
নয়া দিগন্ত ডেস্ক
দেশের বিভিন্ন মহাসড়কে একের পর এক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ও আহতের ঘটনা ঘটছে। জামালপুরের মেলান্দহে ট্রাকের চাপায় স্বামী-স্ত্রী ও আট মাসের শিশুসন্তানসহ চারজন নিহত হয়েছেন। কুমিল্লার বুড়িচং থেকে কক্সবাজারে শিক্ষা সফরে যাওয়ার পথে বাস খাদে পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন এক সহকারী অধ্যাপক ও এক পত্রিকা ম্যানেজার; আহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারী। অন্য দিকে মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে দাঁড়িয়ে থাকা কাভার্ড ভ্যানের পেছনে মাইক্রোবাসের ধাক্কায় আহত হয়েছেন চালকসহ ৯জন।
মেলান্দহ (জামালপুর) সংবাদদাতা জানান, জামালপুরের মেলান্দহে ট্রাক চাপায় স্বামী-স্ত্রী ও শিশু সন্তানসহ চারজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরো দুইজন। গতকাল সকাল ১০টার দিকে মেলান্দহ উপজেলার নয়ানগর ইউনিয়নের বুরুঙ্গা এলাকায় (জামালপুর-দেওয়ানগঞ্জ) আঞ্চলিক মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- ইসলামপুর উপজেলার ইন্দুল্লামারী এলাকার মোরশেদ আলম (২৫), তার স্ত্রী ইকরামা (২৩) ও তাদের আট মাস বয়সী মেয়ে রিফা ও মেলান্দহ পৌরসভার বকুলতলা এলাকার শওকত হাসান লিখন (৪৫)। আহতরা হলেন- অটোরিকশারচালক হযরত আলী ও যাত্রী শাকিল মিয়া।
স্থানীয়রা জানান, সকালে মেলান্দহের শিমুলতলী এলাকা থেকে একটি অটোরিকশা জামালপুরের দিকে যাচ্ছিল। অন্য দিকে জামালপুর থেকে মেলান্দহের দিকে যাচ্ছিল একটি মোটরসাইকেল। এ সময় পেছন থেকে আসা একটি ট্রাক প্রথমে মোটরসাইকেলটিকে চাপা দেয়। পরে ট্রাকটি অটোরিকশাটিকে চাপা দিলে সেটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে অটোরিকশায় থাকা একই পরিবারের তিনজন নিহত হন। গুরুতর আহত হন অটোরিকশার চালকসহ দুইজন।
দুর্ঘটনায় মোরশেদ আলম ঘটনাস্থলেই মারা যান। তার স্ত্রী ও শিশুসন্তানকে মেলান্দহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার পথে মৃত্যু হয়। আহত তিনজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এ দিকে দুর্ঘটনার পর ট্রাকটি পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয়রা মেলান্দহের মালঞ্চ এলাকায় সেটি আটক করেন। তবে ট্রাকের চালক সে সময় পালিয়ে যায়। পরে তাকে আটক করে পুলিশ।
মেলান্দহ থানার ওসি এটিএম মাহমুদুল হক বলেন, দুর্ঘটনায় একই পরিবারের তিনজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো তিনজন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার ও প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাকটি স্থানীয়রা আটক করেছেন। এরপর ট্রাকচালকেও আটক করা হয়।
বুড়িচং (কুমিল্লা) সংবাদদাতা জানান, কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার বাকশীমূল সুন্নিয়া ইসলামিয়া সিনিয়র মাদরাসা থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে বার্ষিক শিক্ষা সফরে যাওয়ার পথে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় মাদরাসার এক সহকারী অধ্যাপক ও স্থানীয় একটি পত্রিকার ম্যানেজার নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় বাসচালকসহ অন্তত ৩০ জন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারী আহত হয়েছেন। শনিবার ভোররাত ৪টার দিকে কেরানীহাটের নবনির্মিত রেলক্রসিং সংলগ্ন এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহতরা হলেন- বাকশীমূল সুন্নিয়া ইসলামিয়া সিনিয়র মাদরাসার সহকারী অধ্যাপক সোহানা আফরোজ (৪৫) ও অধ্যাপক নাদিরা আফরোজ মেঘলার স্বামী দৈনিক রূপসী বাংলা পত্রিকার ম্যানেজার ইসরাফিল আলম (৫৫)। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মফিজুল ইসলাম ও আইসিটি বিভাগের শিক্ষক জাকির হোসেন।
মাদরাসা সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাত ১০টার দিকে বাকশীমূল সুন্নিয়া ইসলামিয়া সিনিয়র মাদরাসা থেকে বার্ষিক শিক্ষা সফরের উদ্দেশ্যে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা দু’টি বাসে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। বাস দু’টি বুড়িচং সদর থেকে ছেড়ে যায়। শনিবার ভোর ৪টার দিকে কেরানীহাটের নবনির্মিত রেলক্রসিং সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই দু’জনের মৃত্যু হয়। আহত হন বাসচালকসহ অন্তত ৩০ জন।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন মাদরাসার অধ্যাপক নাদিরা আফরোজ মেঘলা, শিক্ষক মাওলানা তাজুল ইসলাম ভূঁইয়া ও তার স্ত্রী-সন্তান, আইসিটি বিভাগের শিক্ষক মো: জাকির হোসেন, তার স্ত্রী ও মেয়ে সামিয়া আক্তার নিহা, শিক্ষক আতিকুর রহমান, অধ্যাপক রাসেল, অফিস সহকারী আলাউদ্দিন, তার স্ত্রী সুইটি আক্তার ও মেয়ে, দফতরি শাহজালাল, আয়া সেলিনা আক্তার, শিক্ষক রুনা লায়লা ও তার স্বামীসহ ৩০ জন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারী। এ ঘটনায় বুড়িচংয়ের বাকশীমূল এলাকায় মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
দোহাজারী হাইওয়ে থানার ওসি নুরুল আবছার দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশের টহল দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। স্থানীয়দের সহযোগিতায় হতাহতদের উদ্ধার করা হয়। দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি থানা হেফাজতে নেয়া হয়েছে।
শ্রীনগর (মুন্সীগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে দাঁড়িয়ে থাকা একটি কাভার্ড ভ্যানের পেছনে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি মাইক্রোবাস ধাক্কা দিয়েছে। এতে মাইক্রোবাসের চালকসহ ৯ জন আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় মাইক্রোবাসটির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায় ও চালক গাড়ির ভেতরে আটকা পড়েন। শনিবার ভোর ৪ টার দিকে এক্সপ্রেসওয়ের শ্রীনগর ফেরিঘাট এলাকায় মাওয়ামুখী লেনে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, ইতালি প্রবাসী রাসেল মাতব্বরকে বিমানবন্দর থেকে রিসিভ করে স্বজনরা মাদারীপুরে নিজ বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছিলেন। পথে শ্রীনগর ফেরিঘাট এলাকায় দ্রুতগতির কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মাইক্রোবাসটি সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি কাভার্ড ভ্যানের পেছনে ধাক্কা দেয়। এতে মাইক্রোবাসের সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায় ও চালক ভেতরে আটকা পড়েন।
খবর পেয়ে শ্রীনগর ফায়ার সার্ভিসের দু’টি উদ্ধারকারী ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আধুনিক উদ্ধার সরঞ্জাম ব্যবহার করে গাড়ির ভেতরে আটকে পড়া চালকসহ আহতদের উদ্ধার করে। পরে ফায়ার সার্ভিসের অ্যাম্বুলেন্সে করে তাদের শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়।
আহতরা হলেন- মাদারীপুর সদর উপজেলার বলসা গ্রামের রুম্পা খাতুন, মিম আক্তার, খাদিজা আক্তার, ইতালি প্রবাসী রাসেল মাতব্বর, সিরাজ মাতব্বর, রনি মাতব্বর ও মেহেদী। এ ছাড়া মাইক্রোবাসচালক মো: ইব্রাহিম, ঢাকার খিলগাঁওয়ের গোরান এলাকার বাসিন্দা ও আল-আমিন, ময়মনসিংহের বাসিন্দা আহত হয়েছেন।
মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম জানান, শনিবার ভোর ৪টা ২০মিনিটে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে শ্রীনগর ফায়ার স্টেশনের দু’টি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় গাড়ির ভেতরে আটকে পড়া চালকসহ আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








