
বিশেষ সংবাদদাতা
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ‘স্টার্টআপ স্যান্ডবক্স’-সংক্রান্ত বিধানসমূহের কার্যকর বাস্তবায়ন ও কর পরিপালন নিশ্চিত করতে একটি বিস্তারিত নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। নির্দেশনার প্রথম দফায় বলা হয়েছে, স্যান্ডবক্স সুবিধা পেতে হলে সংশ্লিষ্ট শর্তাবলি পূরণসাপেে যেকোনো স্টার্টআপকে জাতীয়রাজস্ব বোর্ডে নিবন্ধিত হতে হবে। অর্থাৎ নিবন্ধন ছাড়া এ সুবিধা পাওয়ার সুযোগ থাকছে না।
গত বুধবার কর নীতি উইং থেকে প্রকাশিত এ নির্দেশনায় স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধনের বাধ্যবাধকতা, আবেদনের প্রক্রিয়া, সনদ প্রদানের সময়সীমা এবং নিবন্ধন বাতিলের পদ্ধতি স্পষ্ট করা হয়েছে। এনবিআর চেয়ারম্যান আহসান হাবিবের স্বারে এটি জারি হয়।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আয়কর আইন, ২০২৩-এর অষ্টম তফসিলের অংশ ২-এ উল্লিখিত ‘স্টার্টআপ স্যান্ডবক্স’-সংক্রান্ত বিধানসমূহের সুনির্দিষ্ট প্রয়োগ, কার্যকর বাস্তবায়ন ও কর পরিপালন নিশ্চিত করাই এর উদ্দেশ্য।
আবেদনের প্রক্রিয়া
স্টার্টআপ কোম্পানিকে সদস্য (কর আপিল ও অব্যাহতি), জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাছে আবেদন করতে হবে। আবেদনের সাথে তিনটি বিষয় জমা দিতে হবে :
আরজেএসসি ইনকরপোরেশন সার্টিফিকেট ও সঙ্ঘস্মারক : কোম্পানির আইনি অস্তিত্বের প্রমাণ হিসেবে।
স্টার্টআপ সম্পর্কিত কার্যক্রমের বিবরণ : প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম কিভাবে স্টার্টআপের সংজ্ঞায় পড়ে, তা বোঝাতে।
ডিজিটাল সিস্টেমে প্রবেশাধিকারের সম্মতিপত্র : স্টার্টআপে ব্যবহৃত ইআরপি, অ্যাকাউন্টিং সফটওয়্যার বা মূলডিজিটাল সিস্টেমে, কিংবা হিসাবের খতিয়ানে আয়কর কর্তৃপকে পাঠযোগ্য প্রবেশাধিকার দেয়ার সম্মতি।
তৃতীয় শর্তটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে কর কর্তৃপ স্টার্টআপের আর্থিক তথ্য সরাসরি যাচাই করার সুযোগ পাবে, যা কর পরিপালন নিশ্চিত করার একটি স্বচ্ছ ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে প্রবেশাধিকার কেবল ‘পাঠযোগ্য’, অর্থাৎ তথ্য দেখা যাবে, পরিবর্তন করা যাবে না।
৬০ দিনের মধ্যে সনদ, নইলে স্বয়ংক্রিয় অনুমোদন
আবেদন পাওয়ার ৬০ (ষাট) দিনের মধ্যে যাচাই-বাছাই শেষ করে এনবিআর ‘স্টার্টআপ স্যান্ডবক্স নিবন্ধন সনদ’ ইস্যু করবে। এ নির্দেশনার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিধান হলো, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো সিদ্ধান্ত না জানানো হলে আবেদনটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনুমোদিত বলে গণ্য হবে। এতে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতার কারণে উদ্যোক্তাদের ভোগান্তি কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
নিবন্ধন বাতিলের শর্ত ও প্রক্রিয়া
এনবিআর উপযুক্ত কারণ দেখিয়ে এবং যুক্তিসঙ্গত শুনানির সুযোগ দিয়ে যেকোনো স্টার্টআপ স্যান্ডবক্স নিবন্ধন বাতিল করতে পারবে। এর প্রক্রিয়া দুই ধাপের :
১. কারণ দর্শানোর নোটিশ : ভুল তথ্য প্রদান কিংবা ডিজিটাল এক্সেস দিতে বাধা সৃষ্টির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট স্টার্টআপকে নোটিশ দেয়া হবে। নোটিশ পাওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে প্রতিষ্ঠানকে জবাব দাখিল করতে হবে।
২. শুনানি ও বাতিলের আদেশ : স্টার্টআপের প্রতিনিধিকে শুনানির সুযোগ দেয়ার পরই কেবল লিখিত আদেশের মাধ্যমে নিবন্ধন বাতিল করা যাবে।
ফলে বাতিলের েেত্র ন্যায়বিচারের নীতি অনুসরণ করা হয়েছে, যা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য আস্থার জায়গা তৈরি করবে।
বিশ্লেষকদের মতে, ৬০ দিনের সময়সীমা ও স্বয়ংক্রিয় অনুমোদনের বিধান স্টার্টআপ-বান্ধব উদ্যোগ। অন্য দিকে ডিজিটাল সিস্টেমে রিড-অনলি অ্যাক্সেসের শর্ত কর ফাঁকি রোধ ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে। তবে বাস্তবায়নে দেখার বিষয়টি হবে, যাচাই-বাছাই কতটা দ্রুত ও নিরপেভাবে হয় এবং ডেটা সুরার বিষয়টি কিভাবে নিশ্চিত করা হয় তার ওপর এটির সফলতা নির্ভর করবে।
এ নির্দেশনা বাংলাদেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমে কর-সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা কমিয়ে একটি স্পষ্ট ও সময়-নির্দিষ্ট কাঠামো দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








