
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মডেল প্রশিক্ষণের জন্য সংবাদমাধ্যমসহ বিভিন্ন ওয়েবসাইটের কনটেন্ট অনুমতি ছাড়া সংগ্রহ (স্ক্র্যাপিং) বন্ধে প্রকাশকদের নতুন একটি অভিন্ন ব্যবস্থা চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে প্রযুক্তি খাতের চার বড় প্রতিষ্ঠান—ওপেনএআই, গুগল, মাইক্রোসফট ও অ্যানথ্রোপিক।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) প্রতিষ্ঠানগুলো জানায়, নতুন এ ব্যবস্থার মাধ্যমে সংবাদমাধ্যম ও অন্যান্য ওয়েবসাইট কর্তৃপক্ষ একটি মাত্র নির্দেশনার সাহায্যে এআই কোম্পানিগুলোকে তাদের ওয়েবসাইটের কনটেন্ট সংগ্রহ ও এআই মডেল প্রশিক্ষণে ব্যবহার করা থেকে বিরত রাখতে পারবে।
বর্তমানে ইন্টারনেট থেকে তথ্য সংগ্রহকারী প্রতিটি বটের জন্য ওয়েবসাইট কর্তৃপক্ষকে আলাদাভাবে কনটেন্ট সংগ্রহ বন্ধের নির্দেশনা দিতে হয়। নতুন প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় একটি অভিন্ন ও নির্দিষ্ট ফরম্যাটের নির্দেশনা দিলেই হবে। যেসব এআই কোম্পানি এ পদ্ধতি গ্রহণ করবে, তাদের সবাই সেই নির্দেশনা মেনে চলবে।
তবে নতুন ব্যবস্থাটি পুরোপুরি কার্যকর হতে আরো কয়েক মাস সময় লাগবে।
মাইক্রোসফট ২০২৭ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে এ ব্যবস্থা চালু করবে। গুগল একই বছরের কোনো এক সময়ে এটি বাস্তবায়ন করবে। চ্যাটজিপিটির নির্মাতা ওপেনএআই জানিয়েছে, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে তারা এ ব্যবস্থা চালু করবে। আর ক্লডের নির্মাতা অ্যানথ্রোপিক বলেছে, তারা ইতোমধ্যে এটি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে।
এ ঘোষণা এমন এক সময়ে এলো, যখন এআই মডেল প্রশিক্ষণের জন্য সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটের তথ্য সংগ্রহকারী বটের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। এ নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের সাথে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরোধও বাড়ছে। এমনকি নিউইয়র্ক টাইমসের মতো সংবাদমাধ্যম বিষয়টি আদালত পর্যন্ত নিয়ে গেছে।
২০২৩ সালের ডিসেম্বরে নিউইয়র্ক টাইমস ওপেনএআই ও মাইক্রোসফটের বিরুদ্ধে মামলা করে। পত্রিকাটির অভিযোগ, অনুমতি বা অর্থ পরিশোধ ছাড়াই তাদের প্রকাশিত লাখ লাখ প্রতিবেদন ব্যবহার করে চ্যাটজিপিটিকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।
তবে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান দু’টি কপিরাইট আইনের ‘ফেয়ার ইউজ’ বা ন্যায্য ব্যবহারের বিধানের কথা উল্লেখ করে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছে। এ বিধানের আওতায় নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে কপিরাইটযুক্ত উপাদান অনুমতি ছাড়াও ব্যবহার করা যেতে পারে।
এদিকে, ইন্টারনেট অবকাঠামো সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ক্লাউডফ্লেয়ার ২০২৫ সালের জুলাই থেকে নতুন গ্রাহকদের ওয়েবসাইটে ডিফল্টভাবে এআই বটের প্রবেশ বন্ধ রাখার ব্যবস্থা চালু করেছে।
অন্যদিকে, ‘রিয়েলি সিম্পল লাইসেন্সিং’ নামে একটি মানদণ্ডের মাধ্যমে ওয়েবসাইটে প্রবেশকারী বটগুলোর কাছ থেকে অর্থ নেয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে।
মাইক্রোসফট তাদের এক ব্লগ পোস্টে জানিয়েছে, নতুন এ ব্যবস্থা শুধু ভবিষ্যতে এআই মডেল প্রশিক্ষণের জন্য কনটেন্ট ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। এটি ওয়েবসাইটে বটের স্বাভাবিক প্রবেশ বা তথ্য সংগ্রহ পুরোপুরি বন্ধ করবে না। এছাড়া ওয়েবসাইট কর্তৃপক্ষ নিজেরা সেটিংস পরিবর্তন না করা পর্যন্ত কনটেন্ট সংগ্রহের অনুমতি স্বয়ংক্রিয়ভাবেই চালু থাকবে।
মাইক্রোসফট ও গুগল পৃথক ব্লগ পোস্টে সতর্ক করে বলেছে, কোনো প্রকাশক যদি তাদের কনটেন্ট এআই মডেল প্রশিক্ষণে ব্যবহার করতে না দেন, তাহলে এআই অ্যাপ ও অন্যান্য সেবায় সেই প্রকাশকের কনটেন্ট দেখানোর সুযোগ কমে যেতে পারে।
এ উদ্যোগের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে মেটাও। প্রতিষ্ঠানটির মুখপাত্র অ্যান্ডি স্টোন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘একটি অভিন্ন সংকেত বা নির্দেশনা তৈরি করা, যার মাধ্যমে একইসাথে একাধিক সেবাদাতাকে কনটেন্ট ব্যবহারের বিষয়ে প্রকাশকদের পছন্দ জানানো যাবে, তা একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।’
তিনি বলেন, এ খাতের অন্যান্য এআই প্রতিষ্ঠানের সাথে এ ধরনের মানদণ্ড তৈরি ও বাস্তবায়নে কাজ করতে তারা আগ্রহী।
সূত্র : বাসস
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








