
ন্যাশনাল কনফারেন্স (এনসি) সরকারে আসার কিছুদিনের মধ্যেই মহারাষ্ট্রের ছায়া দেখা যাচ্ছে জম্মু-কাশ্মিরে। মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের রেশ কাটতে না কাটতেই দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য বিদ্রোহ ঘোষণার পথে ন্যাশনাল কনফারেন্সের ক্ষুব্ধ বিধায়করা। মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহর নেতৃত্ব এবং কার্যপদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে শুক্রবার দীর্ঘ বৈঠকে বসেন ২৪ জন বিদ্রোহী বিধায়ক।
বৈঠকের নেপথ্যে কী?
শুক্রবার সন্ধ্যায় শ্রীনগরে বিদ্রোহী বিধায়কদের একটি দীর্ঘ বৈঠক হয়। দলের অভ্যন্তরে ‘সংস্কার’ ও সরকারের স্বচ্ছতার দাবিতে প্রায় ১৮ জন বিধায়ক সরাসরি এই বৈঠকে অংশ নেন। এ ছাড়া ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আরো ৬ জন বিধায়ক এই শিবিরে যোগ দেন।
কাশ্মির উপত্যকা এবং জম্মু—দুই অঞ্চলেই এই ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। ৯০ সদস্যের বিধানসভায় ন্যাশনাল কনফারেন্সের নিজস্ব বিধায়ক সংখ্যা ৪১। ফলে ২৪ জন বিধায়কের এই বিদ্রোহী মনোভাব ওমর সরকারের স্থায়িত্বকে বড় চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছে।
প্রধান দাবিগুলো কী কী?
বৈঠক শেষে জানা গেছে, বিদ্রোহী শিবির থেকে মূলত চার দফা দাবি সামনে আনা হয়েছে। প্রথম দাবি, মুখ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টা পদ থেকে নাসির আসলাম ওয়ানির অপসারণ। এর সাথে উপ-মুখ্যমন্ত্রী সুরিন্দর চৌধুরীর পদত্যাগসহ বেশ কয়েকজন মন্ত্রীকে মন্ত্রিসভা থেকে বাদ দেয়া। তৃতীয় দাবি, যাদের মেয়াদ দুই বছর পূর্ণ হয়েছে, সেই মন্ত্রীদের সরিয়ে নতুন মুখ আনা এবং সব শেষে, মন্ত্রিসভার ব্যাপক রদবদল এবং দলের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের রূপরেখা তৈরি করা।
আরো পড়ুন—বিজেপির কমিটিতে যৌন হয়রানিতে অভিযুক্ত নেতা
কী বলছেন ক্ষুব্ধ বিধায়করা?
বৈঠক শেষে এক বিদ্রোহী বিধায়ক স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘আমরা দলবিরোধী নই। কিন্তু এভাবে আর চলতে পারে না। আমাদের কথা মুখ্যমন্ত্রীকে শুনতে হবে এবং দল ও সরকারের স্বার্থে পরিবর্তন আনতে হবে।’
জানা গেছে, বৈঠকে অনেক প্রবীণ বিধায়ক দলের নেতৃত্ব ও মুখ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টার আচরণের কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। ক্ষোভ উগরে দিয়ে এক প্রবীণ নেতা বলেন, ‘দলের অভ্যন্তরে গণতন্ত্র রক্ষা করতেই আমাদের এই শপথ। দল বা সরকারকে কিছু ব্যক্তির জমিদারি হতে দেয়া যাবে না।’
আগা রুহুল্লাহর পদত্যাগের গুঞ্জন
এই অভ্যন্তরীণ কোন্দলের মাঝেই ন্যাশনাল কনফারেন্সের অভ্যন্তরে সঙ্কট আরো বাড়িয়ে দিয়েছেন শ্রীনগরের সংসদ সদস্য আগা রুহুল্লাহ। শোনা যাচ্ছে, তিনি দলের সদস্যপদ এবং সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরেই আবদুল্লাহ পরিবারের সাথে তার দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে তার দলত্যাগের গুঞ্জন এনসি শিবিরকে আরো চাপে ফেলে দিয়েছে।
সদ্য গঠিত ওমর আবদুল্লাহর মন্ত্রিসভা এবং দলের অভ্যন্তরে তৈরি হওয়া এই গভীর দ্বন্দ্ব সামলানো এখন শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সূত্র : দ্য ওয়াল ও অন্যান্য
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








