
জম্মু-কাশ্মিরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ ও সাংবাদিক নিধি রাজদানের বিয়ে নিয়ে ভারতজুড়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিয়ের দুই দিনের মধ্যেই এই সম্পর্ক নিয়ে আপত্তি তুলেছেন অল ইন্ডিয়া মুসলিম জামাতের সভাপতি মাওলানা মুফতি শাহাবুদ্দিন বেরেলভি। তার দাবি, ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী এই বিয়ে বৈধ নয়।
সোমবার (২ অক্টোবর) ভারতের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম এ সংক্রান্ত একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেগুলোতে জানানো হয়েছে যে, মুফতি শাহাবুদ্দিন বলেছেন, ইসলামী নিয়ম অনুযায়ী বিয়ের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত রয়েছে। ওমর আবদুল্লাহ মুসলিম হলেও নিধি রাজদান মুসলিম নন। তাই এই বিয়ে শরিয়তসম্মত নয়।
বিয়ের আগে নিধি রাজদানকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করানো উচিত ছিল বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। নিধি ইসলাম গ্রহণ করে ইসলামী রীতি মেনে বিয়ে করলেই তা কেবল শরিয়তসম্মত হতে পারত বলে দাবি করেছেন মুফতি শাহাবুদ্দিন।
আরো পড়ুন—যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ৫১ মুসলিম প্রার্থী, ইতিহাসের হাতছানি
ভারতের এই ধর্মীয় নেতা বলেন, বিয়ের আগে ওমর আবদুল্লাহর নিশ্চিত করা উচিত ছিল যে নিধি রাজদান ইসলাম গ্রহণ করেছেন কি না। যদি নিধি রাজদান ইসলাম গ্রহণ করতেন এবং তারা ইসলামী রীতি-নীতি মেনে বিয়ে করতেন, তবে শরিয়াহ অনুযায়ী এই বিয়ে বৈধ বলে গণ্য হত।
নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মুফতি শাহাবুদ্দিন বেরেলভি বলেন, ইসলামে বিয়ের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট নিয়ম ও শর্ত রয়েছে, যার অন্যতম হলো—বর ও কনে উভয়কেই মুসলিম হতে হবে। যদি তাদের মধ্যে একজনও মুসলিম না হন, তবে সেই বিয়ে বৈধ বলে গণ্য হতে পারে না।
গত ৩১ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের বিয়ের কথা প্রকাশ্যে আনেন ওমর আবদুল্লাহ ও নিধি রাজদান। ওমর তাদের একাধিক ছবি পোস্ট করে নতুন যাত্রা শুরুর কথা জানান। জানা গেছে, ৩০ অক্টোবর পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে তাদের বিয়ে হয়।
আরো পড়ুন—সরকারে টানাপোড়েনের মধ্যেই সাংবাদিককে বিয়ে করলেন কাশ্মিরের মুখ্যমন্ত্রী, কে তিনি?
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওমর ও নিধির এই বিবাহপ্রক্রিয়া ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় ‘নিকাহ’র মাধ্যমে নয়; বরং দিল্লির বিশেষ বিবাহ আদালতে স্পেশাল ম্যারেজ অ্যাক্টের অধীনে সম্পন্ন হয়েছে।
ভারতের স্পেশ্যাল ম্যারেজ অ্যাক্ট কী?
বিশেষ বিবাহ আইন বা ‘স্পেশাল ম্যারেজ অ্যাক্ট, ১৯৫৪’ হলো ভারতীয় সংবিধান ও আইন ব্যবস্থার এমন একটি বিশেষ দেওয়ানি বিধান, যা ধর্ম, জাতি, বর্ণ বা সম্প্রদায়ের পার্থক্য ভুলে যেকোনো দুজন পূর্ণবয়স্ক নাগরিককে আইনিভাবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার অধিকার দেয়। এই আইনের মূল বৈশিষ্ট্য হলো—বিয়ে সম্পন্ন করার জন্য কোনো পক্ষকেই নিজের ধর্ম পরিবর্তন করতে হয় না বা কোনো ধর্মীয় রীতিনীতি পালন করতে হয় না।
নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া, যেমন—ম্যারেজ রেজিস্ট্রারের কাছে বিয়ের আবেদন জমা দেয়া, ৩০ দিনের নোটিশ জারি করা এবং তিনজনের উপস্থিতিতে রেজিস্ট্রি ও স্বাক্ষর করার মাধ্যমে এই বিবাহ সম্পন্ন হয়।
আরো পড়ুন—স্ত্রী মৌসুমির জন্মদিনে দোয়া দিয়ে কী বললেন ওমর সানী?
ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ আদর্শকে রক্ষা করার পাশাপাশি আন্তঃধর্মীয় ও আন্তঃজাতি দম্পতিদের সামাজিক ও আইনি সুরক্ষা প্রদান এবং বিবাহবিচ্ছেদ, ভরণপোষণ ও সন্তানের আইনি অধিকার নিশ্চিত করাই এই আইনের প্রধান উদ্দেশ্য বলে জানা যায়।
ব্যক্তিস্বাধীনতা ও বিতর্ক এড়ানোর বার্তা
তবে, ওমর আবদুল্লাহর এই বিয়ে ও দিল্লি-শ্রীনগরের উদযাপনের প্রতিক্রিয়া নিয়ে তার দল ন্যাশনাল কনফারেন্স (এনসি) অবস্থান স্পষ্ট করেছে। এনসি’র প্রাদেশিক সভাপতি শওকত আহমেদ মীর এই বিষয়ে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, এটি একেবারেই তার ব্যক্তিগত জীবন। প্রতিটি মানুষেরই নিজের মতো করে বাঁচার অধিকার রয়েছে এবং এর সাথে দলের রাজনৈতিক কর্মসূচির কোনো সম্পর্ক নেই।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








