
গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লাইড হিউম্যান সায়েন্সের ছাত্রীদের হলের সিট পুনর্বহাল, আবাসন সংকট নিরসন ও প্রাতিষ্ঠানিক হয়রানি বন্ধের দাবিতে আন্দোলনে গত ৫ নভেম্বর গভীর রাতে পুলিশি হামলা ও লাঠিচার্জের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। একই সঙ্গে এ ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) এক যৌথ বিবৃতিতে কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এসব দাবি জানান।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, “হলের আসন বাতিলের সিদ্ধান্ত, আবাসন সংকট, আর্থিক অনিয়ম, অতিরিক্ত আর্থিক চাপ, অনিয়মতান্ত্রিক জরিমানা এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক হয়রানি নিয়ে সাধারণ ছাত্রীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের অসন্তোষ পুঞ্জীভূত হয়। এসব সমস্যার সমাধানে প্রশাসনের দায়িত্বশীল উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন ছিল। কিন্তু শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার পরিবর্তে গভীর রাতে ছাত্রীনিবাসে পুলিশ প্রবেশ করিয়ে বলপ্রয়োগের পথ বেছে নেওয়া হয়েছে। ছাত্রীদের আবাসিক হলে পুরুষ পুলিশের প্রবেশ এবং তাঁদের ওপর নির্বিচারে লাঠিচার্জ, শারীরিক নির্যাতন ও চুল ধরে টেনে-হিঁচড়ে সিঁড়ি দিয়ে নামিয়ে নেওয়ার মতো ন্যক্কারজনক ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”
নারী শিক্ষার্থীদের ওপর বিএনপি প্রশাসনের এই নৃশংস হামলা নতুন নয়। এই হামলা ২০০১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন্নাহার হলে ছাত্রদলের সন্ত্রাসীদের নারী শিক্ষার্থীদের ওপর চালানো বর্বরতার কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়। শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবির জবাবে এমন দমনমূলক পদক্ষেপ ফ্যাসিবাদী মানসিকতারই নগ্ন প্রকাশ। আমরা এ বর্বর হামলার তীব্র নিন্দা জানাই।
নেতৃদ্বয় আরো বলেন, “শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অভিভাবক হিসেবে অধ্যক্ষের দায়িত্ব ছিল ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। অথচ তিনি ছাত্রীদের ওপর পুলিশি হামলার সুযোগ দিয়ে নিজের দায়িত্ব ও পদের নৈতিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করেছেন। এই হামলার প্রতিবাদে এবং অধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করছেন। পাশাপাশি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) থেকে অধ্যক্ষের পদত্যাগের আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত সব ধরনের ক্লাস, পরীক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছেন। শিক্ষার্থীদের এই কর্মসূচি তাঁদের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ ও বঞ্চনারই বহিঃপ্রকাশ।”
বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় অবিলম্বে পুলিশি হামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা, ঘটনার দায় নিয়ে অধ্যক্ষের জবাবদিহি ও পদত্যাগ এবং আহত ছাত্রীদের চিকিৎসার সম্পূর্ণ ব্যয়ভার বহনসহ শিক্ষার্থীদের সব ন্যায্য দাবি মেনে নেওয়ার জোর দাবি জানান। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে ছাত্রীদের নিরাপদ আবাসন ও শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)







