
লালমনিরহাট প্রতিনিধি
তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ আগামী বছরের নভেম্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। বৃহস্পতিবার লালমনিরহাট সদর উপজেলার মহেন্দ্রনগর নিষ্কাশন খাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এই আশার কথা জানান। প্রতিমন্ত্রী জানান, মেগা এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে উত্তরাঞ্চলের লালমনিরহাট, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী ও রংপুরÑ এই পাঁচ জেলার প্রায় তিন কোটি মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কেটে যাবে।
উত্তরাঞ্চলের জীবনরেখা হিসেবে পরিচিত তিস্তা নদীকে ঘিরে পরিকল্পিত এই উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকার দ্রুতগতিতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। ফরহাদ হোসেন আজাদ জানান, তিস্তা ইস্যুতে ইতোমধ্যে প্রতিবেশী দেশের সাথে কারিগরি পর্যায়ে ফলপ্রসূ আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে। নদী বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত একটি উচ্চমতাসম্পন্ন কারিগরি কমিটি মাঠপর্যায়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। বর্তমানে প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই বা ফিজিবিলিটি স্টাডির কাজও একেবারে শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। অর্থমন্ত্রী দেশে ফিরলেই প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের বিষয়ে চূড়ান্ত অগ্রগতি হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, মহাপরিকল্পনাটি যথাযথভাবে বাস্তবায়নের ল্েয সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসেস (সিইজিআইএস), জাতীয় নদী রা কমিশনের কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) বিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি চীন, নেদারল্যান্ডস ও মালয়েশিয়ার আন্তর্জাতিক নদী বিশেষজ্ঞ ও প্রকৌশলীদের পরামর্শ নেয়া হচ্ছে। দেশী-বিদেশী সব পরে কারিগরি ও পরিবেশগত পরামর্শ সমন্বয় করে একটি পূর্ণাঙ্গ ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রপোজাল বা উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) তৈরি করা হবে। কোন পদ্ধতিতে কাজ করলে এ অঞ্চলের সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি সুফল পাবেন এবং পরিবেশের তি না করে সর্বোচ্চ সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা যাবে, তা নির্ধারণেই বেশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। এ কারণেই সঠিক ও ত্রুটিমুক্ত ডিপিপি তৈরিতে আরো আট থেকে নয় মাস সময় লাগতে পারে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তবে সব প্রক্রিয়া শেষ করে আগামী বছরের নভেম্বরের মধ্যেই যেন মূল কাজের শুভ উদ্বোধন করা যায়, সেই ল্য নিয়েই কাজ করছে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়।
পরিদর্শনের সময় স্থানীয় জলবদ্ধতা নিরসন ও কৃষি সেচ ব্যবস্থার বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে মহেন্দ্রনগর নিষ্কাশন খাল খনন প্রসঙ্গেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, আগামী ১৯ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী খালটি উদ্বোধন করবেন। এতে এলাকার কয়েক হাজার কৃষক সরাসরি সেচ সুবিধা পাবেন। একই সাথে পরিবেশের ভারসাম্য রা ও সৌন্দর্য বর্ধনে খালের দুই পাশে বৃরোপণ করা হবে, যা এলাকার উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে।
পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রীর সাথে উপস্থিত ছিলেন লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক মুহ: রাশেদুল হক প্রধান, জেলা পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান, জেলা পরিষদের প্রশাসক এ কে এম মমিনুল হক, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী কর্মকর্তা সুনীল কুমার, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনোনীতা দাসসহ স্থানীয় প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং বিএনপির স্থানীয় নেতারা।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








