৮৯ বছর পর মিলল বিষধর বানর প্রজাতির প্রাণী

 নয়া দিগন্ত ডেস্ক 

Advertisement

ইন্দোনেশিয়ার বাংকা দ্বীপে প্রায় ৮৯ বছর পর বিরল প্রজাতির এক বিষধর প্রাইমেট বা বানরজাতীয় প্রাণীর সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। ‘বাংকা স্লো লরিস’ নামের নিশাচর এই প্রাণীটি বিশ্বের একমাত্র বিষধর প্রাইমেট। ১৯৩৭ সালের পর বিজ্ঞানীদের কাছে এটির আর কোনো তথ্য না থাকায় ধারণা করা হয়েছিল, প্রাণীটি বিলুপ্ত হয়ে গেছে।
সম্প্রতি একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ২০১৫ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বাংকা দ্বীপের বিভিন্ন স্থানে ৯০টিরও বেশি বাংকা স্লো লরিসের উপস্থিতি রেকর্ড করা হয়েছে। এদের অনেককেই বাড়ির পেছনে, রাস্তার পাশে এবং বিদ্যুতের তারে দেখা গেছে। তবে এদের অনেকেই ছিল আহত। আলোবি ওয়াইল্ডলাইফ রেসকিউ সেন্টার আহত প্রাণীগুলোকে উদ্ধার করে চিকিৎসা শেষে ৮৬টিকে আবার প্রকৃতিতে ছেড়ে দিয়েছে।
বাংকা স্লো লরিস সাধারণত গাছে বাস করে এবং এদের ইন্দোনেশিয়ার বাংকা, সুমাত্রা ও বোর্নিও দ্বীপে দেখা যায়। বড় চোখের ছোট এই প্রাণীটি দৈর্ঘে গড়ে প্রায় ১০ ইঞ্চির মতো হয়ে থাকে। এদের হাতে একটি বিশেষ গ্রন্থি থাকে, যা চাটলে বিষ সক্রিয় হয়। এই বিষ মানুষের শরীরে মারাত্মক অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া (অ্যানাফিল্যাকটিক শক) সৃষ্টি করতে পারে। সাধারণত অন্য লরিসদের কাছ থেকে নিজেকে রক্ষায় এটি এই বিষ ব্যবহার করে।
জনবসতির এত কাছাকাছি থাকার পরও প্রাণীটি দীর্ঘদিন বিজ্ঞানীদের নজরে না আসায় অবাক হয়েছেন গবেষক টিমন গ্ল। তিনি জানান, এই আবিষ্কার আশা জাগাচ্ছে, এমন আরো অনেক প্রাণী হয়তো টিকে আছে, যেগুলো দীর্ঘকাল ধরে বিজ্ঞানীদের চোখের আড়ালে রয়েছে।
তবে নতুন করে সন্ধান পাওয়া গেলেও বাংকা স্লো লরিস এখনো বিলুপ্তির চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। আলোবি ওয়াইল্ডলাইফ রেসকিউ সেন্টারের পরিচালক লংকা সানি জানান, অবৈধ টিন খনি ও পাম তেল বাগানের জন্য ব্যাপকভাবে বন উজাড় হওয়ায় এদের বাসস্থান মারাত্মকভাবে কমে গেছে। ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচারের (আইইউসিএন) লাল তালিকায় প্রাণীটিকে বর্তমানে চরম বিপন্ন হিসেবে দেখানো হয়েছে। বিজ্ঞানীদের মতে, প্রাণীটিকে বাঁচাতে গবেষণা, জরিপ ও বাসস্থান সুরক্ষাসহ দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণের পদক্ষেপ নেয়া জরুরি।