
কূটনৈতিক প্রতিবেদক
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে কোনো পাসপোর্ট বা ট্রাভেল পাস ইস্যু করা হবে না বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় হাসিনাকে দিল্লি থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে।
গতকাল ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিংয়ের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলকে বিদায় জানানোর পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। লিউ হাইসিং গত মঙ্গলবার তিন দিনের সফরে ঢাকা এসেছিলেন।
হুমায়ুন কবির বলেন, শেখ হাসিনা একজন পলাতক সন্ত্রাসী। তিনি কি ভারত থেকে তার শ্বশুরবাড়ি রংপুরে বেড়াতে আসছেন যে তাকে পাসপোর্ট দিতে হবে। আমাদের সাথে ভারতের একটি প্রত্যর্পণ চুক্তি রয়েছে। সন্ত্রাসী ও অপরাধীকে হস্তান্তরের জন্য এই চুক্তি করা হয়েছে। একজন সন্ত্রাসী অপরাধীকে হস্তান্তরের জন্য পাসপোর্ট লাগে না, প্রয়োজন হয় আইনিপ্রক্রিয়া। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা বাংলাদেশে হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করে ভারতে পালিয়ে গেছে, তাকে আমরা কোনোভাবেই একজন সাধারণ কমার্শিয়াল ট্রাভেলার হিসেবে দেখতে পারি না। আমরা তার হস্তান্তর চাই। বাংলাদেশ ও ভারত সরকারের মধ্যে যে প্রত্যর্পণ চুক্তি রয়েছে, তার আওতায় এই অপরাধীকে হস্তান্তর করতে হবে।
পাসপোর্ট বা ট্রাভেল পাসের বিষয়টিই হাস্যকর লাগল বলে মন্তব্য করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। বাংলাদেশ-চীন-মিয়ানমার পরিকল্পিত ত্রিদেশীয় করিডোর নিয়ে অপর এক প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, করিডোর নিয়ে কোনো ভূরাজনৈতিক জটিলতার শঙ্কা দেখছে না বাংলাদেশ। এটি বাস্তবায়িত হলে পুরো অঞ্চলটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্রে পরিণত হবে। এই আঞ্চলিক করিডোরে যুক্ত হতে ঢাকার যথেষ্ট আগ্রহ রয়েছে। তবে এর আগে রোহিঙ্গা সঙ্কটের স্থায়ী সমাধান হওয়া প্রয়োজন।
সিপিসির কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিংয়ের ঢাকা সফরের মধ্য দিয়ে আগামী দিনে চীন ও বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় ও কৌশলগত সম্পর্ক আরো গভীর ও গতিশীল হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এর আগে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় লিউ হাইসিংয়ের সম্মানে প্রাতরাশ বৈঠকের আয়োজন করেন। বৈঠকে উভয়পক্ষ বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের কথা স্মরণ করে। গত জুনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের ফলাফল নিয়ে উভয়পক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করে।
চীনের পররাষ্ট্রনীতিতে আইডিজিপিসির (আন্তর্জাতিক উন্নয়নে সিপিসির কেন্দ্রীয় কমিটি) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার ওপর আলোকপাত করে লিউ হাইসিং বলেন, দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে তার দফতর নিরলসভাবে কাজ করে যাবে। উভয়পক্ষ ‘নতুন যুগে চীন-বাংলাদেশ অভিন্ন ভবিষ্যতের সম্প্রদায়’ নীতি আওতায় সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে। তারা রাজনৈতিক ও দলীয় পর্যায়ের সফর বিনিময়, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং উন্নয়ন সহযোগিতার বিষয়ে মতবিনিময় করেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে চীনের অব্যাহত সমর্থন প্রত্যাশা করেন।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








