
ভারতের ঐতিহাসিক আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের (এএমইউ) ছাত্র সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে শতবর্ষের ইতিহাস বদলে দিয়েছেন নাশরা নাঈম। বিশ্ববিদ্যালয়টির ১০৫ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো নারী শিক্ষার্থী সহসভাপতি (ভিপি) পদে নির্বাচিত হলেন।
শতবর্ষের ইতিহাস ভেঙে নাশরা নাঈমের অনন্য জয়
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) এ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণা করা হয়। প্রকাশিত ফল অনুযায়ী, ভিপি পদে নাশরা নাঈম পেয়েছেন ৭ হাজার ৯১ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী পেয়েছেন ৫ হাজার ৮১৮ ভোট। বিপুল জনমতে জয়ী হয়ে এএমইউ ছাত্র সংসদের ইতিহাসে প্রথম নারী ভিপি হিসেবে নিজের নাম খোদাই করলেন নাশরা।
নীতি নির্ধারণে নারী নেতৃত্বের অভূতপূর্ব সাফল্য
এবারের নির্বাচনে শুধু ভিপি পদেই নয়, সামগ্রিকভাবে নারী প্রার্থীদের প্রতিনিধিত্ব ছিল চোখে পড়ার মতো। ছাত্র সংসদের মোট ১০টি ক্যাবিনেট সদস্য পদের মধ্যে রেকর্ড পাঁচটিতে জয়লাভ করেছেন নারী প্রার্থীরা। শিক্ষাবিদ ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা ছাত্র সংসদে নারীদের এই বিপুল অংশগ্রহণ ও প্রতিনিধিত্ব বাড়ার বিষয়টিকে ক্যাম্পাসে নারী নেতৃত্বের এক উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন।
অন্যান্য পদে বিজয়ীদের তথ্য
নির্বাচনে মূল পদের মধ্যে ৪ হাজার ১০০ ভোটের বেশি ব্যবধানে সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন মোহাম্মদ নোমান আশরাফ। এছাড়া সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে জয় লাভ করেছেন মোহাম্মদ হামদান।
এএমইউর ছাত্র সংসদ ও বিশ্ববিদ্যালয় কোর্ট নির্বাচনের প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তা অধ্যাপক জাভেদ তালিব এবং উইমেন্স কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনের প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তা অধ্যাপক নাজিয়া হাসান আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফলাফল ঘোষণা করেন।
নির্বাচনী প্রচারণায় জেন জি ও জাতীয় ভাবনার প্রভাব
বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ শিক্ষক জানিয়েছেন, চলমান জেন জি বিক্ষোভও এবারের নির্বাচনে বেশ প্রভাব ফেলেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই শিক্ষক বলেন, ‘আগের বছরগুলোতে নির্বাচনী প্রচারে ক্যাম্পাসকেন্দ্রিক বিষয়গুলো প্রাধান্য পেত। তবে এবার আলোচনায় জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন বিষয়ও উঠে এসেছে। এর মধ্যে মুসলিমদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ও ছিল।’
ভাইস চ্যান্সেলরের সন্তোষ ও গণতন্ত্রের জয়
এএমইউর ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) অধ্যাপক নাঈমা খাতুন সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ায় গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি এই নির্বাচনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সর্বোচ্চ গণতান্ত্রিক ঐতিহ্যের বিজয়’ হিসেবে বর্ণনা করেন।
একই সাথে ছাত্র সংসদে নারীদের অংশগ্রহণ ও প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধিতে স্বাগত জানিয়ে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী ক্ষমতায়নের গুরুত্বও বিশেষভাবে তুলে ধরেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, পুরো নির্বাচনী প্রচার ও ভোট গ্রহণ চলাকালে কোথাও কোনো সহিংসতার ঘটনা ঘটেনি।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








