কতটুকু প্রস্তুত বাংলাদেশ

 ক্রীড়া প্রতিবেদক
আট বছর পর আবার বাংলাদেশের মাটিতে ফিরছে দক্ষিণ এশীয় ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। শিরোপার লড়াইয়ে নামছে ছয় দেশ। স্বাগতিক হিসেবে বাংলাদেশের সামনে রয়েছে ঘরের মাঠে শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের সুযোগ। অথচ টুর্নামেন্ট শুরুর ঠিক আগ মুহূর্তে ঢাকার রাজপথ থেকে ফুটবলপ্রেমীদের আলোচনায় প্রত্যাশিত উত্তাপের দেখা নেই। মাঠ প্রস্তুত হচ্ছে, দলগুলোও এসে গেছে, কিন্তু কোথায় সেই ফুটবল উৎসবের আবহ?
আজ ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে শুরু হচ্ছে ২০২৬ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। সূচি অনুযায়ী, উদ্বোধনী দিনে পাকিস্তান ও ভারতের ম্যাচের পর রাতে ভুটানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। ১১ নভেম্বর গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা। দুই গ্রুপের সেরা দু’টি দল উঠবে সেমিফাইনালে। ১৪ নভেম্বর শেষ চারের লড়াই এবং ১৭ নভেম্বর ফাইনাল। ২০১৮ সালের পর আবারো এই প্রতিযোগিতার আয়োজক বাংলাদেশ। সাথে রয়েছে ভারত, পাকিস্তান, মালদ্বীপ, ভুটান ও শ্রীলঙ্কা। দীর্ঘ বিরতির পর এমন একটি টুর্নামেন্ট আয়োজনের সুযোগ পেলেও প্রচার-প্রচারণার ঘাটতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সাধারণত বড় কোনো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের আগে আয়োজকরা দেশজুড়ে তৈরি করে উৎসবের আবহ। শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ব্যানার, ফেস্টুন, প্রচারণামূলক অনুষ্ঠান কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আয়োজন চোখে পড়ে। কিন্তু এবারের সাফকে ঘিরে ঢাকায় সেই পরিচিত দৃশ্য খুব একটা চোখে পড়ছে না। ট্রফি উন্মোচন কিংবা থিম সংয়ের প্রচারও সাধারণ দর্শকের কাছে প্রত্যাশিত মাত্রায় পৌঁছায়নি। টিকিটের দাম নিয়েও রয়েছে অসন্তোষ। সাধারণ গ্যালারির টিকিটের সর্বনি¤œ মূল্য এক হাজার টাকা হওয়ায় অনেক দর্শকের মাঠে যাওয়ার সিদ্ধান্ত সহজ হচ্ছে না।
আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি যে একেবারে হয়নি, বিষয়টি তেমন নয়। গত ২৫ জুলাই ঢাকায় জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে টুর্নামেন্টের লোগো ও পরিচিতি উন্মোচন করা হয়। পরে সেপ্টেম্বর মাসে সাফ বাণিজ্যিক ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দেয় বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠান টিএসএ স্পোর্টস অ্যান্ড এন্টারটেইনমেন্টকে। সম্প্রচার সহযোগী হিসেবে যুক্ত হয়েছে টি-স্পোর্টস এবং টিকিট বিক্রির দায়িত্ব পেয়েছে টিকিফাই। আয়োজনের কাঠামো তৈরি হয়েছে, কিন্তু সেই আয়োজনের প্রচার সাধারণ ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে কতটা পৌঁছেছে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন!
টুর্নামেন্টের বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপনা ও প্রচারের দায়িত্ব একাধিক প্রতিষ্ঠানের হাতে থাকলেও দর্শক টানার ক্ষেত্রে সমন্বিত উদ্যোগ কতটা দৃশ্যমান, তা নিয়ে আলোচনা রয়েছে। আট বছর পর দেশের মাঠে সাফ আয়োজনের সুযোগকে ঘিরে যে বিপণন ও প্রচারণার প্রত্যাশা ছিল, বাস্তবে তা ধুসর।

Advertisement