছে। অন্যদিকে, ‘ম্যাকফল’ নামের ডেস্ট্রয়ারটি ৩৩২ দিন সমুদ্রে থাকার পর বন্দরে ফিরে আসে।
নিরাপদ বন্দরের অভাবের অর্থ শুধু বিশ্রামের সুযোগ হারানো নয়; এর ফলে অভিযানের সময় জরুরি মেরামতের সুযোগও সীমিত হয়ে পড়ে। সাধারণত পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের বন্দরে অবস্থানকালে যেসব মেরামতের কাজ করা সম্ভব হতো, সেগুলো এবার জাহাজ ফিরে আসার পরের সময়ের জন্য জমা হয়ে গেছে।
সূত্র : পার্সটুডে
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








