ইরানের সাথে সরাসরি সংঘাত থেকে দূরে থাকতে চায় আরব দেশগুলো

আলকিনানির মতে, সংঘাতের কেন্দ্রস্থলে থাকা আরব দেশগুলো দূরত্ব বজায় রাখার প্রাণপণ চেষ্টা করলেও ইরান ও ইসরাইল হাঁটছে ঠিক বিপরীত পথে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
ইরান-ইসরাইল সংঘাত নিয়ে ইস্তাম্বুলে আরব লীগের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের জরুরি বৈঠক
ইরান-ইসরাইল সংঘাত নিয়ে ইস্তাম্বুলে আরব লীগের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের জরুরি বৈঠক |সংগৃহীত

ইরান ও ইসরাইলের মধ্যকার ভয়াবহ সংঘাত থেকে নিজেদের সম্পূর্ণ দূরে রাখাই এখন আরব দেশগুলোর একমাত্র মূল লক্ষ্য। উত্তেজনা চরমে উঠলেও মধ্যপ্রাচ্যের কোনো দেশই এই যুদ্ধের সরাসরি অংশ হতে চাইছে না। আরাব পারসপেক্টিভস ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক এবং মিডল ইস্ট কাউন্সিল অন গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স-এর গবেষক জাইদুন আলকিনানি এই পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে বলেছেন, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে যারা এই সামরিক উত্তাপের একদম কাছে রয়েছে, সেই আরব দেশগুলোর একটাই স্পষ্ট অবস্থান—তারা কোনোভাবেই এক পক্ষের বদলে আরেক পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলার বিপজ্জনক চক্রে জড়িয়ে নিজেদের অস্তিত্ব ঝুঁকিতে ফেলবে না।

আল জাজিরা বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) জানায়, আলকিনানির মতে, সংঘাতের কেন্দ্রস্থলে থাকা আরব দেশগুলো দূরত্ব বজায় রাখার প্রাণপণ চেষ্টা করলেও ইরান ও ইসরাইল হাঁটছে ঠিক বিপরীত পথে। নিজেদের মধ্যে তীব্র লড়াই চললেও দুই দেশেরই কৌশলগত লক্ষ্য এক, আর তা হলো এই যুদ্ধকে আরো বিস্তৃত করা এবং একাধিক দেশকে এর ভেতরে টেনে আনা। ইরান চায় পারস্য উপসাগরীয় আরব দেশগুলো বুঝুক যে তাদের নিরাপত্তার অস্তিত্ব এই সংঘাতের সাথে গভীরভাবে যুক্ত। অন্যদিকে ইসরাইল বিশ্বকে এবং বিশেষ করে ইরানকে এই ভূরাজনৈতিক বার্তা দিতে চায় যে, লেভান্ট বা পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলসহ 'বৃহত্তর ইসরাইল' প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত এলাকাগুলো তাদের নিজস্ব সুরক্ষার এলাকা, যেখানে আঘাত হানলে পাল্টা জবাব নিশ্চিত।

যুদ্ধের আগুন যাতে আর না ছড়িয়ে পড়ে, সেই চেষ্টায় জর্দানসহ আশপাশের প্রতিবেশীরা এখন ঐক্যবদ্ধ। হরমুজ প্রণালী ও নিকটবর্তী অঞ্চলে উত্তেজনা যতই বাড়ুক, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য কোনো শক্তির প্রত্যক্ষ উপস্থিতিতে পুরো অঞ্চলটি যাতে যুদ্ধের ময়দানে পরিণত না হয়, সেদিকেই সজাগ দৃষ্টি রাখা হচ্ছে। আরব বিশ্ব এখন যেকোনো মূল্যেই এমন একটি আঞ্চলিক ধ্বংসযজ্ঞের আশঙ্কা নস্যাৎ করে দিয়ে নিজেদের ভূখণ্ড ও আকাশসীমা নিরাপদ রাখতে বদ্ধপরিকর।