দোকান বন্ধ করে আত্মগোপনে ম্যানেজার

খুলনা ব্যুরো

Advertisement

খুলনায় ১০টি মোটরসাইকেল চাঁদা হিসেবে দাবি করে নগরীর টুটপাড়া সেন্ট্রাল রোডের চয়নিকা ফার্মেসির ম্যানেজার বাবুকে হুমকি দিয়েছে খুলনার একটি সন্ত্রাসী বাহিনী। এ ঘটনার পর ওই দোকানের ম্যানেজার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে আত্মগোপনে রয়েছেন। পুলিশ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেছেÑ এ ঘটনায় এখনো তাদের কাছে কোনো অভিযোগ করা হয়নি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, পাঁচ দিন আগে চয়নিকা ফার্মেসির ম্যানেজার বাবুর কাছে খুলনার একটি শীর্ষ সন্ত্রাসী বাহিনীর প্রধান ফোন করে ১০টি মোটরসাইকেল দাবি করে। তার দাবি করা মোটরসাইকেলের প্রতিটার দাম তিন থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকা বলে জানা যায়। বাহিনী প্রধান দোকানের মালিককে বিষয়টি অবগত করতে বলেÑ দুই দিন পর সশরীরে দুইজন সন্ত্রাসী ম্যানেজারের সাথে সাাৎ করে তাদের দাবি উল্লেখ করে হত্যার হুমকি দেয়।
এ ঘটনায় আতঙ্কিত ওই ব্যবসায়ী গতকাল বুধবার রাত সাড়ে ৮টার পর ফার্মেসি বন্ধ করে দেন। দুই যুগের অধিক সময় ধরে চয়নিকা ফার্মেসি মানুষের সেবা দিচ্ছে। নগরীর সবচেয়ে বেশি পরিমাণ ওষুধ বিক্রির যে দুই/তিনটি দোকান আছে, চয়নিকা তার একটি। প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ােভ সৃষ্টি হয়েছে।
এলাকার একটি সূত্র জানায়, হুমকি পাওয়ার পর দোকান মালিক দৌলত সরকারি দলের কয়েক নেতার কাছে গিয়ে এই বিপদ থেকে পরিত্রাণ পেতে সহযোগিতা চান; কিন্তু তারা সবাই অসহায়ত্ব প্রকাশ করায় তিনি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন। ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে চয়নিকা ফার্মেসির মালিকের বাড়িতে গেলে প্রথমে জানানো হয়Ñ প্রতিষ্ঠান মালিক দৌলত সাহেব বাড়িতে নেই। পরবর্তী সময়ে অনেক ডাকাডাকির পর জানালা দিয়ে কথা বলেন। চাঁদার বিষয়টি জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি আতঙ্কিত হয়ে পরিচয় জানতে চান। সাংবাদিক শুনে তিনি এ বিষয়ে কোনো কথা বলবেন না বলে জরুরি কাজে ব্যস্ত থাকার কথা বলে ঘরের ভেতরে চলে যান।
মিয়াপাড়া সুলতানা হামিদ আলী স্কুলের পাশের পঞ্চম তলা ভবনের নিচ তলায় থাকেন ওই প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার বাবু। সেখানে খোঁজ নিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। তার ঘরে তালা দেয়া। প্রতিবেশীদের কাছ থেকে জানা গেছে তিনি ঘরে তালা দিয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে অন্যত্র চলে গেছেন।
টুটপাড়া সেন্ট্রাল রোড এলাকার কয়েকজন নারী ও পুরুষ জানান, বর্তমানে আমরা কেউ নিরাপদ নই। কিশোর গ্যাং ও তাদের সদস্যরা এ এলাকার প্রত্যেকের কাছে চাঁদা দাবি করছে। এক মাস আগে ‘সেই স্বাদ’ বিরিয়ানির মালিকের কাছে তারা চাঁদা দাবি করেছিল। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা প্রতিদিন এখানে আসত।
খুলনা থানার অফিসার ইনচার্জ মো: লোকমান হোসেন রিপন বলেন, চাঁদা চাওয়ার বিষয়টি শুনেছি। কারা তা দাবি করেছে সেটিও তারা পরিষ্কার করে বলেননি। তারা আমাদের কাছে এখনো কোনো অভিযোগও করেননি।
উল্লেখ্য, নগরীর আহসান আহমেদ রোডে চাইনিজ প্যালেসের ম্যানেজারের কাছে ফোন করে খুলনার শীর্ষ এক সন্ত্রাসী বাহিনী প্রধানের সহযোগী ফাকাব্বির। ব্যস্ততার কারণে ফোন ধরতে দেরি হওয়ায় গত বুধবার সন্ধ্যায় সেখানে তাণ্ডব চালায় চারযজন কিশোর।