৯ মাসে ৭১.৬৭১ মিলিয়ন কেজি ছাড়াল চায়ের উৎপাদন

পটিয়া-চন্দনাইশ (চট্টগ্রাম) সংবাদাতা
চলতি মৌসূমের শুরুতে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যথাযথ তদারকিসহ বিভিন্ন উদ্যোগে দেশে চায়ের উৎপাদন ৯ মাসে ৭১.৬৭১ মিলিয়ন কেজি ছাড়িয়েছে। যা গত ২০২৫ ও ২০২৪ মৌসুমের চেয়ে গড়ে ১০ মিলিয়ন কেজি বেশি। 
দেশে ২০২৫ মৌসুমের ৯ মাসে চা উৎপাদন হয়েছিল ৬০.৯৬৭ মিলিয়ন কেজি এবং ২০২৪ মৌসুমের ৯ মাসে ৬১.৭৬৩ মিলিয়ন কেজি। 
গত ৯ মাসের উৎপাদনের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে চলতি মৌসুমে দেশে চায়ের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে চা উৎপাদন হয়েছে ১৩.৭৫৭ মিলিয়ন কেজি। এ ছাড়া আগস্টে ১৫.১৩৯ মিলিয়ন কেজি, জুলাইয়ে ১২.১৪৪ মিলিয়ন কেজি, জুনে ১২.৪০৫ মিলিয়ন কেজি, মে মাসে ৯.১৫৩ মিলিয়ন কেজি। এ ছাড়া খড়ার মধ্যেও এপ্রিলে ৫.৯১৮ মিলিয়ন কেজি, মার্চে ২.৫৫৮ মিলিয়ন কেজি, ফেব্রুয়ারিতে ০.০২৪ মিলিয়ন কেজি এবং জানুয়ারিতে ০.৫৭৩ মিলিয়ন কেজি চা উৎপাদন হয়েছিল।  
জানা গেছে, চলতি মৌসুমে চায়ের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১০৪.০০ মিলিয়ন কেজি। তার বিপরীতে ৯ মাসে যে পরিমাণ চা উৎপাদন হয়েছে তাতে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার আশা করা হচ্ছে। 
গত বছর (২০২৫) ১০৩ মিলিয়ন কেজি লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে উৎপাদন হয়েছিল ৯৪.৯২৭ মিলিয়ন কেজি। একইভাবে ২০২৪ মৌসুমে ১০৮ মিলিয়ন কেজির বিপরীতে উৎপাদন হয়েছিল ৯৩.০৪২ মিলিয়ন কেজি। ওই দুই মৌসুমে জানুয়ারি থেকে টানা মে পর্যন্ত টানা ৫ মাস অনাবৃষ্টি ও প্রচণ্ড খরায় বাগানগুলোতে উৎপাদনে হ্রাস পাওয়ায় চা উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি। 
বাংলাদেশ চা বোর্ডের যুগ্ম সচিব (গবেষণা ও উন্নয়ন) মোহাম্মদ মেয়াজ্জেম হোসাইন চলতি মৌসুমের ৯ মাসে উৎপাদনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, এ ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে বছর শেষে আশাকরি চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে।
মৌসুমের প্রথম দিনে ১০ মেট্রিকটন লবণ উৎপাদন
এদিকে চলতি মৌসুমের (২০২৬-২০২৭) লবণ উৎপাদন শুরু হয়েছে গতকাল (১ নভেম্বর)। প্রথম দিনে ১০ জন চাষির শ্রমে প্রায় ১০ মেট্রিকটন লবণ উৎপাদন হয়েছে। 
গত রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিসিক লবণ প্রকল্পের মহাব্যবস্থাপক জাফর ইকবাল ভূঁইয়া। তিনি জানান, কতুবদিয়ার লেমশিখালী ধুরং ও উত্তর ধুরংয়ের ১০ জন চাষি মাঠ থেকে ১০ টন লবণ উত্তোলন করেছে বলে   নিশ্চিত হওয়া গেছে।
তিনি আরো জানান, চলতি মৌসুমে অপরিশোধিত লবণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫ লাখ ৩৪ হাজার মেট্রিকটন এবং পরিশোধিত লবণের চাহিদা নির্ধারণ করা হয়েছে ২১.০৩ মেট্রিকটন। চাহিদার পরিশোধিত লবণের মধ্যে রয়েছে ভোজ্য লবণ ৭.৫ মেট্রিকটন, শিল্পখাতে ৯.৫৬ মেট্রিকটন, মৎস্যখাতে ০,৩৭২ মেট্রিকটন এবং প্রাণিসম্পদ খাতে ৩.৬ মেট্রিকটন। এদিকে গতকাল পর্যন্ত দেশে চাষিদের কাছে প্রায় দুই লাখ ৫০ হাজার মেট্রিকটন লবণ মজুদ ছিল বলে জানা গেছে।

Advertisement