তেলের দাম, শেয়ার বাজার,
তেলের দাম কমায় ঊর্ধ্বমুখী এশিয়ার শেয়ারবাজার ছবি: বাসস

তেলের দাম কমে যাওয়ায় মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ কিছুটা কমেছে। এর প্রভাবে শুক্রবার এশিয়ার শেয়ারবাজারগুলো ঊর্ধ্বমুখী ছিল। আগের দিন ওয়াল স্ট্রিটেও শেয়ারবাজারে উত্থান দেখা যায়।

একই সময়ে বিনিয়োগকারীরা দিনের পরবর্তী সময়ে জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদের হার সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় ছিলেন। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ঋণের সুদের হার বাড়িয়েছে। বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতি বাড়লেও নীতিনির্ধারকেরা তা মোকাবিলায় যথেষ্ট দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছেন না—এমন উদ্বেগে থাকা ব্যবসায়ীদের জন্য ফেডের এই সিদ্ধান্ত কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে।

সৌদি আরব কয়েক দিনের মধ্যে অপরিশোধিত তেল সরবরাহের প্রায় অর্ধেক পুনরায় চালু করার উদ্যোগ নেয়ায় বাজারে স্বস্তি আরো বেড়েছে। ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় লোহিত সাগরে তেল সরবরাহ ব্যাহত হয়েছিল।

ইরানের কারণে হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর এই পাইপলাইনটি আরো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হাউছি বিদ্রোহীদের হামলার পর গত সপ্তাহে পাইপলাইনটি বন্ধ হয়ে যায়।

সেপ্টেম্বরে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ২০ শতাংশ বেড়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সর্বোচ্চ দামের তুলনায় এখন তা প্রায় ৫ শতাংশ কমেছে। এর মধ্যে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম আজকের পর প্রথমবারের মতো প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলারের নিচে নেমেছে।

ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে তেলের দামের ঊর্ধ্বগতি মূল্যস্ফীতি বাড়ার অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে উঠেছিল। তেলের দামে সাম্প্রতিক পতন তাই শেয়ারবাজারে কিছুটা স্বস্তি এনে দিয়েছে।

আজ সিউল, টোকিও, হংকং, সাংহাই, সিডনি ও তাইপের শেয়ারবাজার বেড়েছে। তবে সিঙ্গাপুর, ওয়েলিংটন ও ম্যানিলা বাজারে সামান্য পতন হয়েছে।

তেলের দামের সাম্প্রতিক পরিবর্তন এবং ফেডের সুদের হার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করেছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের সুদহার—যা বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতিতে ঋণের খরচের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক—আবারো ৫ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। সূত্র : বাসস