
বিশ্বজুড়ে মানুষের গড় আয়ু বাড়ছে। বাড়ছে প্রবীণ বা বৃদ্ধ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা। এই প্রবীণদের অধিকার, মর্যাদা এবং তাদের প্রতি আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য নিয়ে ভাবার সময় এসেছে। প্রবীণ জনগোষ্ঠীর জন্য সামাজিক, আর্থিক ও স্বাস্থ্যগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে রাষ্ট্রকে দায়িত্ব নিতে হবে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশে জাতীয় প্রবীণ নীতিমালা অনুযায়ী প্রবীণদের সিনিয়র সিটিজেন হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। প্রবীণরা এক সময় তাদের জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়, শ্রম, মেধা এবং আয় রোজগারের সমস্ত অর্থ দিয়ে পরিবার, সমাজ তথা রাষ্ট্র গঠনে অবদান রেখেছেন। কিন্তু শেষ বয়সে এসে অনেক ক্ষেত্রে প্রবীণরা নিজ নিজ পরিবারে বোঝা হয়ে উঠছেন।
কর্মক্ষমতা হারানোর পর বেশির ভাগ প্রবীণ আর্থিক সঙ্কটে পড়েন। পেনশনের সুবিধা সীমিত এবং সঞ্চয় কমে যাওয়ার কারণে তারা নিজেদের চিকিৎসা খরচ ও ভরণ পোষণের জন্য অন্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। তাদের কথা শোনার বা সমস্যা দেখার সময় যেন কারো নেই। ঘরবন্দী জীবন এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া থেকে তাদের বাদ দেয়া প্রবীণদের মনস্তাত্ত্বিক বিপর্যয় ঘটায়। যারা রাষ্ট্র, সমাজ, সংস্কৃতি ও পরিবারের মজবুত ভিত্তি গড়েছেন আজ সেই প্রবীণদের আশ্রয় হচ্ছে বৃদ্ধাশ্রম। প্রবীণদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা, খোঁজ-খবর নেয়া সহমর্মিতা প্রদর্শন দরকার। দরকার তাদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী জোরদার করা।
বয়স্ক ভাতা বৃদ্ধি, স্বাস্থ্য সেবা কার্ড প্রবর্তন, সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থার কার্যকর, বিনা ভাড়ায় গণপরিবহনে ভ্রমণের সুবিধা রাখতে হবে। বাবা-মার ভরণপোষণ সংক্রান্ত আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।
মাহবুবউদ্দিন চৌধুরী
গণমাধ্যমকর্মী
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








