আনসার সদস্যদের বেতন বাড়ছে, গ্র্যাচুইটিও চূড়ান্ত পর্যায়ে

  গাজীপুর প্রতিনিধি

Advertisement

অঙ্গীভূত আনসার সদস্যদের দীর্ঘ দিনের রেস্ট প্রথা বাতিলের পর এবার বেতন বৃদ্ধি ও গ্র্যাচুইটি চালুর উদ্যোগও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সদস্যদের জীবনমান উন্নয়ন, পেশাগত মর্যাদা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে বাহিনীর ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক সংস্কার আনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ।
তিনি বলেন, শিল্পাঞ্চলে সাম্প্রতিক শ্রমিক অসন্তোষ মোকাবেলায় গাজীপুরে পাঁচ প্লাটুন আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। নিজস্ব দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ সরঞ্জাম, প্রশিক্ষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে সমন্বয় করে তারা দায়িত্ব পালন করছেন।
বৃহস্পতিবার গাজীপুরের সফিপুরে বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি অ্যাকাডেমিতে অঙ্গীভূত আনসার মৌলিক প্রশিক্ষণ-২০২৬-এর সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবেও বাহিনীর সংস্কার, সদস্যদের সুযোগ-সুবিধা ও গাজীপুরের শ্রমিক আন্দোলন পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন মহাপরিচালক।
তিনি বলেন, দীর্ঘ দিন ধরে অঙ্গীভূত আনসার সদস্যদের সবচেয়ে বড় দুর্ভোগ ছিল রেস্ট প্রথা। ছয় মাস, এক বছর, দেড় বছর কিংবা দুই বছর দায়িত্ব পালনের পর আবার অঙ্গীভূত হওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতো। এতে তাদের জীবন-জীবিকা অনিশ্চয়তার মুখে পড়ত। এ প্রথা বাতিল করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান ও আইন সংস্কারের কাজও চূড়ান্ত পর্যায়ে। 
আনসার ডিজি জানান, সদস্যদের বেতন বৃদ্ধি ও গ্র্যাচুইটি চালুর বিষয়টিও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সরকার শিগগিরই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে বলে আশা করছেন তিনি। পাশাপাশি রেশন বাড়ানো হয়েছে, যাতে সদস্যরা নিজেদের পাশাপাশি পরিবারের মৌলিক চাহিদাও পূরণ করতে পারেন। আবাসন, নিজ বিভাগে বদলি ও অন্যান্য কল্যাণমূলক সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
বাহিনীর জনবল ও দায়িত্বের ক্ষেত্র সম্প্রসারণের বিষয়ে ডিজি বলেন, আগে অঙ্গীভূত আনসারের জনবল ছিল প্রায় ৪৯ হাজার। বর্তমানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনের সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় তা প্রায় ৫৮ হাজারে পৌঁছেছে। দেশের সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অঙ্গীভূত আনসার মোতায়েনের ফলে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন জেলার সদস্যদের নিজ এলাকায় বা কাছাকাছি স্থানে কাজের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
শ্রমিক আন্দোলন প্রসঙ্গে ডিজি বলেন, শ্রমিক আন্দোলন মোকাবেলায় আগের দিন একটি প্লাটুন মোতায়েন করা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার আরো চারটি প্লাটুন মোতায়েন করা হয়। আনসার সদস্যদের আত্মরক্ষার ব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে ডিজি বলেন, তুরস্কের জেন্ডারমেরি দলের প্রশিক্ষণের আওতায় আনসার সদস্যদের দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। এ জন্য প্রয়োজনীয় দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ সরঞ্জাম ও আত্মরক্ষার উপকরণ রয়েছে। 
প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশে ডিজি বলেন, প্রশিক্ষণ শেষে তারা বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর গর্বিত সদস্য। এই পরিচয় শুধু সম্মানের নয়, রাষ্ট্র ও জনগণের প্রতি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বেরও। সততা, নিষ্ঠা, শৃঙ্খলা, নিরপেক্ষতা ও মানবিকতার সাথে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে দেশের মানুষের আকাক্সক্ষা পূরণে কাজ করতে হবে।
গত ৬ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া ৬০ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণে অনুমোদিত ৬৯২ জনের মধ্যে ৬৫৪ জন অংশ নেন। তাদের মধ্যে ৬২৭ জন সফলভাবে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন।