
দেশের পরিবার ও ব্যক্তিপর্যায়ে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার ও মালিকানার ধরনে পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। ড্রয়িংরুমে টেলিভিশন আছে, তাতে নেট সংযোগ আর হাতে স্মার্টফোন। স্মার্টফোনের ব্যবহার ও মালিকানা বাড়ার পাশাপাশি ব্যক্তিপর্যায়ে মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট ব্যবহারে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। তবে একই সময়ে পরিবারে রেডিও, ফিক্সড ফোন ও কম্পিউটারের উপস্থিতি কিছুটা কমেছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) উপস্থাপিত ২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ অর্থবছরের চতুর্থ প্রান্তিকের তুলনামূলক তথ্য থেকে এ চিত্র পাওয়া যায়। পরিবারের প্রযুক্তি ব্যবহারে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন দেখা গেছে স্মার্টফোনে।
বিবিএস তথ্য বলছে, গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের চতুর্থ প্রান্তিকে ৭৪ দশমিক আট শতাংশ পরিবারের স্মার্টফোন থাকলেও ২০২৫-২৬ অর্থবছরের একই সময়ে তা বেড়ে হয়েছে ৭৫ দশমিক এক শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরে বৃদ্ধি হয়েছে শূন্য দশমিক তিন শতাংশীয় পয়েন্ট। অন্যদিকে ঘরে টেলিভিশনের উপস্থিতি ৫৯ দশমিক এক শতাংশ থেকে বেড়ে ৬০ দশমিক এক শতাংশে উঠেছে। প্রায় সব পরিবারেই মোবাইল ফোনের উপস্থিতি থাকায় এ সূচকটি ৯৯ শতাংশেই অপরিবর্তিত রয়েছে। মোবাইল ফোন থাকা পরিবারের মধ্যে শুধু মোবাইল ফোন রয়েছে—এমন পরিবারের হারও ৯৮ দশমিক এক শতাংশ থেকে সামান্য বেড়ে ৯৮ দশমিক ২ শতাংশ হয়েছে। তবে পুরোনো কিছু প্রযুক্তির ব্যবহার বা উপস্থিতিতে বিপরীত প্রবণতা দেখা গেছে। পরিবারে রেডিওর উপস্থিতি ১৬ দশমিক তিন শতাংশ থেকে কমে ১৫ দশমিক তিন শতাংশে নেমেছে। একইভাবে ফিক্সড ফোনের হার শূন্য দশমিক নয় শতাংশ থেকে কমে শূন্য দশমিক সাত শতাংশ হয়েছে। কম্পিউটার থাকা পরিবারের হারও নয় দশমিক দুই শতাংশ থেকে সামান্য কমে নয় দশমিক এক শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
ঘরে ইন্টারনেট সংযোগে ভিন্ন চিত্র
বিবিএস তথ্য বলছে, প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়লেও পরিবার পর্যায়ে ইন্টারনেট সংযোগের সূচকে কিছুটা পতন দেখা গেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের চতুর্থ প্রান্তিকে ৫৯ দশমিক সাত শতাংশ পরিবারের ইন্টারনেট সংযোগ ছিল। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের একই সময়ে তা কমে হয়েছে ৫৮ দশমিক দুই শতাংশ। তবে ব্যক্তিপর্যায়ে ইন্টারনেট ব্যবহারের চিত্র ভিন্ন। একই সময়ের তুলনায় ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ব্যক্তির হার ৫৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ৫৯ দশমিক দুই শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
মোবাইল ব্যবহারে বড় উল্লম্ফন
ব্যুরোর তথ্য হলো, ব্যক্তিপর্যায়ে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়েছে মোবাইল ফোন ব্যবহারে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের চতুর্থ প্রান্তিকে মোবাইল ফোন ব্যবহারকারী ব্যক্তির হার ছিল ৮২ দশমিক নয় শতাংশ। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের একই সময়ে তা বেড়ে হয়েছে ৮৯ দশমিক ছয় শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরে বেড়েছে ছয় দশমিক সাত শতাংশীয় পয়েন্ট। মোবাইল ফোনের মালিকানার হারও ৬৪ দশমিক দুই শতাংশ থেকে বেড়ে ৬৫ দশমিক ছয় শতাংশে উঠেছে। একই সময়ে কম্পিউটার ব্যবহারকারী ব্যক্তির হার ১১ দশমিক ছয় শতাংশ থেকে সামান্য বেড়ে ১১ দশমিক আট শতাংশ হয়েছে।
সব মিলিয়ে তথ্যগুলো বলছে, দেশের প্রযুক্তি ব্যবহারে মোবাইল ও স্মার্টফোনকেন্দ্রিকতা আরো জোরালো হচ্ছে। ব্যক্তিপর্যায়ে মোবাইল ও ইন্টারনেট ব্যবহারের হার দ্রুত বাড়লেও পরিবার পর্যায়ে রেডিও, ফিক্সড ফোন ও কম্পিউটারের মতো অপেক্ষাকৃত পুরোনো বা বিকল্প প্রযুক্তির উপস্থিতি কমছে। ফলে দেশের ডিজিটাল জীবনে প্রচলিত ডিভাইসের জায়গা ক্রমেই দখল করে নিচ্ছে মোবাইল ফোন ও স্মার্টফোনভিত্তিক প্রযুক্তি।







