
নিজস্ব প্রতিবেদক
বিরোধী দলের চরিত্রহনন ও প্রতিবাদী কণ্ঠ দমনের চেষ্টা না করে নিজেদের ব্যর্থতা কাটিয়ে জনগণের সমস্যা সমাধানে সরকারকে মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, জনগণের অধিকার জনগণের হাতে ফিরে না আসা পর্যন্ত লড়াই অব্যাহত থাকবে। অতীতের মতো স্বৈরাচারী কায়দায় প্রতিবাদী কণ্ঠ স্তব্ধ করার চেষ্টা বাংলাদেশে আর সফল হবে না।
গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে, সাবেক সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব:) আখতারুজ্জামানের কারামুক্তি উপলক্ষে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকারের ব্যর্থতা, অযোগ্যতা ও অদক্ষতা আড়াল করতে বিরোধী দলকে অপপ্রচারের লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। বিরোধী দলের চরিত্রহননের চেষ্টা বাদ দিয়ে সরকারের উচিত নিজেদের ব্যর্থতা কাটিয়ে ওঠা এবং মানুষের দুঃখ-দুর্দশা দূর করা। জনগণের সমস্যা সমাধান করতে পারলে জনগণই সরকারকে সমর্থন করবে।
জামায়াত আমির বলেন, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে মামলা, রিমান্ডে নেয়া এবং জামিনের ক্ষেত্রে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দীর্ঘদিনের অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও যাত্রী হয়রানির প্রতিবাদ করতে গিয়ে তাকে কারাভোগ করতে হয়েছে। তিনি সাধারণ যাত্রী ও প্রবাসীদের অধিকারের পক্ষে কথা বলেছিলেন। প্রতিবাদের ভাষা কঠিন হলেও তিনি কারো গায়ে হাত দেননি।
তিনি বলেন, বিমানবন্দরে লাগেজ পেতে দীর্ঘসময় অপেক্ষা, ট্রলির সঙ্কট, লাগেজ থেকে মালামাল চুরি এবং অন্যান্য অব্যবস্থাপনা নিয়ে মেজর আখতারুজ্জামান প্রতিবাদ করেছিলেন। তার বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধা দেয়া ও সরকারি কর্মকর্তার গায়ে হাত তোলার অভিযোগে মামলা করা হয় তা ছিল মিথ্যা।
বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, মেজর আখতারুজ্জামানের প্রতিবাদের পর বিমানবন্দরের দু’জন কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। দুই দফায় ৩০০টি নতুন ট্রলি সংযোজন করা হয়েছে। লাগেজ ব্যবস্থাপনায় ক্যামেরা স্থাপন এবং গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের দায়িত্বে থাকা কর্মীদের শরীরে বডি ক্যামেরা যুক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে যাত্রীরা ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যে লাগেজ পাচ্ছেন বলে তিনি দাবি করেন। তার মতে, এসব উদ্যোগের সুফল এখন সাধারণ যাত্রী ও প্রবাসীরা পাচ্ছেন।
তিনি আরো বলেন, মেজর আখতারুজ্জামানের গ্রেফতারের প্রতিবাদে দেশের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশে প্রবাসীরাও সভা-সমাবেশ, মিছিল করেছেন। জনগণের অধিকার নিয়ে কথা বলার কারণে কারো কণ্ঠ স্তব্ধ করার চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়। কোনো রক্তচক্ষুকে ভয় না পেয়ে শুধু মহান আল্লাহকে ভয় করে অধিকার আদায়ের সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে নিজের কারাভোগের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে মেজর (অব:) আখতারুজ্জামান বলেন, বিমানবন্দরে প্রবাসীদের সাথে দুর্ব্যবহার, অবমূল্যায়ন ও হয়রানির প্রতিবাদ করায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জনগণের পক্ষে কথা বলার কারণে মামলা হলে আপত্তি নেই। তবে গ্রেফতারের পর রিমান্ডে নেয়ার কারণ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তিনি বলেন, রিমান্ডে নিয়ে চোখ বেঁধে জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক কার্যক্রম সম্পর্কে প্রশ্ন করায় তিনি ক্ষুব্ধ হয়েছেন।
মেজর আখতার বলেন, কোনো রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম, নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের এখতিয়ার নেই। অপরাধ সংঘটিত হলে পুলিশ তদন্ত করবে, অপরাধীদের জিজ্ঞাসাবাদ করবে। কিন্তু রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা পুলিশের দায়িত্ব নয়। রিমান্ডে তাকে বিএনপি ছেড়ে আসার কারণ সম্পর্কেও প্রশ্ন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
তিনি আরো বলেন, বিমানবন্দর থানায় করা মামলাটি আদালতে উপস্থাপনের পর তদন্ত করে প্রতিবেদন দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। এরপরও ডিবি পুলিশ তার বাসায় গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। নি¤œ আদালতে জামিন না পেয়ে উচ্চ আদালতে যেতে হয়েছে এবং সেখানে জামিন পাওয়ার পরও বিষয়টি চেম্বার আদালতে নেয়া হয়েছে। এসব ঘটনায় তিনি দেশের আইনশৃঙ্খলা ও বিচারব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সমালোচনা করে আখতারুজ্জামান বলেন, এভাবে দেশ পরিচালনা করতে চাইলে জনগণ তা মেনে নেবে না। দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার স্বার্থে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা ও কর্মকাণ্ড পর্যালোচনার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
মুক্তির দাবিতে সমর্থন জানানোর জন্য দেশবাসী, প্রবাসী বাংলাদেশী ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন মেজর (অব:) আখতারুজ্জামান। অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতারা ও বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে ১০টায় কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তির পর তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও সংবর্ধনার মাধ্যমে বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব:) আখতারুজ্জামানকে বরণ করে নেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কেন্দ্রীয় ও মহানগরীর নেতৃবৃন্দ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসেন, ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিন, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি, ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান, ঢাকা জেলা আমির দেলোয়ার হোসেন, ঢাকা দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি কামাল হোসেন এমপি, জয়নাল আবেদীন এমপি, আইনজীবী রুকন রেজাসহ অন্যান্য নেতাকর্মী।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








