
নিজস্ব প্রতিবেদক
গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লাইড হিউম্যান সায়েন্সের (সাবেক হোম ইকোনমিকস) অধ্যক্ষ অধ্যাপক মেহেরুন্নেছার পদত্যাগ এবং ক্যাম্পাসের ভেতর আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জের বিচারের দাবিতে রাজধানীর নীলক্ষেতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা। গতকাল সকাল ১০টার পর থেকে কলেজের সামনের সড়কের দুই পাশে অবস্থান নেন আন্দোলনকারীরা, এতে নীলক্ষেত এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় এবং যানবাহন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
এ বিষয়ে গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লাইড হিউম্যান সায়েন্সের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মেহেরুন্নেছা নয়া দিগন্তকে বলেন, মাস্টার্সের শিক্ষার্থীদের অডিটোরিয়ামে বিদায় অনুষ্ঠান করার জন্য রাত ১২টা পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়েছিল। কিন্তু পরদিন সকালে এসে জানতে পারি, শিক্ষার্থীরা রাত ১২টার নিয়ম অমান্য করে ভোর ৫টা পর্যন্ত অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠান চালিয়েছে এবং সেখানে বোতল ও খাবারের প্যাকেট ফেলে চরম নোংরা পরিবেশ তৈরি করে রেখে গেছে। তিনি বলেন, একটি নারীশিক্ষার প্রতিষ্ঠানে রাত ১২টার জায়গায় ভোর ৫টা পর্যন্ত এভাবে অনুষ্ঠান চালানো এবং শৃঙ্খলা ভঙ্গ করার কারণে রেগে গিয়ে প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে দায়ী দুই শিক্ষার্থীর হলের সিট বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পরে তারা অনুনয়-বিনয় করাতে আসন্ন পরীক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষক ও বিভাগীয় প্রধানদের সাথে আলোচনা করে তাদের হলের সিট বহাল রেখে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ও অপচয়ের বিরুদ্ধে বার্তা দিতে প্রতীকী আর্থিক দণ্ড আরোপের সিদ্ধান্ত হয়। অডিটোরিয়ামে অতিরিক্ত সময় ফ্যান, লাইট ও এসি চলার কারণে যে বিদ্যুৎ অপচয় হয়েছে, গুগলে প্রতি কিলোওয়াট বিদ্যুতের দর ও খরচ হিসাব করে মোট ১২ হাজার ৬০০ টাকা জরিমানা নির্ধারণ করে তাদের নোটিশ দেয়া হয়।
অবরুদ্ধের বিষয়ে তিনি বলেন, নোটিশ দেয়ার পর গত বৃহস্পতিবার সকালে ২০ থেকে ২৫ জন শিক্ষার্থী আমার কক্ষে প্রবেশ করে অন্যান্য শিক্ষকদের বের করে দিয়ে বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে দেয়। বেলা সাড়ে ১০টা থেকে রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত আমাকে কক্ষে অবরুদ্ধ রাখা হয় এবং সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কক্ষের বিদ্যুৎ সংযোগ বিছিন্ন রাখা হয়। পরে পুলিশ এসে উদ্ধারের বিষয়ে আমি বলতে চাই- আমি কিন্তু পুলিশ বা আমার পরিবার কাউকে নিজ থেকে খবর দেইনি; আমার পরিবার অনলাইনে খবর দেখে পুলিশে যোগাযোগ করেছিল। আর উদ্ধার কাজের সময় ক্যাম্পাসে পুলিশ বা শিক্ষার্থীদের মধ্যে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে কি না, অবরুদ্ধ অবস্থায় থাকার কারণে তা আমার প্রত্যক্ষ করার সুযোগ ছিল না।
সড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বর্তমানের পরিস্থিতি নিয়ে কলেজের শিক্ষকরা একত্রে বসে পরবর্তী প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও সুষ্ঠু সমাধানের বিষয়ে আলোচনা করা হবে। শনিবার সবাই বসে একটা সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
এ দিকে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, অধ্যক্ষ দুই গাড়ি পুলিশ ক্যাম্পাসের ভেতরে এনে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিপেটা করিয়েছেন। এতে কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে তারা দাবি করেন। পুলিশের এই অ্যাকশনের প্রতিবাদে মধ্যরাতেও কলেজের সামনের সড়কে অবস্থান নিয়ে প্রায় আড়াই ঘণ্টা বিক্ষোভ করেন ছাত্রীরা। বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীরা চার দফা দাবি জানিয়েছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই বিক্ষোভ ও কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে ও অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্যাম্পাস বর্জনের ডাক দিয়েছেন তারা। লালবাগ থানার ওসি মোহাম্মদ জামিল হোসেন জানান, শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষের পদত্যাগসহ বিভিন্ন দাবিতে সড়ক আটকে বিক্ষোভ করেছেন। নীলক্ষেত এলাকায় অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ সজাগ রয়েছে এবং অবরুদ্ধ অধ্যক্ষকে নিরাপদে উদ্ধার করে আনা হয়।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








