মমতা ব্যানার্জী, তৃণমূল কংগ্রেস
মমতা ব্যানার্জীর তৃণমূল কংগ্রেসের জোড়া ফুল প্রতীক ফ্রিজ করেছে নির্বাচন কমিশন ছবি: সংগৃহীত

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে সাবেক ক্ষমতাসীন দল মমতা ব্যানার্জীর তৃণমূল কংগ্রেস। দুই অংশের বিবাদে দলের প্রতীক ‘জোড়া ফুল’কে ‘ফ্রিজ’ করে দিয়েছে দেশটির নির্বাচন কমিশন। আর দুই অংশের জন্য নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে আলাদা আলাদা প্রতীক। 

জোড়াফুল প্রতীক ‘ফ্রিজ’ হওয়ার পর দুই শিবিরকেই নতুন নাম ও প্রতীক বেছে নিতে বলেছিল কমিশন। সেই অনুযায়ী একাধিক নাম-প্রতীকের বিকল্প প্রস্তাব দুই পক্ষ থেকে কমিশনে পাঠানো হয়। তার ভিত্তিতে জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বাধীন কমিশন সিদ্ধান্ত নেয়। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) তারা একটি নির্দেশিকায় জানিয়েছে, মমতার শিবির লড়বে ‘মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ নামে। তাদের প্রতীক হবে ফুটবল খেলোয়াড়। ঋতব্রতদের শিবিরের নাম হচ্ছে গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস। তারা লড়বে খাম প্রতীকে।

মমতা তার দলের তিনটি বিকল্প নাম ও দু’টি প্রতীক কমিশনের কাছে প্রস্তাব আকারে পাঠিয়েছিলেন। প্রস্তাবিত নামগুলো ছিল— সর্বভারতীয় তৃণমূল মমতা কংগ্রেস, সর্বভারতীয় মমতা তৃণমূল কংগ্রেস ও মমতা তৃণমূল কংগ্রেস। প্রতীক হিসেবে মমতা বেছে নিয়েছিলেন ‘ফুটবল পায়ে ফুটবলার’ ও ‘ক্রিকেট ব্যাট’। প্রথমটিতেই সায় দিয়েছে কমিশন।

ঋতব্রতদের পক্ষ থেকে তিনটি নাম ও তিনটি প্রতীকের প্রস্তাব কমিশনে পাঠানো হয়। নামগুলো ছিল— জাতীয়তাবাদী তৃণমূল কংগ্রেস, গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস ও পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল কংগ্রেস। দ্বিতীয় নামটি তাদের দেয়া হয়েছে। এছাড়া, প্রতীক হিসেবে খাম, ব্ল্যাকবোর্ড ও টর্চের প্রস্তাব দিয়েছিলেন ঋতব্রতেরা। খাম প্রতীকে তাদের প্রার্থীদের লড়তে হবে। 

আগামী ৬ অক্টোবর পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম ও মুর্শিদাবাদের রেজিনগরে বিধানসভার উপনির্বাচন রয়েছে। সব পক্ষই তার জন্য প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে দিয়েছে। কিন্তু তৃণমূলের দুই শিবির কোন প্রতীক বা নামে লড়বে, তা স্পষ্ট ছিল না। কমিশনের নির্দেশে তার সমাধান এলো। 

কমিশনের নির্দেশিকার পর ঋতব্রত জানান, প্রতীকের ক্ষেত্রে তাদের প্রথম পছন্দকেই গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। কিন্তু এই নাম তাদের পছন্দের তালিকায় তৃতীয় ছিল। তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রথম পছন্দ ছিল জাতীয়তাবাদী তৃণমূল কংগ্রেস। দ্বিতীয় পছন্দ ছিল পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল কংগ্রেস। কমিশন জানিয়েছে, প্রথম দুটো নাম কোনো কারণে দেয়া সম্ভব নয়। প্রতীকের ক্ষেত্রে যা চেয়েছিলাম। তা-ই দেয়া হয়েছে। কমিশনের যোগ্যতা নিয়ে আমাদের প্রশ্ন তোলার জায়গা নেই। তাদের নির্দেশকে সম্মান জানাই।’ 

মমতা শিবিরের নামকরণকে কটাক্ষ করে ঋতব্রত আরো বলেন, ‘আমাদের দলের নামে কিন্তু কোনো ব্যক্তির নাম নেই। নৈব নৈব চ। আমাদের আলোচনার মধ্যেই ছিল না কোনো ব্যক্তির নাম। গণতন্ত্রে আমরা জোর দিচ্ছি। এটা কোনো ব্যক্তিগত মালিকানার দল নয়। তা গণতন্ত্রের পক্ষে ক্ষতিকর।’

অন্যদিকে, কমিশনের নির্দেশের পরেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট করেছেন কালীঘাটপন্থী বিধায়ক কুণাল ঘোষ। পায়ে ফুটবল নিয়ে খেলোয়াড়ের পোশাক পরা নিজের ছবি দিয়েছেন তিনি। সাথে লিখেছেন, ‘খেলা হবে। মমতাদির নামটাই যথেষ্ট। তৃণমূল কংগ্রেস তো তারই সৃষ্টি, তারই অধিকার।’

সূত্র : আনন্দবাজার