
- সুপারিশমালা ধামাচাপা দিয়ে প্রকৃত দোষীকে মুক্তি দেয়ার চেষ্টার অভিযোগ
- দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন প্রকাশের আশ^াস প্রোভিসির
ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তে গঠিত তথ্য অনুসন্ধান কমিটির কার্যক্রম শেষ হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট এক শিক্ষকের দাবি। কমিটি তদন্ত শেষে সুপারিশও দিয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে এখনো সেই সুপারিশ প্রকাশ করা হয়নি। এ দিকে তদন্তের স্বার্থে দায়িত্ব থেকে এক শিক্ষককে সাময়িকভাবে সরিয়ে দেয়া ও এক শিক্ষকের চেয়ারম্যানশিপ থেকে সরিয়ে আবার বিভাগের চেয়ারম্যান করা হয়েছে। অন্যজন এখনো সাময়িক অব্যাহতিতে রয়েছেন। তদন্তের সুপারিশ প্রকাশ ও বাস্তবায়নে বিলম্বের কারণে ভোগান্তিতে পড়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন সাময়িক অব্যাহতিতে থাকা ওই শিক্ষক। তার প্রশ্ন, একই তদন্তের আওতায় থাকা দুই শিক্ষকের ক্ষেত্রে প্রশাসনের সিদ্ধান্তে এমন পার্থক্য কেন। তদন্তের সুপারিশ প্রকাশ না করেই একজনকে দায়িত্বে ফেরানোর সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
ঘটনাটি ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের। পাল্টাপাল্টি অভিযোগের ভিত্তিতে ২০২৫ সালের ২৪ এপ্রিল ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক শাপলা শিরিন ও অধ্যাপক শরীফ মজুমদারের বিরুদ্ধে ফ্যাক্টি ফাইন্ডিং কমিটি গঠিত হয়। তৎকালীন প্রোভিসি (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদের নেতৃত্বে এই তথ্য অনুসন্ধান কমিটিটি গঠন করা হয়। তদন্তের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে অধ্যাপক শাপলা শিরিন চেয়ারম্যানশিপ থেকে ও অধ্যাপক শরীফ উল্ল্যাহ মজুমদারকে একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেয়া হয়।
অধ্যাপক শরীফ উল্ল্যাহ মজুমদার জানান, কমিটির তদন্ত দীর্ঘ সময় ধরে চলে। এ সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য নেয়া হয়। বিভিন্ন নথি ও তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের ভিডিও ধারণ করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এ ছাড়াও তিনি বলেন, গত ৫ আগস্টের পর অধ্যাপক শাপলা শিরিন ও অধ্যাপক কুতুবউদ্দিনের মধ্যে অনৈতিক সম্পর্ক এবং ঘুষ লেনদেনের মাধ্যমে কুতুবউদ্দিনকে অধ্যাপক পদে নিয়োগ দেয়ার অভিযোগসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রমাণ বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে জমা দেন তিনি। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে তথ্য অনুসন্ধান কমিটি তদন্ত শুরু করে।
তিনি বলেন, তদন্তের একপর্যায়ে তার কাছ থেকে লিখিত বক্তব্য নেয়া হয়। অধ্যাপক শাপলা শিরিন, অধ্যাপক কুতুবউদ্দিন ও অধ্যাপক বাবুলের কাছ থেকেও লিখিত বক্তব্য নেয়া হয়েছে বলে কমিটির পক্ষ থেকে আমাকে জানানো হয়েছিল।
শরীফ মজুমদারের দাবি, চারজনের লিখিত বক্তব্যের বিষয়ে পবিত্র কুরআন হাতে শপথ করানো এবং বিষয়টি মনোবিজ্ঞানীদের একটি দলের মাধ্যমে পর্যালোচনা করে বিরোধের সমাধানের চেষ্টার কথাও বলা হয়েছিল।
অন্য দিকে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের যৌন নিপীড়ন ও মানসিক নির্যাতন সেলে অভিযোগ করেন অধ্যাপক শাপলা শিরিন। ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটির শেষ বৈঠকের ছয় দিন পর দেয়া ওই অভিযোগে তিনি লেখেন, ‘আমার মনে হচ্ছে তদন্ত কমিটি আমার প্রতি সুবিচার করছে না। ওই অভিযোগপত্রে নিজের মৃত্যুর জন্য বিশ^বিদ্যালয় দায়ী থাকবে বলেও উল্লেখ করেছিলেন তিনি।
অধ্যাপক শরীফ উল্ল্যাহ মজুমদার বলেন, তথ্য অনুসন্ধান কমিটির কার্যক্রম শেষের দিকে থাকার বিষয়টি ২০২৫ সালের ১৩ নভেম্বর তাকে দেওয়া বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসনের একটি চিঠিতেও উল্লেখ করা হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও কমিটির সুপারিশ প্রকাশ করা হয়নি। সুপারিশ বাস্তবায়নের বিষয়েও কোনো অগ্রগতি দেখতে পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন তিনি।
শরীফ মজুমদারের দাবি, কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ অনেক আগেই তদন্ত শেষ করে সুপারিশ দিয়েছেন। তবে সেই সুপারিশ প্রকাশ বা বাস্তবায়নের আগেই প্রশাসনের সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আসে। নতুন ভিসি হিসেবে অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম দায়িত্ব নেয়ার দুই দিন পর অধ্যাপক শাপলা শিরিনকে আবার গণিত বিভাগের চেয়ারম্যান করা হয়।
তার অভিযোগ, তদন্তের স্বার্থে সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়ার পর কমিটির সুপারিশ প্রকাশের আগেই কীভাবে অধ্যাপক শাপলা শিরিনকে একই পদে ফিরিয়ে দেয়া হলো। অন্য দিকে একই তদন্তের আওতায় থাকা অধ্যাপক আমি এখনো সাময়িক অব্যাহতিতে আছি। হিসেবমতে রিপোর্টটি প্রকাশ হয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু আমার ধারণা রিপোর্টটি প্রকাশ না করে প্রকৃত সত্য ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। অধ্যাপক শাপলা শিরিনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ আড়াল করতেই তথ্য অনুসন্ধান কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশ করা হচ্ছে না।শরীফ মজুমদারের দাবি, অধ্যাপক শাপলা শিরিনকে চেয়ারম্যান করার পর তার নেতৃত্বে বিভাগের কিছু নিয়োগ ও পদোন্নতির কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। তদন্তাধীন বিষয় নিষ্পত্তির আগে এসব সিদ্ধান্ত নেয়া কতটা যথাযথ হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
অধ্যাপক শাপলা শিরিনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে জানতে চেয়ে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তিনি ফোন ধরেননি। এমনকি এই প্রতিবেদক হোয়াটসঅ্যাপে খুদে বার্তা দিলেও তাতে তিনি জবাব দেননি।
এ বিষয়ে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের বর্তমান প্রোভিসি (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আব্দুস সালাম জানান, কমিটির কাজ প্রায় শেষের দিকে, ৫ আগস্টের পর অভিযোগ উঠা অনেক শিক্ষকের বিরুদ্ধে গঠিত ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটির কাজ শুরু হয়েছে। এতে এই কারণে সময়টা বেশি লাগছে। আশা করি দ্রুত রিপোর্ট প্রকাশের মধ্য দিয়ে বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসন সিন্ধান্তে আসতে পারবে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








