
ক্রীড়া ডেস্ক
লিওনেল মেসির পর আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। বিশ্বকাপের পর গত ৩১ আগস্ট বিদায়ের ঘোষণা একজনের, দুই মাসের কিছুটা বেশি সময় পর ঘোষণা এলো অন্যজনের। এর মধ্য দিয়ে জাতীয় দলের অধ্যায় শেষ হলো বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে আলোচিত দুই মহাতারকার। দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় ধরে আবর্তিত ফুটবল বিশ্বের অসংখ্য আলোচনা, আন্তর্জাতিক অধ্যায়ে এবার পর্দা পড়ল মেসি-রোনালদো যুগের।
আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে গত ৩১ আগস্ট অবসরের ঘোষণা দেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি। ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে হারের পর জাতীয় দলের জার্সিতে আর না খেলার সিদ্ধান্ত নেন রেকর্ড আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী এই বিশ্বকাপ জয়ী তারকা। এরপর গতকাল পর্তুগালের হয়ে ২৩ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানার ঘোষণা দিলেন রোনালদো। ৪১ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন বার্তায় জানান, এবার জাতীয় দলের ৭ নম্বর জার্সি নতুন প্রজন্মের হাতে তুলে দেয়ার সময় এসেছে।
মেসি ও রোনালদোর বিদায় ফুটবল ইতিহাসের একটি বিশেষ মুহূর্ত। দু’জনের ক্যারিয়ার যেমন সমান্তরালে এগিয়েছে, তেমনি ব্যক্তিগত অর্জন, দলীয় সাফল্য এবং রেকর্ডের প্রতিযোগিতায়ও দীর্ঘ দিন ছিলেন একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী। এক দিকে মেসির জাদুকরি বাঁ পায়ের ফুটবল, অন্য দিকে রোনালদোর গতি, শক্তি, আকাশচুম্বী লাফ ও গোল করার অবিশ্বাস্য ক্ষমতা- দুই ভিন্ন বৈশিষ্ট্যের ফুটবল দিয়ে তারা জয় করেছেন কোটি সমর্থকের হৃদয়।
আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে মেসির অর্জনের ঝুলিও বেশ সমৃদ্ধ। আর্জেন্টিনার হয়ে ২০৭ ম্যাচে ১২৫ গোল করেছেন তিনি। ২০২১ ও ২০২৪ সালে কোপা আমেরিকা এবং ২০২২ সালে জিতেছেন কাতার বিশ্বকাপ। ২০২৬ বিশ্বকাপেও তার নেতৃত্বে ফাইনালে উঠেছিল আলবিসেলেস্তেরা। তবে শিরোপার লড়াইয়ে স্পেনের কাছে হেরে রানার্সআপ হয় আর্জেন্টিনা। ছয়টি বিশ্বকাপে অংশ নেয়া মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় অর্জন ২০২২ বিশ্বকাপ জয়ই।
অন্য দিকে পর্তুগালের হয়ে ২৩৪ ম্যাচে ১৪৬ গোল করেছেন রোনালদো। পুরুষদের আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বোচ্চ ম্যাচ ও গোলের রেকর্ড তার দখলে। ২০১৬ সালে পর্তুগালকে প্রথমবারের মতো ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা এনে দেন তিনি। এরপর ২০১৯ ও ২০২৫ সালে জেতেন উয়েফা নেশন্স লিগ। ছয়টি বিশ্বকাপ ও ছয়টি ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিয়ে গড়েছেন অনন্য নজির। তবে বিশ্বকাপের শিরোপা অধরাই থেকে গেছে তার।
তবে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় বললেও এখনই ফুটবলকে বিদায় জানাচ্ছেন না দু’জনের কেউ-ই। যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) দল ইন্টার মিয়ামির হয়ে মেসি এবং সৌদি প্রো-লিগের ক্লাব আল নাসরের হয়ে ক্লাব ফুটবল চালিয়ে যাবেন রোনালদো। সিআর সেভেনের সামনে ক্যারিয়ারের এক হাজার গোলের মাইলফলক ছোঁয়ার হাতছানি। তার গোলসংখ্যা এখন ৯৮৫।
এক সময় যাদের মুখোমুখি লড়াই দেখার জন্য অপেক্ষায় থাকতেন ফুটবলপ্রেমীরা, সেই দুই মহাতারকা এখন জাতীয় দলের অধ্যায় শেষ করেছেন। তাদের জায়গা নেবে নতুন প্রজন্ম। কিন্তু মেসি-রোনালদোর দুই দশকের রাজত্ব, অসংখ্য রেকর্ড, অবিশ্বাস্য গোল আর ফুটবলীয় দ্বৈরথ থেকে যাবে ইতিহাসের পাতায়। ফুটবল বিশ্ব হয়তো নতুন তারকা পাবে; কিন্তু আর কখনোই ফিরবে না মেসি-রোনালদো যুগের সেই চিরচেনা প্রতিদ্বন্দ্বিতা।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








