আন্তর্জাতিক ম্যাচ চান ওয়াটারপোলো খেলোয়াড়রা

 রফিকুল হায়দার ফরহাদ
একটি গোলের পরই কি আনন্দ পুলের বাইরে থাকা খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের। আর পুলে থাকারা কয়েক সেকেন্ডের জন্য গোল উৎযাপনের সময় পান। কারণ পানিতে এরচেয়ে বেশি সময় গোল উৎযাপনের সুযোগ নেই। এটি ছিল গত দুই দিনে মিরপুরের সৈয়দ নজরুল ইসলাম জাতীয় সুইমিং কমপ্লেক্সের ওয়ারাটপোলোর চিত্র। ম্যাক্স গ্রুপ জাতীয় সাঁতারের অন্যতম ইভেন্ট ওয়াটারপোলো। তবে এই ইভেন্ট নিয়ে কারো কোনো আগ্রহই নেই। মিডিয়ার কভারেজও নেই বললেই চলে। আসলে কোনো ইভেন্ট যদি আন্তর্জাতিক আসরে যুগের পর যুগ না খেলে, কোনো জাতীয় দলও যদি না থাকে তাহলে কেন তাদের প্রতি আগ্রহ থাকবে অন্যদের। এবারো হয়েছে ওয়াটারপোলো। এতে চ্যাম্পিয়ন হয়ে শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রেখেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। তারা ৮-০ গোলে হারিয়েছে বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে।
বছরের পর বছর ধরে ওয়াটারপোলো খেলে যাচ্ছেন বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা। সার্ভিসেস দলের সাথে দুই একটি ক্লাবও এই জাতীয় ওয়াটারপোলোতে অংশ নেয়। অবশ্য জেলার ক্লাবগুলোর এই অংশ গ্রহণটা নামকা ওয়াস্তে। যা কিছু চর্চা বাহিনীর দলগুলোর মধ্যেই। কিন্তু তাদের কোনো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট না থাকায় চরম হতাশা বিরাজ করছে- এই ওয়াটারপোলো খেলোয়াড়দের মধ্যে। তারা জাতীয় দলের হয়ে খেলার সম্মানটা পাচ্ছেন না। বিদেশী দলের বিপক্ষে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণেরও সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
পরশু বাংলাদেশ পুলিশ দলের বিপক্ষে জয়ের পর পুলের পাশে এসে উল্লাস করছিলেন নৌবাহিনীর খেলোয়াড়রা। এই আনন্দঘন মুহূর্তের মধ্যেও ছিল তাদের মধ্যে ভীষণ কষ্ট। যে ওয়াটারপোলোতে বাংলাদেশ ১৯৮২ সালের দিল্লি এশিয়ান গেমসে অংশ নিয়েছিল, জাপানের বিপক্ষে শুরুতেই গোল দিয়ে চমকে দিয়েছিল। সেই ওয়াটারপোলো গত দুই যুগেও কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছি। উল্লেখ্য, জাপানের বিপক্ষে শুরুতে লিড নিয়ে সেই এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ যেন ভিমরুলের চাকে ঢিল মেরেছিল। কারণ এরপর জাপানিরা বাংলাদেশকে ৩৫/৩৬ গোলে হারিয়েছিল।
নৌবাহিনীর আবদুল আলীম, রফিকুল ইসলাম, সাদ্দাম হোসেন, মাসুদ রানা ও মনিরুল ইসলামরা  আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে না পারার কষ্টে পুড়ছিলেন। মনিরুল জানান, ৩০ বছর ধরে আমরা ওয়াটারপোলো খেলছি। অথচ আমরা কখনই জাতীয় দলে খেলতে পারি না। খেলব কিভাবে, জাতীয় দলইতো গঠন করা হয় না। আবদুল আলীমের মতে, আমরা কতটুকু এগিয়েছি এই খেলায় তা পরখ করারও সুযোগ নেই আন্তর্জাতিক ম্যাচ না থাকায়। রফিকুল ইসলাম ও গোলরক্ষক ইয়াসিন  ভগ্ন হৃদয়েই বললেন, ‘ক্রীড়াঙ্গনের কিছু লোকছাড়া দেশের অন্য মানুষরা জানেই না ওয়াটারপোলো কী খেলা। কিভাবে এটা খেলে। তাই ফেডারেশনের কাছে আমাদের অনুরোধ তারা যেন আমাদের জন্য একটি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের ব্যবস্থা করে।’ তাদের মতে, আমাদের নদী মাতৃক দেশ। এ দেশে উদ্যোগ নিলেই এই খেলাকে জনপ্রিয় করা যায়। পুকুরে গোলপোস্ট বসিয়ে খেলা যায় এই খেলা। তাই চেষ্টা করলেই ওয়াটারপোলোতে ভালো করা সম্ভব।
বাংলাদেশ সাঁতার ফেডারেশন কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম তথ্য দেন, ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশে একটি আন্তর্জাতিক ওয়াটারপোলো খেলা আয়োজন করা হয়েছিল। সেই আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল বাংলাদেশ।’ ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল হক দেওয়ান সজল আশ্বাস দেন, আমরা চেষ্টা করব ওয়াটারপোলোতে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট করার। আমরা চাই এই খেলোয়াড়রাও দেশের হয়ে খেলার সুযোগ পাক।
সাধারণত যারা সাঁতারের বিভিন্ন ইভেন্টে অংশ নেন তারা এই ওয়াটারপোলোতে খেলেন না। শারীরিকভাবে সুঠাম দেহের খেলোয়াড়রাই ওয়াটারপোলোতে খেলেন। এতে বয়সের কোনো সীমা থাকে না।

Advertisement