খেলাফত মজলিস
খেলাফত মজলিসের বৈঠক নয়া দিগন্ত

গণভোটের রায় ও জুলাই জাতীয় সনদের আলোকে সংবিধানের পূর্ণাঙ্গ সংস্কারের দাবি জানিয়েছে খেলাফত মজলিস। একইসাথে সরকারের গঠিত সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত বিশেষ কমিটির মতবিনিময় সভা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে দলটি।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর পুরানা পল্টনের দলটির মিলনায়তনে আয়োজিত এক জরুরি প্রেস ব্রিফিংয়ে এ ঘোষণা দেন খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের। খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদের সভাপতিত্বে ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়।

লিখিত বক্তব্যে ড. আহমদ আবদুল কাদের বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর স্বৈরাচারের বিচার, নিরপেক্ষ নির্বাচন ও রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্যে ‘জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫’ স্বাক্ষরিত হয়। পরে এ সনদের ওপর অনুষ্ঠিত গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ ভোটার ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে সনদের পক্ষে ম্যান্ডেট দিয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি বলেন, গণভোটের রায় অনুযায়ী নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন, ১০০ সদস্যের উচ্চকক্ষসহ দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ চালু এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতাসহ সংস্কার প্রস্তাবগুলো সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এ ছাড়া সংবিধানের মূলনীতিতে ‘মহান আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাস’ পুনঃস্থাপনের দাবিও জানান তিনি।

ড. আহমদ আবদুল কাদের অভিযোগ করেন, গণভোটের রায় অনুযায়ী নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের একইসাথে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেয়ার কথা থাকলেও সরকারি দল সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেয়নি। এতে জনগণের রায়ের বাস্তবায়ন প্রশ্নের মুখে পড়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, জনগণের ম্যান্ডেট ছিল সংবিধানের পূর্ণাঙ্গ সংস্কার। কিন্তু সংবিধান সংস্কার পরিষদের পরিবর্তে ‘সংবিধান সংশোধন কমিটি’ গঠন করে সরকার জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে বলে তারা মনে করেন। এ কারণে বিশেষ কমিটির মতবিনিময় সভায় অংশ না নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি।

সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে খেলাফত মজলিস নেতারা বলেন, সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী সব রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠন করে গণভোটের রায় ও জুলাই জাতীয় সনদের আলোকে সংবিধানের পূর্ণাঙ্গ সংস্কারের রূপরেখা বাস্তবায়ন করতে হবে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে নায়েবে আমির মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন, মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক আব্দুল জলিল, প্রচার সম্পাদক প্রকৌশলী আবদুল হাফিজ খসরু, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম ও ইসলামী যুব মজলিসের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা সোহাইল আহমদসহ দলটির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।