প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র
প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র। সংগৃহীত ছবি

ইউক্রেনকে রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান বিমান হামলা থেকে নিজেদের প্রতিরক্ষার জন্য ৫০০টি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এসব ক্ষেপণাস্ত্র ইউক্রেনে পৌঁছাতে ‘কয়েক বছর’ লেগে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।

Advertisement

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর জানিয়েছে, অত্যাধুনিক পিএসি-৩ ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর দাম পড়বে ২১০ কোটি ডলার ।

ইউরোপ ও কানাডায় কিয়েভের মিত্ররা এই অর্থের পুরোটা বহন করবে।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাতে জেলেনস্কি আবারো যুক্তরাষ্ট্রের কাছে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র দ্রুত সরবরাহের আহ্বান জানিয়েছিলেন।

এই প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রকে রাশিয়ার প্রাণঘাতী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতে কার্যকর একমাত্র অস্ত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

চলতি মাসের শুরুতে জেলেনস্কি ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে বিরোধের পর যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ এই পদক্ষেপ এলো। 

রাশিয়ার কাছ থেকে ডিজেল কেনার চুক্তির অংশ হিসেবে সে সময় রাশিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন, রাশিয়ার সাথে যুদ্ধ বন্ধে সমঝোতায় পৌঁছাতে ইউক্রেনের নতুন নেতা পাওয়ার সময় এসেছে।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রায় সামরিক অভিযান শুরু করেছিল মস্কো। এর আগে দেশটি ইউক্রেনের ক্রিমিয়া উপদ্বীপ এবং পূর্বাঞ্চলীয় দনবাসের কিছু অংশ দখল করে নেয়।

২০ অক্টোবর অসলোতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সাথে জেলেনস্কির বৈঠকের পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হয়।

শুক্রবারের বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর বলেছে, ‘এই প্রস্তাবিত বিক্রয় ইউরোপের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার শক্তি হিসেবে কাজ করা একটি অংশীদার দেশটির নিরাপত্তা জোরদার করবে। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা হবে।’

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘কানাডা, জার্মানি ও নরওয়ের অনুদানের অর্থে এই কেনাকাটার ব্যয় বহন করবে ইউক্রেন। এ অর্থ আসবে জাম্পস্টার্ট কর্মসূচির মাধ্যমে। পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের ইউক্রেন সাপোর্ট লোনের আওতায় অর্থায়ন করা জাতীয় তহবিল থেকেও ব্যয় মেটানো হবে।’

বিবৃতিতে বলা হয়, এই চুক্তির ‘প্রধান ঠিকাদার’ হবে মার্কিন কোম্পানি লকহিড মার্টিন। এই বিক্রিতে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অর্থ ব্যয় হবে না।

এদিকে জি-২০ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের উপস্থিতির প্রতিবাদ জানিয়েছেন ইউরোপীয় কূটনীতিকেরা। এর অংশ হিসেবে আনুষ্ঠানিক ছবি তোলার সময় তারা দাঁড়াতে অস্বীকৃতি জানান।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর আয়োজনে আটলান্টায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে এই বৈঠক।

বৈঠকে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড বলেন, ‘রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশে আমি সরাসরি একটি কথা বলতে চাই- এই যুদ্ধে আগ্রাসী কে, তা আমরা সবাই জানি।’

ইউক্রেনে নিরপরাধ বেসামরিক মানুষ হত্যার জন্য রুশ সরকারকে দায়ী করেন তিনি।

এর আগে চলতি সপ্তাহে জেলেনস্কি বলেছিলেন, জরুরি ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদন পেতে ইউক্রেনকে প্রায় এক মাস অপেক্ষা করতে হয়েছে।

অথচ দেশটিতে এসব ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত আশঙ্কাজনকভাবে কমে আসছিল।

শুক্রবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষণাকে স্বাগত জানান জেলেনস্কি। তবে তিনি বলেন, ইউক্রেনের এখনই প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রয়োজন।

তিনি আরো বলেন, শীত আসার আগে ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলা আরো জোরদার করছে রাশিয়া।

গত দুই সপ্তাহে দেশটির বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার ‘গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোতে’ ৩০টির বেশি হামলা চালিয়েছে রাশিয়া।

ইউক্রেনের জন্য এসব ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র অত্যন্ত জরুরি। তবে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের এসব ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের কারণে বিশ্বজুড়েই এর সঙ্কট দেখা দিয়েছে।

প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের সময়সূচি কী হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে জানা গেছে, এই ক্রয়াদেশে আগে থেকে মজুত থাকা ক্ষেপণাস্ত্র নয়, বরং নতুন করে তৈরি ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের কথা রয়েছে।

ফলে দ্রুত ইউক্রেনে এগুলো পৌঁছানোর সম্ভাবনা কম। প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনেও দীর্ঘ সময় লাগে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দফতরের তথ্য অনুযায়ী, বছরে মাত্র ৬০০টি ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন করা হয়।

এর আগে জুলাই মাসে ট্রাম্প বলেছিলেন, ইউক্রেনকে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির লাইসেন্স দিতে ওয়াশিংটন ‘সম্মত হয়নি’।

যদিও এর মাত্র তিন সপ্তাহ আগে ইউক্রেনকে এ ধরনের অধিকার দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন তিনি।

সূত্র : বিবিসি