
রযটার্স
বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ছাড়াই একটি নতুন সরকার গড়ার সুযোগ খুঁজছে থাকা তার প্রতিদ্বন্দ্বীরা বলেছেন, ইসরাইলের প্রতি আমেরিকানদের কয়েক প্রজন্ম ধরে চলে আসা দ্বিদলীয় সমর্থনকে নষ্ট করেছেন তিনি। এর প্রমাণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয়কে তুলে ধরেছেন তারা।
গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেট এবং নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ, উভয়কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। এটি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য একটি বড় ধরনের ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের অজনপ্রিয় যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন জনগণের গভীর হতাশা এর পেছনে আংশিকভাবে দায়ী বলে মনে করা হচ্ছে। ইসরাইলের পার্লামেন্ট নির্বাচনের এক সপ্তাহ পর যুক্তরাষ্ট্রের এই ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইসরাইলের নির্বাচনে নেতানিয়াহুর ডানপন্থী জোট পার্লামেন্টে তাদের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালেও ফলাফলে তারাই এগিয়ে রয়েছে। এ কারণে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোটের পক্ষে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করা সহজ হচ্ছে না। পরবর্তী সরকার গঠনের জন্য দুই নেতার মধ্যে কাকে দায়িত্ব দেয়া হবে, সে বিষয়ে ইসরাইলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ বিভিন্ন দলের প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনা করছেন। এই সময় পর্যন্ত নেতানিয়াহু একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
দীর্ঘ দিনের মিত্রের প্রতি মার্কিন সমর্থন নড়বড়ে
যুক্তরাষ্ট্র দশকের পর দশক ধরে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান, উভয় দলের প্রেসিডেন্টদের অধীনেই ইসরাইলের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য মিত্র হিসেবে কাজ করেছে। ওয়াশিংটন ১৯৭০-এর দশক থেকে প্রতি বছর ইসরাইলকে শত শত কোটি ডলারের সামরিক সহায়তা দিয়ে এসেছে। কিন্তু ইসরাইলের বিগত সরকারগুলোর নেতারা যুক্তরাষ্ট্রে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান, উভয় দলের সাথে সমান সম্পর্ক বজায় রাখলেও, নেতানিয়াহু প্রকাশ্যেই রিপাবলিকানদের সমর্থন করেছেন।
২০২৩ সালে ইসরাইল গাজায় গণহত্যামূলক সামরিক অভিযান শুরু করলে ডেমোক্র্যাট এবং কিছু রিপাবলিকান নেতার মধ্যে ইসরাইলের প্রতি সমর্থন নড়বড়ে হতে শুরু করে। আর চলতি বছর ট্রাম্প এবং নেতানিয়াহু যৌথভাবে ইরানের ওপর হামলার নির্দেশ দেয়ার পর এই সমর্থন আরো কমতে শুরু করে।
কিছু ডেমোক্র০্যাট প্রার্থী ইসরাইলে মার্কিন সামরিক সহায়তার সমালোচনাকে তাদের নির্বাচনী প্রচারণার প্রধান অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছেন। মঙ্গলবার (নির্বাচনের দিন), ট্রাম্প ইসরাইলকে দেয়া বার্ষিক ৪০০ কোটি ডলারের অর্থায়ন বন্ধ করার ঘোষণা দেন। ট্রাম্পের মতে, এই পদক্ষেপটি ডেমোক্র্যাটদের একটি ‘খারাপ রাজনৈতিক হাতিয়ার’ কেড়ে নেবে। কিন্তু তিনি এতদিন নেতানিয়াহুকে সমর্থন দিয়ে এসেছেন।
আইজেনকোট বুধবার বলেছেন, তার নেতৃত্বে ইসরাইল ওয়াশিংটনের সাথে সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত করবে। এক্সে তিনি লিখেছেন, ‘আমরা এই অংশীদারিত্বকে নতুন ও গভীর করব। বহু বছর ধরে যার ওপর এই সম্পর্ক টিকে ছিল সেই দ্বিদলীয় ভিত্তিকে শক্তিশালী করব এবং সামগ্রিকভাবে পশ্চিম এশিয়ার উন্নয়নে কাজ করব।’ ইসরাইলের মধ্য-বামপন্থী বিরোধী দল ‘ডেমোক্র্যাটস’-এর প্রধান ইয়ার গোলান এক্স-এ বলেছেন, ‘ডেমোক্র্যাট এবং রিপাবলিকান উভয়পক্ষের কাছেই নেতানিয়াহু কতটা ক্ষতিকর হয়ে উঠেছেন মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল তাই প্রকাশ করেছে।’
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








