বঙ্গোপসাগরে আরেকটি ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসুর’ আঘাত হানবে ভারতে

নিজস্ব প্রতিবেদক
অর্ণবের তাণ্ডবের ঠিক এক সপ্তাহ পর বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হয়েছে আরো একটি ঘূর্ণিঝড়। নাম মুরাসুর। এটি যাচ্ছে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের দিকে। ভারতের আবহাওয়া বিভাগের সতর্ক বার্তায় জানানো হয়েছে আজ সোমবার কোনো এক সময় তীব্র ঘূর্ণিঝড় হিসেবে দক্ষিণ উপকূল অতিক্রম করতে পারে। স্থলভাগে আঘাত হানার সময় বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১১০ কিলোমিটার এবং দমকা হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। উল্লেখ্য, মুরাসুর ভারতীয় তামিল ভাষার একটি নাম। এর অর্থ ঢোল, ড্রাম অথবা রণঢাক। প্রাচীনকালে তামিলনাড়ু বা ওই অঞ্চলে যুদ্ধের বার্তা কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগের কোনো গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়ার জন্য বিশেষ ধরনের বাদ্যযন্ত্র বা রণঢাক বাজানো হতো। সেই রণঢাক থেকেই বর্তমান ঘূর্ণিঝড়টির নামকরণ করা হয়েছে বলে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম লিখেছে। 
এর আগে বঙ্গোপসাগরে আরো একটি ঘুর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ সৃষ্টি হয়ে সেই ভারতের উপকূলেই আঘাত হানে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে এটি দ্বিতীয় ঘূর্ণিঝড়। সাধারণত অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে বঙ্গোপসাগরে একটি থেকে তিনটি নিম্নচাপ হয়ে থাকে। তা থেকে কোনো কোনো সময় ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হয়ে থাকে, আবার ঘূর্ণিঝড় হওয়ার আগেই তা সাগরেই দুর্বল হয়ে যায়। আবার বাংলাদেশে নভেম্বর মাসে ঐতিহাসিক কিছু ঝড় হয়ে গেছে। এর মধ্যে ১৯৭০ সালে সংঘটিত ভোলা ঝড়ে পাঁচ লাখের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। অন্যদিকে ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর ঘূর্ণিঝড় সিডর আঘাত হানে সাতক্ষীরা ও বাগেরহাটসহ সংলগ্ন এলাকায়। 
কানাডার সাসকাচোয়ার বিশ^বিদ্যালয়ের আবহাওয়া গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ জানিয়েছেন, পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড় মুরাসুর বাংলাদেশের উপকূলে আঘাত হানার কোনো সম্ভাবনা নেই। ঘূর্ণিঝড়টি পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ৩ নভেম্বর সকালে ভারতের দক্ষিণ অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের নেল্লোর ও নারসাপুরের মধ্যবর্তী এলাকা অতিক্রম করার সম্ভাবনা রয়েছে। এর প্রভাবে অন্ধ্রপ্রদেশ ও তামিলনাড়ুর বিভিন্ন এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত এবং ঝড়ো হাওয়া হতে পারে। ফলে বর্তমান পূর্বাভাস অনুযায়ী বাংলাদেশের ওপর এই ঘূর্ণিঝড়ের উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা খুবই কম। তবে আবহাওয়া কিছুটা মেঘলা থাকতে পারে, কিছুটা বৃষ্টি হতে পারে। 
গতকাল সন্ধ্যায় বাংলাদেশের আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, ঘুর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা গতিবেগ ঘন্টায় ৬২ কিলোমিটার এবং দমকা ও ঝড়ো হাওয়ার আকারে ৮৮ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর খুবই উত্তাল রয়েছে। বাংলাদেশের চার সামুদ্রিক বন্দরের জন্য ১ নং দূরবর্তী সতর্ক সঙ্কেত নামিয়ে ২ নং দুরবর্তী সতর্ক সঙ্কেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত মাছ ধরার সব নৌকা ও ট্রলারকে উপকূলের কাছাকাছি এসে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।  

Advertisement