
ক্রীড়া প্রতিবেদক
মিরপুর শেরেবাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের তৃতীয় দিন শেষে স্বস্তি ও অস্বস্তি- দু’টিই সঙ্গী বাংলাদেশের। প্রথম ইনিংসে ২৭ রানের লিড পাওয়ার পরও দ্বিতীয় ইনিংসে চরম ব্যাটিং বিপর্যয়। ৫৩ রান তুলতেই ৬ উইকেট হারিয়ে বিপাকে স্বাগতিকরা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে দিনশেষে ৭৯ রান তুলেছে বাংলাদেশ। উইকেটে লড়ছেন জাকের আলী ও নাঈম হাসান। দু’জনের ঝুলিতেই ১৮ রান করে। সব মিলে দিন শেষে ১০৬ রানের লিড নিয়ে মাঠ ছেড়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। ফলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিতে চতুর্থ দিন দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে বাংলাদেশের লেজের দিকের ব্যাটারদের।
মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথম টেস্টের তৃতীয় দিনের খেলা শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ দ্বিতীয় ইনিংসে ২৯ ওভারে ৬ উইকেটে ৭৯ রান। এর আগে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ করেছিল ২৭২ রান। জবাবে প্রথম ইনিংসে ২৪৫ রানে অলআউট হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
দিনের শুরুতে আগের দিনের ৪ উইকেটে ১৩৪ রান নিয়ে ব্যাট করতে নামে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের রান টপকাতে তখনো প্রয়োজন ছিল ১৩৯ রান। দলের হয়ে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন তেজনারায়ণ চন্দরপল ও রোস্টন চেজ। আগের দিনের ৩৮ রানের সাথে আরো ১৮ রান যোগ করে ৫৬ রানে থামেন চন্দরপল। ১৮৪ বলের ধৈর্যশীল ইনিংসে ছিল ছয়টি চার ও একটি ছক্কা। শরিফুল ইসলামের বলে নাজমুল হোসেন শান্তর হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন এই ওপেনার।
এরপর জাস্টিন গ্রিভসকে সাথে নিয়ে দলের হাল ধরেন চেজ। দু’জনের ব্যাটে এগোতে থাকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে লাঞ্চের ঠিক আগে নাঈম হাসান ফিরিয়ে দেন গ্রিভসকে। ১০৩ বলে ৪৬ রান করেন তিনি। ৫১ রানের জুটি ভাঙার পাশাপাশি বাংলাদেশকে ম্যাচে ফেরার সুযোগ করে দেন নাঈম। এরপর স্বাগতিক বোলাররা আর এগুতে দেননি সফরকারী ব্যাটারদের। চেজ অপরাজিত থাকেন ৪৩ রানে। শেষ দিকে জশুয়া বিশপ ১৫ রান করলেও অন্যরা কেউই উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে না পারায়। ৮২.৫ ওভারে ২৪৫ রানে গুটিয়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বাংলাদেশের হয়ে নাঈম হাসান নেন সর্বোচ্চ ৪ উইকেট। দু’টি করে উইকেট নেন মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাইজুল ইসলাম।
প্রথম ইনিংসে ২৭ রানের লিড থাকায় দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ভালো অবস্থান তৈরির সুযোগ ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু ইনিংসের শুরু থেকেই ব্যাটিং বিপর্যয়। দলীয় ১ রানেই শূন্য হাতে ফেরেন তানজিদ হাসান তামিম। এরপর ১৩ রান নিয়ে সাজঘরের পথ ধরেন সাদমান ইসলাম। দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছে ঝুলিতে ১০ রান হতেই চেজের বলে এলবিডব্লিউর শিকার হন অধিনায়ক শান্তও। আর উইকেটে এসে ২ বল মোকাবেলা করেও রানের খাতা না খুলেই চেজের বলে সিসেলসকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তৌহিদ হৃদয়। মাত্র ২৮ রানে তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ।
স্বাগতিকদের ইনিংসের পরিস্থিতি আরো খারাপ হয় ৪ রান করে লিটন দাস ফিরলে। ৯ রান করে মিরাজও বিদায় নিলে খাদের কিনারায় পৌঁছে টাইগারদের ইনিংস। তবে এর পরে কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন জাকের আলী ও নাঈম হাসান। দু’জনই ১৮ রান করে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন। বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামান উইন্ডিজ দুই স্পিনার রোস্টন চেজ ও জোমেল ওয়ারিকান। চেজ নেন তিনটি উইকেট। প্রথম ইনিংসে ৫ উইকেট নেয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসেও আরো দুই ব্যাটারকে সাজঘরে পাঠান ওয়ারিকান।
তৃতীয় দিন শেষে সব মিলে বাংলাদেশ হারিয়েছে ৬ উইকেট। হাতে আছে চার উইকেট। বড় লিড গড়তে হলে দিনের শুরুতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে জাকের ও নাঈমকে। ফলে চতুর্থ দিনে আজ প্রথম সেশনটিই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণে হয়ে উঠতে পারে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








