
আলজাজিরা
অধিকৃত পশ্চিম তীরে উগ্র বসতি স্থাপনকারীদের পাশাপাশি ইসরাইলের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও সরকারের ওপরও সর্বাত্মক নিষেধাজ্ঞা আরোপের জোরালো দাবি তুলেছেন ব্রিটেনের একজন এমপি। এক নিবন্ধে ওই ব্রিটিশ আইনপ্রণেতা উল্লেখ করেন, ফিলিস্তিনিদের ওপর সংঘটিত সহিংসতা ও ভূমি গ্রাসের ঘটনাগুলো কেবল কিছু বিচ্ছিন্ন বসতি স্থাপনকারীর স্বেচ্ছাচারিতা নয়, বরং এটি সরাসরি ইসরাইল সরকারের প্রাতিষ্ঠানিক নীতির অংশ। এই বাস্তবতায় ব্রিটিশ সরকারের উচিত কালক্ষেপণ না করে আরো ব্যাপক ও কঠোর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা। গত সপ্তাহে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও অপর দুই ব্রিটিশ সংসদ সদস্যকে সাথে নিয়ে পশ্চিম তীরে প্রবেশের চেষ্টা করেন ওই এমপি। কিন্তু ইসরাইলি বাহিনী তাদের প্রায় আট ঘণ্টা আটকে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং শেষ পর্যন্ত সীমান্ত পেরিয়ে ভেতরে প্রবেশ করতে বাধা দেয়।
এ প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি দলের এই সাময়িক হেনস্তা ফিলিস্তিনিরা অবরুদ্ধ অবস্থায় প্রতিদিন যে অমানবিক দুর্ভোগ পোহায়, তার তুলনায় একেবারেই নগণ্য। গাজায় রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পাশাপাশি পশ্চিম তীরেও ফিলিস্তিনিদের অস্তিত্ব নিশ্চিহ্ন করার সুদূরপ্রসারী ও মন্থর জাতিগত নিধন অভিযান চলছে। নিবন্ধে স্মরণ করিয়ে দেয়া হয় যে, ইসরাইলের উগ্র অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ গত মাসেই অধিকৃত পশ্চিম তীরে গাজার আদলে সামরিক অভিযান চালানোর প্রকাশ্য আহ্বান জানিয়েছিলেন। লেখক অভিযোগ করেন, ফিলিস্তিনিদের ওপর চালানো অবর্ণনীয় নির্যাতনের নির্মম সত্যতা বিশ্ববাসীর চোখের আড়াল করতে বহুমুখী কূটকৌশল চালাচ্ছে ইসরাইল। এর অংশ হিসেবেই গত দেড় বছরে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট সদস্যদের দু’টি ভিন্ন প্রতিনিধিদলকে পশ্চিম তীরে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। এ ছাড়া গাজায় বিগত তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা ইসরাইলি আগ্রাসনে দুই শতাধিক ফিলিস্তিনি সংবাদকর্মী প্রাণ হারিয়েছেন। এমনকি গত সপ্তাহে হেবরন শহরে বাড়িঘর ধ্বংসের দৃশ্য ক্যামেরাবন্দী করতে যাওয়া গণমাধ্যমকর্মীদের ওপরও চড়াও হয়ে টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে ইসরাইলি বাহিনী।
পশ্চিম তীরের অবৈধ বসতিগুলোর ওপর সম্প্রতি ব্রিটেনের পক্ষ থেকে নতুন কিছু নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা আসায় তাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও, সেটি কার্যকর করতে ছয় মাস পর্যন্ত দীর্ঘসূত্রতা না করে অবিলম্বে তা বাস্তবায়নের তাগিদ দিয়েছেন ওই এমপি। তার মতে, কেবল বসতি স্থাপনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোই নয়, বরং এসব অবৈধ বসতিতে অর্থায়নকারী আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিমা প্রদানকারী সংস্থা এবং নজরদারি প্রযুক্তি সরবরাহের সাথে যুক্ত সব বাণিজ্যিক মাধ্যমকে নিষেধাজ্ঞার জালের ভেতর নিয়ে আসতে হবে। মূল লক্ষ্য হতে হবে এই বসতিভিত্তিক অর্থনীতির নেটওয়ার্ককে পুরোপুরি অকার্যকর করে দেয়া। পাশাপাশি, ইসরাইলে অস্ত্র রফতানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইনি ফাঁকফোকরগুলো অবিলম্বে বন্ধ করার দাবি জানিয়েছেন তিনি। বিশেষ করে, অত্যাধুনিক এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের যন্ত্রাংশ সরবরাহ এবং দখলদার বাহিনীর সামরিক প্রশিক্ষণে সহায়তাকারী বিমানগুলোর লাইসেন্স বা অনুমতি বাতিল করার জোর দাবি জানান তিনি। তার দ্ব্যর্থহীন ঘোষণা- গণহত্যা ও বর্ণবাদী নীতি বাস্তবায়নে লিপ্ত কোনো সামরিক বাহিনীর হাতে অস্ত্র তুলে দেয়া বা বিক্রি করা কোনোভাবেই নৈতিক হতে পারে না।
গাজায় মানবিক ত্রাণ সহায়তার প্রবেশে ইচ্ছাকৃতভাবে বাধা সৃষ্টির সাথে জড়িত ব্যক্তি ছাড়াও ইসরাইলি মন্ত্রীদের একটি বড় অংশের ওপর ভ্রমণসহ বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানান ওই আইনপ্রণেতা। একই সাথে অবরুদ্ধ গাজার ওপর থেকে সব ধরনের অবরোধ তুলে নেয়া এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত ভূখণ্ডটির পূর্ণাঙ্গ পুনর্গঠনের পথ সুগম করার দাবিও জানানো হয়েছে। নিবন্ধের শেষাংশে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (ওঈঔ) সুনির্দিষ্ট নির্দেশনার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলা হয়েছে, ইসরাইলের এই বেআইনি ও জবরদখলমূলক নীতি টিকিয়ে রাখতে সাহায্য করে এমন যেকোনো ধরনের বাণিজ্যিক চুক্তি ও বিনিয়োগ বন্ধ করা যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের প্রতিটি রাষ্ট্রের নৈতিক ও আইনি দায়িত্ব। ফলস্বরূপ, কেবল বিচ্ছিন্ন কিছু বসতি স্থাপনকারীর ওপর দায় চাপিয়ে ক্ষান্ত না হয়ে সরাসরি ইসরাইল রাষ্ট্রের ওপরই কার্যকর ও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা আজ সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








