লালমনিরহাটের পাটগ্রামে প্রথম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে মজিব উদ্দিন সেলিম (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। শিশুটির নানি বাদী হয়ে ঘটনার দিন রাতে পাটগ্রাম থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছেন।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকালে অভিযুক্তকে লালমনিরহাট আদালতে পাঠায় পাটগ্রাম থানার পুলিশ।
এর আগে বুধবার (১৯ আগস্ট) রাতে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
থানায় দায়েরকৃত মামলা সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার জোংড়া ইউনিয়নের ইসলামনগর মৌজার এক দিনমজুর বাবা মজুরির কাজে বাইরে ছিলেন। এসময় শিশুটির মা গরুর ঘাস কাটতে বাড়ির বাইরে যান।
এই সুযোগে গ্রামের একটি মাদরাসার নৈশপ্রহরী অভিযুক্ত মজিব উদ্দিন সেলিম তার পাশের ওই বাড়ির ভিকটিম শিশুটিকে একা পেয়ে এবং উঠানে খেলতে দেখে তাকে মোবাইলে ভিডিও দেখানোর লোভ দেখিয়ে নিজ বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণ করে। পরে শিশুটি অসুস্থ অবস্থায় বাড়িতে এসে তার পরিবারের কাছে কান্নাকাটি করে বিস্তারিত জানায়। এ ঘটনার পর শিশুটির মা সেলিমের মাদরাসার সুপার ও সহকারী শিক্ষককে ঘটনাটি জানায়।
পরে মাদরাসার সুপার, সহকারী শিক্ষক, শিশুটির নানি ও মা অটোভ্যানযোগে ভিকটিমকে দ্রুত পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। কিন্ত শিশুটির শারীরিক অবস্থা অবনতি হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে শিশুটি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এ ঘটনা ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় পাটগ্রাম থানার পুলিশ বুধবার অভিযুক্ত সেলিমের বাড়ি ও আশেপাশেসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায়। পরে রাতে পাশের হাতীবান্ধা উপজেলার বড়খাতায় বোনের বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকালে সেলিমকে লালমনিরহাট আদালতে পাঠায় পাটগ্রাম থানা পুলিশ।
পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক নাজমুল হুদা জানান, ‘শিশুটি শারীরিক নিপীড়নের শিকার হয়েছে। শিশুটির অবস্থা মূমুর্ষ হওয়ায় তাকে উন্নত চিৎিসার জন্য রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’
এ বিষয়ে পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘ধর্ষণের ঘটনায় শিশুটির নানি বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা দিয়েছেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে অভিযুক্ত সেলিমকে গ্রেফতার দেখিয়ে লালমনিরহাট আদালতে পাঠানো হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে তিনদিনের রিমান্ড আবেদন করা হবে।’



