
২৪ জন বিধায়কের বিদ্রোহের মুখে টানাপোড়েনে রয়েছে ভারতের জম্মু-কাশ্মিরের ওমর আব্দুল্লাহর নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল কনফারেন্স (এনসি) সরকার। এরই মধ্যে নিজের দ্বিতীয় বিয়ের খবর দিলেন রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রী।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) ভারতের একাধিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির প্রখ্যাত সাংবাদিক নিধি রাজদানের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন ওমর আব্দুল্লাহ।
রাজনৈতিক চাপের মধ্যে ৫৬ বছর বয়সে জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করার সংবাদ সর্বপ্রথম ওমর আব্দুল্লাহ নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিশ্চিত করেন।
বিয়ের ছবি পোস্ট করে ক্যাপশনে তিনি লেখেন, ‘গতকাল শুরু হলো এক নতুন যাত্রা।’ মুহূর্তেই তার এই পোস্ট ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই নতুন জীবনের জন্য শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন জম্মু-কাশ্মিরের মুখ্যমন্ত্রীকে।
আরো পড়ুন—২৪ বিধায়কের অনাস্থার মুখে ওমর আব্দুল্লাহ সরকার, কিন্তু কেন?
ইনস্টাগ্রামে নিধি রাজদানকে ট্যাগ করে নিজেদের একটি ছবি শেয়ার করেন ওমর। জানা গেছে, শুক্রবারই তাদের বিয়ের অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে।
একটি সূত্র জানিয়েছে, এই বিশেষ মুহূর্ত উদযাপন করতে শনিবার দিল্লিতে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। রাজনৈতিক মহলেও এই অনুষ্ঠান ঘিরে আগে থেকেই জোর চর্চা চলছিল। দিল্লির পৃথ্বীরাজ রোডে অবস্থিত জম্মু-কাশ্মির হাউসে আয়োজিত নৈশভোজে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে মাত্র ৭১ জন অতিথিকে। আমন্ত্রিতদের তালিকায় রয়েছেন রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, রবার্ট বঢরা এবং মেহবুবা মুফতির মতো বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা।
এ ছাড়াও আমন্ত্রণ পেয়েছেন ডেরেক ও’ব্রায়েন, কপিল সিব্বল, নিশিকান্ত দুবে এবং পবন খেড়া। বিয়ের খবর প্রকাশ্যে আসার পর আজকের এই অনুষ্ঠান ঘিরে আগ্রহ আরো বেড়েছে।
নিধি রাজদান ভারতের জনপ্রিয় সাংবাদিক ও সংবাদসঞ্চালক। দীর্ঘদিন এনডিটিভির সাথে যুক্ত ছিলেন তিনি। জাতীয় রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নিয়ে তার সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতা রয়েছে।
এর আগে, পায়েল আবদুল্লাহকে বিয়ে করেন জম্মু-কাশ্মিরের মুখ্যমন্ত্রী। ১৯৯৪ সালে তাদের বিয়ে হয়। এই দম্পতির জাহির ও জামির নামে দুই সন্তান রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই তারা আলাদা থাকছিলেন।
২০০৯ সাল থেকে আলাদা থাকার পর ২০১১ সালে বিচ্ছেদের কথা প্রকাশ্যে জানান ওমর। এই বিচ্ছেদ মামলার নিষ্পত্তি হয় ২০২৬ সালের জুলাই মাসে।
সুপ্রিম কোর্টে দু’পক্ষই পারস্পরিক সম্মতিতে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন জানান। পাশাপাশি একে অপরের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো প্রত্যাহার করার বিষয়েও সম্মত হন।
সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদের ক্ষমতা প্রয়োগ করে বিচ্ছেদে সম্মতি দেয় শীর্ষ আদালত। বিবাহবিচ্ছেদের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই নতুন জীবন শুরু করলেন ওমর আবদুল্লাহ।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








