বদলি স্ট্রাইকার দিয়ে আর কত

ক্রীড়া প্রতিবেদক

Advertisement

২০০৩ সালের সাফ চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ দল। ঢাকার মাঠে অনুষ্ঠিত সেই আসরে জর্জ কোটান বাহিনী মোট করেছিল আট গোল। এর মধ্যে ছয় গোলই  স্ট্রাইকারদের। সাফে বাংলাদেশ সর্বশেষ ফাইনালে খেলেছিল ২০০৫ সালে। পাকিস্তানের করাচিতে হওয়া সেই টুর্নামেন্টে আন্দ্রে ক্রুসিয়ানির দলের সেই যাত্রায় লাল-সবুজরা গোল করেছিল সাতটি। এর মধ্যে স্ট্রাইকাররাই বল জালে পাঠান ছয়বার।  এস এ গেমস ফুটবলে বাংলাদেশের শেষবারের মতো স্বর্ণ জয় ২০১০ সালে। সেই আসরে জোরান দরদেভিসের দলের ১৩ গোলের মধ্যে সাত গোলই এসেছিল স্ট্রাইকারদের মাধ্যমে। আর এখন দেশী বা বিদেশী যে কোচই দায়িত্বে থাকুক না কেন তাদের হন্যে হয়ে খুঁজতে হচ্ছে একজন নম্বর নাইনকে। কিন্তু না পাওয়ার কারণে কখনো মিডফিল্ডার, কখনও ডিফেন্ডাররা বাংলাদেশ দলকে পার করাচ্ছেন। সর্বশেষ গত পরশু ভুটানের বিপক্ষে সাফের উদ্বোধনী ম্যাচে লাল-সবুজদের ১-০ গোলে জয়ের নায়ক মিডফিল্ডার ইব্রাহিম।
এই শতাব্দীতে আলফাজ আহমেদ, জাহিদ হোসেন এমিলি, এনামুল হকের পর আর পাওয়া যায়নি কার্যকরী স্ট্রাইকার। কখনও সাখাওয়াত হোসেন রনি, সুমন রেজা, নাবিব নেওয়াজ জীবন, মতিন মিয়াদের দিয়ে চেষ্টা করা হয়েছে। তবে স্প্যানিশ কোচ হাভিয়ার কাবরেরা আসার পর জাতীয় দলে স্পেশালিস্ট স্ট্রাইকারদের রাস্তাই বন্ধ হয়ে যায়। তিনি সাজ্জাদ হোসেন, ফয়সাল আহমেদ ফাহিমদের দিয়ে ব্যর্থ চেষ্টা চালানোর পর শেষ পর্যন্ত মিডফিল্ডার রাকিব হোসেনকে নম্বর নাইন পজিশনে খেলাতে থাকেন। অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার রাকিব সাধ্যমতো চেষ্টা করেছেন। তবে প্রকৃত নম্বর নাইন আর হতে পারেননি।  গত সাফে দুই গোল করাসহ লাল-সবুজ জার্সিতে তার করা গোল এ পর্যন্ত ছয়টি।
বর্তমান কোচ টমাস ডুলি দায়িত্ব নেয়ার পর বারবারই একজন নম্বর নাইনের অভাবের কথা বলছিলেন। সানমেরিনোর বিপক্ষে জুনে ফিফার প্রীতিম্যাচে বাংলাদেশের জয় ছিল ডিফেন্ডার তপু বর্মনের জোড়া গোল। এরপর আসিয়ান কাপে  ইংল্যান্ড প্রবাসী ফারহান আলী ওয়াহিদ ও স্থানীয় অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার শাহরিয়ার ইমন দুই গোল করেন ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে। তা স্ট্রাইকার পরিচয়ে।
এবারের সাফের দলে নেই শাহরিয়ার ইমন। ফারহান এসে পৌঁছাবেন ৯ তারিখে। ফলে ভুটানের বিপক্ষে পার পাওয়ার জন্য কোচ বিস্ময়কর ভাবে ডিফেন্ডার বিশ^নাথ ঘোষকে নামিয়ে দেন স্ট্রাইকার হিসেবে। নতুন পরিচয়ে বিশ^নাথ কোনো গোল না পেলেও একেবারে খারাপ করেননি। শেষ পর্যন্ত তার বদলি ইব্রাহিম জয়সূচক গোলটি করেন।
এখন প্রশ্ন এভাবে মূল স্ট্রাইকার ছাড়া আর কত দিন চলতে হবে। জাতীয় দলের সাবেক স্ট্রাইকার আলফাজ আহমেদ জানান, ‘২০০৩ সাফে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ দলে আমরা চারজন স্ট্রাইকার ছিলাম। অথচ জাতীয় দলে স্ট্রাইকারই নেই।’ একেতো ক্লাব ফুটবলে বিদেশী স্ট্রাইকার নির্ভরতা ধ্বংস করে দিয়েছে দেশী স্ট্রাইকারদের উঠে আসাটা। সে সাথে যোগ হয়েছিল সাবেক কোচ কাবরেরার স্পেশালিস্ট স্ট্রাইকার বাদ দিয়ে খেলাটা। যে কারণে ডিফেন্ডারদেরও এখন স্ট্রাইকার পজিশনে খেলতে হচ্ছে। বাফুফে এবং ক্লাবগুলো দেশী স্ট্রাইকারদের দিকে বিশেষ নজর না দিলে এই দুরবস্থা চলতেই থাকবে।
গতকাল বাংলাদেশ দলের রিকভারি সেশনের আগে কক্সবাজারের সন্তান ইব্রাহিম জানান, আমি মাঠে নামার সময় কোচ বলেছিলেন বক্সের আশপাশে থাকতে এবং সুযোগ পেলেই পোস্টে শট নিতে।  আমিও সুযোগ পাওয়া মাত্রই পোস্টে শট নিয়েছি। গোলের পর আমার মনে পড়ছিল জাতীয় দল থেকে দূরে থাকার সময়গুলো। আসিয়ান কাপে বাদ পড়ার পর থেকেই পণ ছিল সাফে জাতীয় দলে ফিরতে হবে। এখন সাফে গোল করেছি। লক্ষ্য আগামী ম্যাচগুলোতেও গোল করা।

 

Advertisement