টাইগ্রেসদের ব্যর্থতার কারণ জানালেন কোচ

 ক্রীড়া প্রতিবেদক
নাগোয়ার করোগি স্পোর্টস পার্কে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৩১ রানের হার মানে ব্রোঞ্জ পদকও নেই। এশিয়ান গেমসের ইতিহাসে প্রথমবার পদকশূন্য বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল! পাকিস্তানের কাছে হারের পর দলের হেড কোচ সারোয়ার ইমরানকে দেখে মনে হচ্ছিল, তিনি নিজেই যেন এই পরাজয়ের ভার বইছেন। জানান,  ‘আমাদের আসলে সমস্যার শুরু হয়েছে এশিয়া কাপ থেকে। এশিয়া কাপে শ্রীলঙ্কার সাথে ক্লোজ ম্যাচ হারি। হারার পরই বিভিন্ন জায়গা থেকে নানারকম খবর আসতে শুরু করে। ইন্দোনেশিয়া এবং ইউএই-র মতো দলের সাথেও ১২০-১৩০ করতে পারিনি এবং ওই জিনিসটা এশিয়ান গেমসে বয়ে বেড়িয়েছি।’
বিভিন্ন জায়গা থেকে বিশ্লেষণের মানে বলতে গিয়ে জানালেন, এশিয়ান গেমসের আগেই নিগার সুলতানা জ্যোতি ঘোষণা দিয়েছেন, টুর্নামেন্ট শেষে টি-২০ অধিনায়কত্ব ছাড়বেন। অন্য দিকে কোচ সারোয়ার ইমরানের সাথে বিসিবির চুক্তির মেয়াদও শেষ হচ্ছে অক্টোবরে। নেতৃত্ব ও কোচিং স্টাফ নিয়ে নানা আলোচনা চলছিলই।
ইমরানের চোখে, এমন পরিস্থিতি দলের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে, ‘এটা হয়ত দলের ওপর, খেলোয়াড়দের ওপর প্রভাব পড়তে পারে। তবে এটা অজুুহাত নয়। বড় কথা হলো, আমরা কোনোভাবেই ওই লেভেলে যেতে পারছি না। যেকোনো দল ছয় মারছে সহজেই। আমাদের দল কিন্তু ছয় মারতেই পারছে না। যে আগে মারতো, এখন সে সেই জায়গাতেও নেই। সমাধানটা মনে হয় সাইকোলজিক্যাল। বুস্ট আপ করতে হবে কিন্তু পারছি না।’
তারপরই বিস্ফোরণ কোচের, ‘আমরা যখন একটা টুর্নামেন্ট খেলছি, হেড কোচ আর ক্যাপ্টেনদের আপনি সাইজ করে দিলেন, তো কিভাবে আপনি (ভালো কিছু) আশা করেন?’
একটি বাক্যেই যেন অনেকগুলো প্রশ্ন ছুড়ে দিলেন ইমরান। টুর্নামেন্ট চলাকালে কোচ ও অধিনায়কের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা দলের উপর কী প্রভাব ফেলতে পারে- সেটিই সামনে আনলেন তিনি। ১৪৫ রান তাড়া করতে নেমে পাওয়ার প্লেতেই ম্যাচ থেকে পিছিয়ে যায় বাংলাদেশ। প্রথম ছয় ওভারে তিন উইকেট হারিয়ে রান আসে মাত্র ২৫। হেড কোচ ইমরানের হিসাব আরো পরিষ্কার, ‘আজকে আমরা যদি পাওয়ার প্লেতে ভালো ব্যাটিং করতে পারতাম, ম্যাচটা জেতা সম্ভব ছিল। পাওয়ার প্লেতে মোটামুটি ৪০-৪৫ এর মতো একটা সংগ্রহ! ৬০-৭০ লাগবে না, ৪০-৪৫। তারপর ১৫ ওভারে ১০০ রান। অথচ দল পাওয়ার প্লেতে ২৪ রান করছে, যেটা অনেক পিছিয়ে পড়া। পাওয়ার প্লের রানটাই আমাদের হারিয়েছে।’
টি-২০তে চার-ছক্কার ক্রিকেটে বাংলাদেশ যেখানে বারবার পিছিয়ে পড়ছে, সেখানে নতুন ক্রিকেটার তৈরি হচ্ছে কোথায়? ইমরানের উত্তরটা ছিল আরো কঠিন, ‘নারী ক্রিকেট একটা জায়গায় আটকে আছে। দল নেট প্র্যাকটিস করল, তারপর খেলতে গেল- এটা কিন্তু এই রকম না। এখানে প্রসেস আছে। শ্রীলঙ্কায় শত শত মেয়ে স্কুল ক্রিকেট খেলছে। আমাদের ওই রকম স্ট্রাকচার নেই। নতুন কোনো প্লেয়ার নেই, আমরা ৩০ জনের বেশি প্লেয়ার বের করতে পারি না। ট্রেনিং ফ্যাসিলিটি মেয়েদের আলাদা করতে হবে। এগুলো কিছুই করা হয় না।’