আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত-  আইসিসি- নিষেধাজ্ঞা- আরোপ- প্রস্তুতি-  মার্কিন- প্রেসিডেন্ট - ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন
নেদারল্যান্ডসের হেগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ভবন রয়টার্স

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত  বা আইসিসর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তুতি নিয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুই ব্যক্তি এ তথ্য জানিয়েছেন। শিগগিরই নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেয়া হতে পারে। বিশ্বজুড়ে যুদ্ধাপরাধ ও গণহত্যার বিচার করা এই আদালতের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণ আরো জোরদার হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) জানায়,  ট্রাম্প প্রশাসন শুরু থেকেই আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রতি বিরূপ মনোভাব প্রকাশ করে আসছে। আদালটির কার্যক্রম দুর্বল করার চেষ্টা চালাচ্ছে তারা। ইসরাইলি নেতাদের বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেফতারি পরোয়ানা প্রত্যাহার এবং আফগানিস্তানে মার্কিন সেনাদের বিরুদ্ধে আগের তদন্ত বন্ধ করতে চায় ওয়াশিংটন।

জুলাইয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আদালটিকে বিচ্ছিন্ন করার উদ্যোগ ঘোষণা করেন। তিনি অন্য দেশগুলোকে আইসিসি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। এরই মধ্যে কয়েকজন বিচারক ও কৌঁসুলির ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে গোটা আদালতের ওপর নিষেধাজ্ঞা এতদিন আরোপ করা হয়নি।

আদালটির ওপর নিষেধাজ্ঞার প্রস্তুতি নেয়া হলেও ঘোষণার সঠিক সময় এখনো স্পষ্ট নয়। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের বৈঠক চলাকালে চলতি সপ্তাহেই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হতে পারে।

গোটা প্রতিষ্ঠান এবং এর সাথে সহযোগিতাকারী সংস্থাগুলোর ওপর সরাসরি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলে আদালতের কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়লে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ও কোম্পানিগুলো বিশেষ অনুমতি ছাড়া আদালটিকে অর্থ, পণ্য বা সেবা দিতে পারবে না।

আদালতের রেজিস্ট্রার ও প্রেসিডেন্ট সতর্ক করে বলেছেন, নিষেধাজ্ঞার কারণে তথ্যপ্রযুক্তি সেবা ও বিমা কেনা, তদন্তকারী নিয়োগ এবং দৈনন্দিন আর্থিক লেনদেন ব্যাহত হতে পারে। এমনকি কয়েক ডজন মার্কিন কর্মীর বেতন দেয়াও কঠিন হয়ে পড়বে।

২০০২ সালে যুদ্ধাপরাধ, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় আইসিসি প্রতিষ্ঠা করে। কোনো সদস্যরাষ্ট্র নিজে এসব অপরাধের বিচার করতে অক্ষম বা অনিচ্ছুক হলেই আদালতটি এখতিয়ার প্রয়োগ করে। যুক্তরাষ্ট্র কখনোই এই আদালতের সদস্য ছিল না।