
ক্রীড়া প্রতিবেদক
মিরপুরে হারের দুঃস্বপ্ন এখনো তাজা! দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে পিছিয়ে থাকা বাংলাদেশের সামনে সিলেট টেস্টে লক্ষ্যটা শুধু জয় নয়, হোয়াইটওয়াশের লজ্জা এড়িয়ে আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়া। সেই কঠিন মিশনে মাঠে নেমে শুরুটা বেশ আশাব্যঞ্জকই ছিল। পরে তা গড়ায় হতাশায়। সিলেট টেস্টের প্রথম দিনের চিত্রনাট্যে ছিল নাটকীয়তা ভরা। সকালে বাংলাদেশের পেসারদের আগুনে বোলিংয়ে দিশেহারা ওয়েস্ট ইন্ডিজ, দিনের শেষভাগে সেই দলই ব্যাট হাতে দাপট দেখায়। মাত্র ২৭ রানে তিন উইকেট হারানোর পর ঘুরে দাঁড়িয়ে প্রথম দিন শেষ করল চার উইকেটে ২৩৫ রান নিয়ে। এই প্রত্যাবর্তনের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন আমির জাঙ্গু। সেঞ্চুরি করে বাংলাদেশের বোলারদের আত্মবিশ্বাসে হাতুড়ির আঘাত করেছেন।
বাংলাদেশের একাদশে ফিরেছেন মুশফিকুর রহীম ও তাসকিন আহমেদ। গতকাল সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টের প্রথম দিনে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। শুরুতে অবশ্য অধিনায়ক রস্টন চেইসের সিদ্ধান্তের সুফল পাওয়ার সম্ভাবনা ভুল মনে হচ্ছিল। নতুন বলে তাসকিন আহমেদ ও হাসান মাহমুদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে দ্রুত তিনটি উইকেট হারায় সফরকারীরা। তাসকিনের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন ব্র্যান্ডন কিং। পরের ওভারেই হাসানের শিকার কাভেম হজ। এরপর জশুয়া দা সিলভাকে এলবিডব্লিউ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপদ আরো বাড়ান তাসকিন। ২৭ রানে তিন উইকেট হারিয়ে তখন বড় বিপর্যয়ের মুখে ক্যারিবীয়রা। পরে দৃশ্যপটে পরিবর্তন।
সেখান থেকে ম্যাচের গতিপথ বদলে দেন আমির জাঙ্গু ও কেভিন উইকহ্যাম। অভিষিক্ত উইকহ্যামকে সাথে নিয়ে প্রতিরোধের দেয়াল গড়েন জাঙ্গু। বাংলাদেশের পেস আক্রমণের পর স্পিনারদেরও নির্বিষ করে দেন দু’জন। চতুর্থ উইকেটে তাদের ১৩১ রানের জুটি ওয়েস্ট ইন্ডিজকে বিপদমুক্ত করার পাশাপাশি বড় সংগ্রহের পথ দেখায়।
অভিষেকের ম্যাচে উইকহ্যামের ব্যাটিং ছিল বেশ পরিণত। কোনো তাড়াহুড়া না করে পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নেন তিনি। ১৪৫ বল খেলে ৬১ রান করেন এই ব্যাটার। তার ইনিংসটি থামে হাসান মাহমুদের বলে বোল্ড হয়ে। তবে ততক্ষণে দলের জন্য প্রয়োজনীয় ভিত তৈরি করে দেন। তার বিদায়ের পরও বাংলাদেশের বোলারদের ওপর চাপ কমেনি। বরং জাঙ্গু নিজের ব্যাটিংয়ের ছন্দ ধরে রেখে এগিয়ে যান সেঞ্চুরির দিকে। ফাঁকা জায়গা খুঁজে বাউন্ডারি আদায়, সুযোগ বুঝে দ্রুত রান নেয়া- সব মিলিয়ে তার ব্যাটিংয়ে ছিল পরিপক্বতার ছাপ। শেষ পর্যন্ত ১৪৯ বলে পূর্ণ করেন প্রথম টেস্ট শতক। দিন শেষে ১৭১ বলে ১১ চার দুই ছক্কায় ১১১ রান নিয়ে অপরাজিত এই ব্যাটার।
অন্য প্রান্তে জাস্টিন গ্রিভসও জাঙ্গুকে দারুণ সঙ্গ দিয়েছেন। পঞ্চম উইকেটে দু’জনের অবিচ্ছিন্ন ৭৭ রানের জুটিতে দিনের শেষটা আরো স্বস্তির হয়েছে অতিথিদের। গ্রিভস ৬২ বলে ৩৫ রান নিয়ে অপরাজিত আছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাসকিন ও হাসান দু’টি করে উইকেট নিলেও অন্য বোলাররা সাফল্যের দেখা পাননি। বিশেষ করে স্পিন বিভাগ আবারো হতাশ করেছে। তিন স্পিনার নিয়ে খেলতে নেমেও উইকেটশূন্য থাকতে হয়েছে তাইজুল ইসলাম, মেহেদী হাসান মিরাজ ও নাঈম হাসানকে। মিরাজ ১৮ ওভারে ৪২ এবং তাইজুল ১৬ ওভারে ৪৫ রান দিয়েছেন।
আলোকস্বল্পতার কারণে নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ হয় দিনের খেলা। ৭০ ওভার শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ চার উইকেটে ২৩৫ রান। প্রথম সেশনে যে দলকে দেখে বিপর্যস্ত মনে হচ্ছিল, দিন শেষে সেই দলই রয়েছে চালকের আসনে। দ্বিতীয় দিনের সকালে জাঙ্গু ও গ্রিভসের জুটি ভাঙাই এখন বাংলাদেশের প্রধান লক্ষ্য।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১ম ইনিংস : ৭০ ওভারে ২৩৫/৪ (কিং ৯, দা সিলভা ১২, হজ ১, উইকহ্যাম ৬১, জাঙ্গু ১১১*, গ্রিভস ৩৫*; তাসকিন ২/৬১, হাসান ২/৫৮, তাইজুল ০/৪৫, মিরাজ ০/৪২, নাঈম ০/২৭)।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








