হামলাকারীদের আইনের আওতায় আনতে হবে : ডা.শফিক
রাজধানীর ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মেজর (অব:) আখতারুজ্জামানের ছেলে শাহরিয়ার জামানকে দেখতে যান ডা. শফিকুর রহমান : নয়া দিগন্ত।

নিজস্ব প্রতিবেদক 

Advertisement

মেজর আখতারুজ্জামানের ছেলের ওপর হামলার ঘটনায় অতি দ্রুত মামলা নিয়ে দুষ্কৃতকারীদের আইনের আওতায় আনতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। ঘটনায় থানায় অভিযোগ জমা দেয়া হলেও পুলিশ এখনো মামলা নথিভুক্ত করেনি বলে দাবি করেছেন তিনি।  গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর কল্যাণপুরে ইবনে সিনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আহত শাহরিয়ার জামান রানাকে দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।
জামায়াত আমির বলেন, দুইবারের সাবেক সংসদ সদস্য, অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মকর্তা ও বীর মুক্তিযোদ্ধার ছেলেকে আহত করার পর থানায় অভিযোগ জমা দেয়া হলেও এখন পর্যন্ত মামলা নথিভুক্ত করা হয়নি। আখতারুজ্জামান পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ে, এমনকি ডিআইজির সাথেও কথা বলেছেন। মামলা নেয়ার আশ্বাস দেয়া হলেও তা কার্যকর হয়নি। প্রশাসন দুষ্টের পক্ষে, নাকি শিষ্টের পক্ষে- এ প্রশ্ন এখন সামনে এসেছে।
তিনি বলেন, আখতারুজ্জামানের নিজের জমিতে প্রতিষ্ঠিত কচিহাটা কলেজে প্রাথমিক থেকে কলেজ পর্যন্ত শিক্ষারব্যবস্থা রয়েছে। এলাকার কিশোর ও তরুণদের সুস্থ বিনোদনের জন্য সেখানে একটি বড় খেলার মাঠও করা হয়েছে। কিন্তু কিছুদিন ধরে মাদক সেবন ও বিক্রির সাথে জড়িত ব্যক্তিরা মাঠে গিয়ে বিভিন্ন ধরনের সামাজিক উৎপাত করছিল। এ নিয়ে এর আগে দুই-তিনবার আখতারুজ্জামানের বড় ছেলে তাদের সতর্ক করেছিলেন। এ কারণেই ক্ষুব্ধ হয়ে তারা হামলা চালিয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, হামলাকারীরা সরাসরি কোনো রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী না হলেও কারো না কারো আশ্রয়-প্রশ্রয়ে থেকে এসব কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। মাদকচক্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় হামলা হয়ে থাকলে তাদের নিয়ন্ত্রণে আনা প্রশাসনের দায়িত্ব। তিনি দ্রুত মামলা নথিভুক্ত, হামলাকারীদের গ্রেফতার এবং তাদের পেছনে কারা আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে, তা তদন্ত করে বের করার দাবি জানান।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, তার ছেলের সাথে থাকা ব্যক্তিরা হামলাকারীদের চিনতে পেরেছেন। এ কারণে ১২ জনের নাম উল্লেখ করে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, থানার ওসি ১২ জনের নাম বাদ দিয়ে অজ্ঞাত আসামি উল্লেখ করে মামলা করার কথা বলছেন। ওসির নির্দেশনায় মামলা হতে পারে না। কারো নাম অন্যায়ভাবে অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাকলে পুলিশ তদন্ত করে তা যাচাই করতে পারে; কিন্তু মামলা থেকে নাম বাদ দেয়ার এখতিয়ার পুলিশের নেই। এ ধরনের চাপকে তিনি আইনের ওপর হস্তক্ষেপ ও ন্যক্কারজনক আচরণ বলে উল্লেখ করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন- দলের ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক এমপি মেজর (অব:) আখতারুজ্জামান, কেন্দ্রীয় কর্মপরিরষদ সদস্য মাওলানা মাহফুজুর রহমান, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য আতাউর রহমান সরকার, অ্যাডভোকেট আলাউদ্দিন সোহেল প্রমুখ। 
তৌফিক হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি জামায়াত আমিরের
গাজীপুরের শ্রীপুরে শ্রমিক আন্দোলনে নিহত তৌফিক হোসেনের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। একই সাথে তৌফিক হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করেছেন তিনি।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেয়া এক পোস্টে এ কথা বলেন ডা. শফিকুর রহমান।
ফেসবুক পোস্টে জামায়াত আমির জানান, বেলা ১১টা ২০ মিনিটে নিহত তৌফিকের স্ত্রী ও বড় ভাইয়ের সাথে ফোনে কথা বলেছেন তিনি। এ সময় স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। তাদের কাছ থেকে পরিবারের অসহায়ত্ব ও কষ্টের কথা জানতে পারেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান লেখেন, তৌফিক ও তার বড় ভাই দু’জনই এতিম। অনেক কষ্টে বড় হওয়া দুই ভাই একই গার্মেন্টে চাকরি করতেন। চোখের সামনে ভাইকে হারিয়ে বড় ভাই ভেঙে পড়েছেন। হাসপাতালে গিয়ে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় ভাইকে দেখলেও তার সাথে শেষ কথা বলার সুযোগ পাননি তিনি।
নিহত তৌফিকের স্ত্রীও অভাবের তাড়নায় আগে গার্মেন্টে চাকরি করতেন। তবে একমাত্র সন্তানের জন্মের পর তার লালন-পালনের জন্য চাকরি ছেড়ে দেন। তাদের ১১ মাস বয়সী সন্তান সিয়ামের ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন জামায়াতের আমির।
তিনি আরো জানান, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ এলাকায় পরিবারের নিজস্ব কোনো জায়গা নেই। বর্তমানে স্বামীর চাচার একটি ছোট ঘরে আশ্রয় নিয়েছেন তৌফিকের স্ত্রী ও সন্তান।
পোস্টে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তৌফিক হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। দেশে দরিদ্র মানুষের বিচার পাওয়ার সুযোগ কতটা রয়েছে, তা নিয়ে সংশয় থাকলেও তারা ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়ে যাবেন। ন্যায়বিচার পেলে বিধ্বস্ত পরিবারটি কিছুটা হলেও সান্ত¡না পাবে।
তিনি বলেন, ইনশা আল্লাহ, তারা এই পরিবারের পাশে থাকবেন। একই সাথে অসহায় পরিবারটির জন্য মহান আল্লাহর সহায়তা কামনা করেন।
ডা. শফিকুর রহমান আরো উল্লেখ করেন, পরিবারের সদস্যদের সাথে ফোনালাপের সময় জামায়াতে ইসলামীর গাইবান্ধা জেলা শাখার আমির ও সংসদ সদস্য আব্দুল করিম, সাবেক জেলা আমির, চিকিৎসক এবং গোবিন্দগঞ্জ আসনে বিগত নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী ডা. আব্দুর রহিম সরকার, গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা আমিরসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তারা শোকসন্তপ্ত পরিবারের খোঁজখবর নিতে ও স্বজনদের সান্ত¡না দিতে সেখানে উপস্থিত হন।