আমদানিনির্ভরতা কমাতে সহনশীল সয়াবিন উদ্ভাবনে যৌথ গবেষণা
গাকৃবিতে জাপানের সংস্থা জিরকাসের সাথে গবেষণা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় : নয়া দিগন্ত।

গাজীপুর মহানগর প্রতিনিধি

Advertisement

দেশের সয়াবিন উৎপাদন বাড়িয়ে আমদানি নির্ভরতা কমানো এবং খাদ্য ও প্রাণিখাদ্য নিরাপত্তা জোরদারে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলছে বাংলাদেশ-জাপানের যৌথ গবেষণা উদ্যোগ। জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই সয়াবিন উৎপাদন প্রযুক্তি উদ্ভাবনে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (গাকৃবি) এবং জাপানের আন্তর্জাতিক কৃষিবিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্রের (জিরকাস) মধ্যে গবেষণা সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এ গবেষণার আওতায় রোগ প্রতিরোধী সয়াবিনের জাত উদ্ভাবন, রোগের বিস্তার ও প্রকৃতি নির্ণয় এবং প্রয়োজনভিত্তিক ছত্রাকনাশক ব্যবহারের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব রোগ ব্যবস্থাপনা প্রযুক্তি গড়ে তোলা হবে।
গত বুধবার গাকৃবির ভিসির কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. জি কে এম মোস্তাফিজুর রহমান এবং জিরকাসের প্রোগ্রাম পরিচালক ড. কেইসুকে ওমোরি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এ সময় জিরকাসের জ্যেষ্ঠ গবেষক ড. ইয়ামানাকা নাওকি ও ড. সাসাকি কাজুহিরো, গাকৃবির পরিচালক (গবেষণা) প্রফেসর ড. মো: মসিউল ইসলাম, প্রকল্পের প্রধান গবেষক প্রফেসর ড. মো: মোতাহের হোসেন, পরিচালক (আইকিউসি) প্রফেসর ড. নাসরীন আক্তার আইভী এবং জেনেটিক্স অ্যান্ড প্ল্যান্ট ব্রিডিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. লিয়াকত আলী উপস্থিত ছিলেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, দুই প্রতিষ্ঠানের এক দশকেরও বেশি সময়ের গবেষণা সহযোগিতার ধারাবাহিকতায় এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। যৌথ গবেষণার অন্যতম লক্ষ্য এশিয়ান সয়াবিন রাস্ট ও সারকোস্পোরা লিফ ব্লাইট রোগের বিস্তার, রোগজীবাণুর বৈশিষ্ট্য, ছত্রাকনাশকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধক্ষমতা এবং কৃষকের প্রচলিত রোগ ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি বিশ্লেষণ করা। এসব গবেষণার মাধ্যমে সয়াবিনের রোগ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ও বিজ্ঞানভিত্তিক কৌশল নির্ধারণ করা হবে। পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় ছত্রাকনাশকের ব্যবহার কমিয়ে উৎপাদন ব্যয় ও পরিবেশগত ক্ষতি হ্রাসের উপায় খোঁজা হবে।
গবেষণার আওতায় জিরকাস ও দক্ষিণ আমেরিকার সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্ভাবিত জিনগতভাবে পরিবর্তিত নয় (নন-জিএম) এমন রোগ প্রতিরোধী সয়াবিনের জাত বাংলাদেশের পরিবেশে মাঠপর্যায়ে পরীক্ষা করা হবে। এসব জাতের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা, স্থানীয় কৃষি-পরিবেশে অভিযোজন এবং বাণিজ্যিক নিবন্ধনের সম্ভাবনাও যাচাই করা হবে। উপযোগী জাত পাওয়া না গেলে বাংলাদেশের কৃষি-পরিবেশের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নতুন রোগ প্রতিরোধী জাত উদ্ভাবনে প্রজনন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। একই সাথে সমন্বিত রোগ ব্যবস্থাপনার অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত সুফল মূল্যায়ন করা হবে।
চুক্তি সম্পর্কে গাকৃবির ভিসি প্রফেসর ড. জি কে এম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সয়াবিন মানুষের পুষ্টি চাহিদা পূরণ এবং প্রাণিখাদ্য উৎপাদনে প্রোটিনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎস। দেশের ক্রমবর্ধমান প্রোটিনের চাহিদা পূরণে সয়াবিন উৎপাদন বৃদ্ধি ও আমদানি নির্ভরতা কমানো এখন সময়ের দাবি।