
সংসদ প্রতিবেদক
বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে সংসদীয় সম্পর্ক জোরদার, সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ গঠন এবং দুই দেশের সংসদীয় প্রতিনিধি দলের সফর বিনিময়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম। একই সাথে পাকিস্তানের আইনসভা মজলিস-ই-শূরায় বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশিক্ষণের বিষয়েও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।
গতকাল রোববার জাতীয় সংসদ ভবনে স্পিকারের কার্যালয়ে ঢাকায় নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়।
সাক্ষাৎকালে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ তানজানিয়ায় অনুষ্ঠিত ১৫৩তম ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) সম্মেলনে আইপিইউর নির্বাহী কমিটির সদস্য পদে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ব্যারিস্টার জহরত আদিব চৌধুরীকে সমর্থন করায় পাকিস্তান সরকারকে ধন্যবাদ জানান।
এ সময় স্পিকার আসন্ন জাতীয় সংসদ অধিবেশন পর্যবেক্ষণের জন্য পাকিস্তানের হাইকমিশনারকে আমন্ত্রণ জানান। দুই দেশের সংসদীয় কার্যক্রম সম্পর্কে পারস্পরিক অভিজ্ঞতাবিনিময় এবং সম্পর্কোন্নয়নে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আলোচনায় গুরুত্ব পায়।
উল্লেখ্য, পাকিস্তানের স্পিকারের আমন্ত্রণে আগামী ২৩ নভেম্বর পাকিস্তান সফর করবেন বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম। এ সফরকে দুই দেশের সংসদীয় পর্যায়ে যোগাযোগ ও সহযোগিতা বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সাক্ষাৎকালে পাকিস্তান হাইকমিশনের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
স্পিকারের সাথে রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ
সমুদ্র উপকূলে তেল-গ্যাস উত্তোলনে নরওয়েকে বিনিয়োগের আহ্বান
বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলীয় এলাকায় তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান এবং উত্তোলনে নরওয়ের কোম্পানিগুলোকে বিনিয়োগ করার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। রোববার সংসদ ভবনে নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হাকন আরাল্ড গুলব্রান্ডসেনের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ আহ্বান জানান।
সাক্ষাৎকালে দুই দেশের মধ্যে সংসদীয় সম্পর্ক জোরদার, সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ গঠন, সংসদীয় প্রতিনিধি দলের সফর বিনিময়, মানবাধিকার সুরক্ষা, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন এবং বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতাসহ বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
স্পিকার বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের পর থেকেই বাংলাদেশ ও নরওয়ে একে অপরের বিশ্বস্ত বন্ধু। নরওয়ে বিশ্বের অন্যতম গণতান্ত্রিক দেশ এবং বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের বিকাশ ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপদানে দেশটি শুরু থেকেই সহযোগিতা দিয়ে আসছে।
ফ্যাসিস্ট হাসিনার শাসনামল প্রসঙ্গে স্পিকার বলেন, বিগত স্বৈরাচারী শাসনের কারণে দেশের জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার মারাত্মকভাবে ক্ষুণœ হয়েছিল। প্রহসনের নির্বাচনের মাধ্যমে সংসদীয় গণতন্ত্রকে অবরুদ্ধ করা হয় এবং গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে দেশে এক ত্রাসের পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল। এ সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাদের কারাবরণ করতে হয়েছে।
তিনি আরো উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সেই শাসনের অবসান ঘটে। এর ধারাবাহিকতায় অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হিসেবে বিবেচিত। বর্তমান সরকার দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক আকাক্সক্ষা পূরণে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।
মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয়ে স্পিকার বলেন, বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার রক্ষায় বাংলাদেশ সবসময়ই সোচ্চার। মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে নিরাপদে ফেরাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সক্রিয় সমর্থন প্রয়োজন। নরওয়েসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো এতে জোরালো ভূমিকা রাখতে পারে।
নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হাকন আরাল্ড গুলব্রান্ডসেন জাতিসঙ্ঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশী শান্তিরক্ষীদের ভূমিকা অনন্য। নরওয়ে সবসময় বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্র ও মানবাধিকার সুরক্ষায় পাশে থাকতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বৈঠকে নোবেল শান্তি পুরস্কার, চলমান সংবিধান সংশোধন কমিটির কার্যক্রম এবং জুলাই সনদ নিয়েও মতবিনিময় হয়। এতে নরওয়ে দূতাবাসের কর্মকর্তা এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








