মোহাম্মাদ ওয়ালিউদ্দিন তানভীর
মোহাম্মাদ ওয়ালিউদ্দিন তানভীর। ফাইল ছবি

সম্প্রতি ‘ক্ষমতার ঘরে জানালা চাই’ শিরোনামের একটি লেখায় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ওপর নজরদারির প্রয়োজনের কথা বলেছিলাম। সেখানে সংবিধানের ৭৭ অনুচ্ছেদে থাকা ন্যায়পালের প্রসঙ্গ তুলেছি। বিষয়টি নিয়ে আরো বিস্তারিত আলোচনা দরকার। কারণ বাংলাদেশে কোনো নাগরিকের সাথে সরকারি দফতরের অন্যায় হলে তার সামনে প্রায়ই দু’টি পথ থাকে : সেই দফতরে আবার অভিযোগ করা, অথবা আদালতে যাওয়া। প্রথম পথে নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন থাকে; দ্বিতীয় পথটি অনেকের পক্ষে ব্যয়বহুল ও দীর্ঘ। এ দুইয়ের মাঝখানে একজন স্বাধীন ন্যায়পাল নাগরিককে প্রতিকার পাওয়ার বাস্তব সুযোগ দিতে পারেন।

Advertisement

ধরুন, একটি পরিবার জমির নামজারির আবেদন করেছে। কাগজপত্র ঠিক থাকার পরও মাসের পর মাস সিদ্ধান্ত আসছে না। কোথায় আবেদন আটকে আছে, কেন আটকে আছে— কেউ লিখিতভাবে জানাচ্ছেন না। আবার একজন রোগী সরকারি হাসপাতালে অবহেলার অভিযোগ করেছেন; কিন্তু হাসপাতালের নিজের তদন্তে তিনি আস্থা পাচ্ছেন না। এসব অন্যায় ফৌজদারি অপরাধ নয়। প্রশাসনিক বিলম্ব, দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা, বৈষম্যমূলক আচরণ কিংবা যুক্তি ছাড়া সিদ্ধান্তও মানুষের জীবন বিপর্যস্ত করতে পারে। ন্যায়পালের কাজ হবে এমন অভিযোগ স্বাধীনভাবে খতিয়ে দেখা, জবাব চাওয়া এবং সংশোধনের সুপারিশ করা।

ন্যায়পাল : মামলা ও সামাজিক উদ্বেগ কমানোর পথ

ন্যায়বিচার পেতে প্রতিটি অভিযোগ নিয়ে আদালতে যাওয়া উচিত নয়। কার্যকর ও স্বাধীন ন্যায়পাল থাকলে নাগরিকরা প্রশাসনিক অবহেলা, হয়রানি কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ সহজে জানাতে পারবেন। একই সাথে দ্রুত, নিরপেক্ষভাবে তা পর্যালোচনার সুযোগ পাবেন। অনেক বিরোধ আদালতে পৌঁছানোর আগে সমাধান করা সম্ভব হবে। এতে মামলার চাপ যেমন কমবে, তেমনি সময় ও অর্থের অপচয়ও কমবে। বড় কথা, অভিযোগের প্রতিকার পাওয়ার একটি বিশ্বাসযোগ্য পথ থাকলে মানুষের অসহায়ত্ববোধ, ক্ষোভ ও সামাজিক উদ্বেগ কমতে পারে। ন্যায়পাল তাই শুধু অভিযোগ নিষ্পত্তির প্রতিষ্ঠান নয়; রাষ্ট্র ও নাগরিকের মধ্যে আস্থা গড়ে তোলারও একটি উপায়।

বাংলাদেশ : আইন কার্যকর, প্রতিষ্ঠান অনুপস্থিত

বাংলাদেশ সংবিধানের ৭৭ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, সংসদ আইন করে ন্যায়পালের পদ প্রতিষ্ঠা করতে পারবে। মন্ত্রণালয়, সরকারি কর্মকর্তা এবং সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম তদন্তের ক্ষমতা ন্যায়পালকে দেয়া যেতে পারে। তার দায়িত্ব পালনের বার্ষিক প্রতিবেদন সংসদে উপস্থাপনের কথাও সেখানে আছে। অনুচ্ছেদটির ভাষায় একটি আইনি অস্পষ্টতা আছে। আইনে ‘পারিবে’ বলা হয়েছে, ‘করিতে হইবে’ বলেনি। অর্থাৎ সংবিধান সংসদকে ন্যায়পাল প্রতিষ্ঠায় আইন করার ক্ষমতা দিয়েছে। 

কিন্তু আলোচনা সেখানে থেমে থাকতে পারে না। সংসদ সেই ক্ষমতা প্রয়োগ করে ন্যায়পাল আইন, ১৯৮০ প্রণয়ন করেছে। আইনটি প্রণয়নের পর বহু বছর কার্যকর করা না হলেও ২০০২ সালের ৬ জানুয়ারি সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তা কার্যকর হয়। তাই ‘ন্যায়পাল আইন কখনো কার্যকর হয়নি’— এ কথা তথ্যগতভাবে ভুল। আইনটির ৩ ধারায় একজন ন্যায়পাল থাকার বিধান আছে; সংসদের সুপারিশে রাষ্ট্রপতি তাকে নিয়োগ দেবেন। ফলে এখন প্রশ্নটি আর সংসদ ন্যায়পাল প্রতিষ্ঠায় আইন করতে পারত কি না, তা নয়। প্রশ্ন হলো— কার্যকর আইন থাকা সত্ত্বেও নিয়োগের প্রক্রিয়া কেন সম্পন্ন করা হলো না।

পার্থক্যটি শুধু আইনি ভাষার বিষয় নয়; এর সাথে নাগরিকের প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ যুক্ত। আইন অনুযায়ী, প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে অবিচার বা অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করে ন্যায়পাল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করতে পারেন। অথচ জাতীয় ন্যায়পাল নিয়োগ না হওয়ায় ব্যবস্থাটি কার্যত চালু হয়নি। আমাদের তাই বলা উচিত : বাংলাদেশে ন্যায়পালের আইন নেই, এমন নয়; আইন আছে এবং কার্যকরও হয়েছে; কিন্তু যে প্রতিষ্ঠানটি সেই আইনকে বাস্তবে নাগরিকের কাজে লাগাতে পারত, সেটি এখনো গড়ে তোলা হয়নি।

আইনটির কাঠামোও একেবারে শূন্য নয়। সংসদের সুপারিশে রাষ্ট্রপতির নিয়োগ, অভিযোগের পাশাপাশি পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ন্যায়পালের নিজ উদ্যোগে তদন্ত, নথি তলব ও সাক্ষী ডাকার ক্ষমতা, অন্যায় সংশোধনের সুপারিশ এবং সংসদে বার্ষিক প্রতিবেদন— সব এতে আছে। আদালতের বিচারাধীন দেওয়ানি বা ফৌজদারি মামলা এবং বিচারকের বিচারিক কাজ অবশ্য তার তদন্তের বাইরে রাখা হয়েছে। ২০২৬ সালের মে মাসে হাইকোর্টে ন্যায়পাল নিয়োগ ও কার্যালয় চালুর বিষয়ে একটি রুলও জারি হয়েছে। সেটি এখনো চূড়ান্ত রায় নয়; কিন্তু পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে অপূর্ণ থাকা প্রতিষ্ঠানটির প্রশ্ন আবার সামনে এনেছে। 

ব্রিটেন : ভুল প্রশাসনের বিরুদ্ধে প্রতিকার

যুক্তরাজ্যের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক। সেখানে একটিমাত্র ন্যায়পাল সব অভিযোগ দেখেন না। পার্লামেন্টারি কমিশনার অ্যাক্ট ১৯৬৭-এর ভিত্তিতে পার্লামেন্টারি ওমবুসম্যান কেন্দ্রীয় সরকারের দফতর ও তার এখতিয়ারভুক্ত সংস্থার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক অন্যায়ের অভিযোগ পরীক্ষা করেন। হেল্থ সার্ভিস কমিশনারস অ্যাক্ট ১৯৯৩-এর অধীনে ইংল্যান্ডের স্বাস্থ্যসেবার অভিযোগ দেখার ব্যবস্থাও আছে; একই ব্যক্তি বর্তমানে দু’টি দায়িত্ব পালন করেন পার্লামেন্টারি অ্যান্ড হেলথ সার্ভিস ওমবুসম্যান হিসেবে। ইংল্যান্ডে স্থানীয় সরকার ও প্রাপ্তবয়স্কদের সামাজিক সেবা নিয়ে অভিযোগের জন্য লোকাল গভর্মেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল কেয়ার ওমবুসম্যান আছে। স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসের নিজস্ব সরকারি সেবা ন্যায়পালও আছে।

ব্রিটেনে সাধারণত আগে সংশ্লিষ্ট সংস্থার কাছে অভিযোগ করতে হয়। এরপরও সমাধান না হলে ন্যায়পালের কাছে যাওয়া যায়। কেন্দ্রীয় সরকারি দফতর নিয়ে অভিযোগে একজন সংসদ সদস্যের মাধ্যমে আবেদন পাঠাতে হয়— এটি ‘এমপি ফিল্টার’ নামে পরিচিত। তবে ইংল্যান্ডের এনএইচএস নিয়ে অভিযোগ সরাসরি করা যায়। ব্রিটিশ ন্যায়পালের নির্দেশনায় এ পার্থক্য স্পষ্ট করা হয়েছে। বাংলাদেশের জন্য এর শিক্ষা হচ্ছে, অভিযোগ জানানোর পথ নাগরিকের কাছে সহজ হতে হবে; সংসদীয় নজরদারি জরুরি হলেও কোনো সংসদ সদস্যের সম্মতির ওপর নাগরিকের আবেদন নির্ভর করানো ঠিক হবে না।

ব্রিটিশ ন্যায়পাল আদালতের মতো দণ্ড দেন না। তিনি ভুল পেলে ক্ষমা চাওয়া, সিদ্ধান্ত সংশোধন, ক্ষতিপূরণ বা সেবার পদ্ধতি বদলের সুপারিশ করতে পারেন। সুপারিশ আইনগতভাবে সরাসরি বলবৎযোগ্য নয়; প্রয়োজনে তিনি সংসদের কাছে বিশেষ প্রতিবেদন দিতে পারেন। এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা আছে : প্রতিকার শুধু একজন আবেদনকারীর ক্ষতি পূরণ নয়, একই ভুল যেন অন্য নাগরিকের সাথেও না ঘটে, সে জন্য প্রশাসনের কাজের নিয়ম বদলানো।

ভারত : লোকপালের শক্তি ও সীমা

ভারতের লোকপাল অ্যান্ড লোকায়ুক্তস অ্যাক্ট, ২০১৩ কেন্দ্রীয় পর্যায়ে লোকপাল এবং রাজ্য পর্যায়ে লোকায়ুক্তের ব্যবস্থা করেছে। লোকপালের এখতিয়ারে প্রধানমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও বিভিন্ন স্তরের সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আসতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর বিষয়ে জাতীয় নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কসহ কয়েকটি ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম এবং তদন্ত শুরুর বিশেষ শর্ত আছে। ২০১৪ সালে আইন কার্যকর হলেও কেন্দ্রীয় লোকপালের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের নিয়োগ হয় ২০১৯ সালে। অর্থাৎ আইন পাসের পর প্রতিষ্ঠান সচল করতেও রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং বাস্তব পদক্ষেপ লাগে।

তবে ভারতের লোকপালকে ব্রিটেনের সাধারণ প্রশাসনিক অভিযোগের ন্যায়পালের হুবহু সমতুল্য ভাবা যাবে না। লোকপালের মূল লক্ষ্য দুর্নীতি তদন্ত; কোনো দফতরের দীর্ঘসূত্রতা, খারাপ সেবা বা অযৌক্তিক আচরণের প্রতিটি অভিযোগ নিষ্পত্তি করা তার কাজ নয়। বাংলাদেশেরও দুর্নীতি দমন কমিশন আছে। সেখানে ঘুষের অভিযোগ আর একটি বৈধ আবেদন মাসের পর মাস ফেলে রাখার অভিযোগ একই প্রতিষ্ঠানের ঘাড়ে চাপিয়ে দিলে দ্বিতীয় ধরনের অন্যায় আড়ালে থেকে যায়। ন্যায়পাল এবং দুদকের কাজের মধ্যে সমন্বয় দরকার, কাজের পুনরাবৃত্তি নয়।

যুক্তরাষ্ট্রেও ন্যায়পাল আছে, তবে এক জায়গায় নয়

যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিটেনের পার্লামেন্টারি ওমবুসম্যানের  মতো সমগ্র ফেডারেল প্রশাসনের সাধারণ অভিযোগ দেখার একক ন্যায়পাল নেই। তবে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ন্যায়পালের ব্যবস্থা আছে। যেমন, ন্যাশনাল আর্কাইভসের অফিস অব গভর্র্মেন্ট ইনফর্মেশন সার্ভিসেস তথ্য অধিকার আইনের আওতায় তথ্যপ্রার্থী ও ফেডারেল সংস্থার বিরোধ মেটাতে সহায়তা করে। স্মল বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন-জিআই ন্যাশনাল ওমবুসম্যান ছোট প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর ফেডারেল বিধি প্রয়োগে অসঙ্গত বা অতিরিক্ত চাপের অভিযোগ নেয়। আবার ওল্ডার আমেরিকান অ্যাক্টের অধীনে প্রতিটি অঙ্গরাজ্যে দীর্ঘমেয়াদি সেবাকেন্দ্রের বাসিন্দাদের জন্য ন্যায়পাল কর্মসূচি আছে। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রে ধারণাটি অনুপস্থিত নয়; এটি খাত ও প্রশাসনিক স্তর অনুযায়ী ছড়িয়ে আছে। এই তুলনা থেকে বাংলাদেশের জন্য দু’টি বিষয় পরিষ্কার। প্রথমত, ন্যায়পাল মানে সব ক্ষমতা হাতে রাখা একজন ব্যক্তি নন; এখতিয়ার নির্দিষ্ট করতে হয়। দ্বিতীয়ত, নাগরিক যাতে বুঝতে পারেন কোন সমস্যায় কোথায় যাবেন, সেই ব্যবস্থাটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশের করণীয় 

প্রথম কাজটি খুব সহজ, বিদ্যমান আইনের অধীনে জাতীয় ন্যায়পাল নিয়োগ ও কার্যালয় চালু করা। আরো ভালো আইন লেখার অপেক্ষায় নিয়োগ অনির্দিষ্টকালের জন্য আটকে রাখা চলে না। একই সাথে ১৯৮০ সালের আইনটি পর্যালোচনা করা উচিত। আইনে রাষ্ট্রপতি সংসদের সুপারিশে নিয়োগ দেন; কিন্তু সুপারিশের আগে প্রকাশ্য যোগ্যতার মানদণ্ড, আবেদন যাচাই, বিরোধী দলের অংশগ্রহণ এবং সংসদীয় শুনানি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। ন্যায়পালকে পুনর্নিয়োগের আশা বা সরকারের অনুগ্রহের ওপর নির্ভরশীল রাখা উচিত নয়; নির্দিষ্ট মেয়াদ, স্বাধীন জনবল ও যথাযথ বাজেট প্রয়োজন।
দ্বিতীয়ত, আইনের দুর্বল জায়গাগুলো ঠিক করতে হবে। বর্তমান আইনের ৮(৫) ধারা অনুসারে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশে সরকারি সচিবের প্রত্যয়ন চূড়ান্ত ও বাধ্যকর হতে পারে। ১৫ ধারায় সরকার প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে কোনো কর্মকর্তা বা কর্মকর্তা শ্রেণীকে আইনের আওতা থেকে ছাড় দিতে পারে। জাতীয় নিরাপত্তার প্রকৃত প্রয়োজন অবশ্যই রক্ষা করতে হবে; কিন্তু বিস্তৃত ও প্রশ্নাতীত অব্যাহতি থাকলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তদন্ত আটকে যেতে পারে। প্রত্যাখ্যানের লিখিত কারণ, সীমিত ব্যতিক্রম এবং স্বাধীন পর্যালোচনার সুযোগ থাকা দরকার।

তৃতীয়ত, ন্যায়পালের সুপারিশের পর কী ঘটেছে, তা জনসমক্ষে আসতে হবে। দায়িত্বপ্রাপ্ত দফতর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা নেবে অথবা কেন নিতে পারছে না তা লিখিতভাবে জানাবে। সংসদের একটি স্থায়ী কমিটি বার্ষিক ও বিশেষ প্রতিবেদন নিয়ে উন্মুক্ত শুনানি করবে। জেলা পর্যায়ে অভিযোগ জমার ব্যবস্থা, অনলাইন আবেদন, ডাকযোগে আবেদন এবং যারা নিজেরা লিখতে পারেন না তাদের সহায়তা—সবই প্রয়োজন। ব্যক্তিগত তথ্য ও অভিযোগকারীর নিরাপত্তা রক্ষার নিয়মও থাকতে হবে।

ন্যায়পাল আদালতের বিকল্প হবেন না, দুদকেরও বিকল্প হবেন না। তার প্রয়োজন সেই জায়গায়, যেখানে রাষ্ট্রের একটি সিদ্ধান্ত, বিলম্ব বা অবহেলা একজন নাগরিকের ক্ষতি করেছে অথচ প্রতিকার চাওয়ার দরজাটি কার্যত বন্ধ। আইন যখন কার্যকর এবং সাংবিধানিক ভিত্তিও যখন আছে, তখন প্রশ্নটি আর নতুন প্রতিষ্ঠান কল্পনার নয়। প্রশ্ন হলো— সরকার ও সংসদ নিজেদের কাজকে স্বাধীনভাবে প্রশ্ন করতে একটি দরজা সত্যিই খুলতে প্রস্তুত কি না। ক্ষমতার ঘরে সেই জানালাটি এখন খোলা দরকার।  

লেখক : রাজনৈতিক বিশ্লেষক 
mwtanvir@gmail.com