শেষ বিকেলে প্রাণ ফেরালেন তাইজুল

ক্রীড়া প্রতিবেদক

Advertisement

চা বিরতির আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ছুটছিল দারুণ গতিতে। কিন্তু বিরতির পর ব্রেক থ্রু এলো নাজমুল হোসেন শান্তর দুর্দান্ত এক রিফেক্স ক্যাচে। অধিনায়ক যেন জাগিয়ে তুললেন দলকে। দ্রুতই ধরা দিলো আরো দু’টি উইকেট! গতকাল হতাশাময় দিনের শেষ ভাগে লড়াইয়ে ফিরল বাংলাদেশ।
সাদমান ইসলামের সেঞ্চুরির পর বল হাতে সাফল্য এনেছেন তাইজুল ইসলাম। মিরপুর টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে বাংলাদেশ শিবিরে প্রাণ ফেরান তিনি। স্বাগতিকদের প্রথম ইনিংসে করা ২৭২ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৩৪ রান তুলেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ফলে ৬ উইকেট হাতে নিয়ে এখনো ১৩৮ রানে পিছিয়ে সফরকারীরা। জাস্টিন গ্রেভস ১৫ এবং তেজনারায়ণ চন্দরপল ৪৩ রানে অপরাজিত আছেন। 
গতকাল মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় দিনের শেষভাগে তাইজুলের জোড়া আঘাতে চাপে পড়ে ক্যারিবীয়রা। তবে আলোক স্বল্পতার কারণে নির্ধারিত সময়ের ৭২ মিনিট আগেই  দিনের খেলা শেষ করেন আম্পায়াররা। খেলা হয়নি ১৮ ওভার।
২১৩ থেকে ৫৯ রান যোগ করতেই বাংলাদেশের ৭ উইকেট তুলে নিয়ে প্রথম ইনিংসের শুরুটা ভালোই করেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দুই ওপেনার জন ক্যাম্পবেল ও ব্র্যান্ডন কিং প্রথম উইকেটে যোগ করেন ২৯ রান। ১৫ রান করা কিংকে ফিরিয়ে এ জুটি ভাঙেন পেসার হাসান মাহমুদ। এরপর তেজনারায়ণ চন্দরপলকে নিয়ে দলের রান এগিয়ে নিতে থাকেন ক্যাম্পবেল।
দারুণ ব্যাটিংয়ে ফিফটি তুলে নেয়া ক্যাম্পবেলকে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য এনে দেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ৭৬ বলে ৬ চার ও ২ ছক্কায় ৫৪ রান করে সাজঘরে ফেরেন ক্যারিবীয় এ ওপেনার। তার বিদায়ের পরই ছন্দ হারাতে শুরু করে সফরকারীরা।
এরপর বল হাতে জ্বলে ওঠেন বাঁ-হাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম। দলীয় ৯৭ রানে ৭ রান করা কাভেম হজকে ফিরিয়ে দেন তিনি। দলীয় সংগ্রহে আর কোন রান যোগ হওয়ার আগেই আমির জাঙ্গুকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন তাইজুল। কোনো রান না করেই ফেরেন জাঙ্গু। মাত্র ৭ রানের ব্যবধানে দুই উইকেট হারিয়ে একটু চাপে পড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
তাইজুলের জোড়া আঘাতের পর জাস্টিন গ্রেভসকে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করছেন চন্দরপল।  দিনের বাকি সময়ে এ জুটি দেখে শুনে উইকেট টিকিয়ে খেলতে থাকেন। শেষ দিকে আলোকস্বল্পতা দেখা দিলে নির্ধারিত সময়ের আগেই খেলা বন্ধ করে দেন আম্পায়াররা।
৫৯ রানে শান্তদের নেই ৭ উইকেট
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপে মিরপুর টেস্টের প্রথমদিনে বাংলাদেশের ব্যাটাররা ভালো কাটালেও দ্বিতীয়দিনে নাকানিচুবানি খেয়েছে। যেখানে প্রথমদিনে ৩ উইকেটে সংগ্রহ ছিল ২১৩, সেখানে দ্বিতীয় দিনে ৭ উইকেট হারিয়ে স্কোরবোর্ডে জমা করতে পেরেছে মাত্র ৫৯ রান। ব্যাটিংয়ে এই বিপর্যয়ে ১০ উইকেট হারিয়ে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের সংগ্রহ মাত্র ২৭২।
বাংলাদেশের লোয়ার-মিডল অর্ডারের ব্যাটারদের হতাশাজনক পারফরম্যান্স দেখা যায়, যার ফলে মধ্যাহ্নভোজের আগেই স্বাগতিকরা পুরোপুরি গুটিয়ে যায়। অন্যদিকে লিটনও ট্রেইলএন্ডারদের  রা করতে ব্যর্থ হন; তিনি স্ট্রাইক নিজের কাছে না রেখে বারবার নিচের সারির ব্যাটারদের এই বিষাক্ত বোলিং আক্রমণের মুখে ফেলে দেন।
মিরপুরে শুরু হওয়া এই টেস্টের প্রথমদিন বাংলাদেশের ভালোই কেটেছে। টপ অর্ডারের তানজিদ, মমিনুল ও শান্তরা খুব সুবিধা না করতে পারলেও এক প্রান্ত আগলে রেখেছিলেন সাদমান ইসলাম। ৯৯ রানে দিন শেষ করেছিলেন। তার সঙ্গী ছিলেন লিটন কুমার।
সকালে ব্যাটিংয়ে নেমে সাদমান তার ক্যারিয়ারের তৃতীয় টেস্ট শতক পূরণ করলেও, দিনের তৃতীয় ওভারে বিশপের বলে ১০৫ রানে এলবিডব্লিউ হয়ে সাজঘরে ফেরেন। আগের দিন ‘রিটায়ার্ড হার্ট’ হয়ে মাঠ ছাড়া হৃদয় পুনরায় ক্রিজে ফিরেছিলেন, কিন্তু বিশপের একটি সোজা বল মিস করে মাত্র দুই বল পরেই বোল্ড হয়ে যান।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ দ্বিতীয় নতুন বল নেয়ার ঠিক পরপরই, সিলসের একটি মারাত্মক ডেলিভারি লিটনের কনুইয়ে গিয়ে আঘাত করে, যা নিয়ে তাকে দৃশ্যতই ভুগতে দেখা যায়। পানির বিরতির পরপরই, ওয়ারিকান মেহেদী হাসান মিরাজকে পরাস্ত করে তৃতীয় উইকেট নেন।
এরপর একে একে নাঈম হাসান, হাসান মাহমুদ, তাইজুল ইসলাম ও শরিফুল ইসলাম বিদায় নেন মাত্র ১৯ রানের ব্যবধানে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ বোলারদের মধ্যে ওয়ারিকানের ঝুলিতে যায় পাঁচটি উইকেট। বিশপ ও জোসেফ পান দুটি করে পান। সিলস নেন একটি উইকেট।
সংপ্তি স্কোর : দ্বিতীয় দিন
বাংলাদেশ ১ম ইনিংস : (আগের দিন ২১৩/৩) ৯৭.৪ ওভারে ২৭২ (সাদমান ১০৫, হৃদয় ৪২, লিটন ৩৪*, মিরাজ ১৫, নাঈম ৫, হাসান ৬, তাইজুল ১, শরিফুল ০; সিলস ১/২৯, জোসেফ ২/৩৯, বিশপ ২/৬১, ওয়ারিকথান ৫/৫৩)।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১ম ইনিংস : ৩৪ ওভারে ১৩৪/৪ (কথ্যাম্পবেল ৫৪, কিং ১৫, চন্দরপল ৪৩*, হজ ৭, জাঙ্গু ০, গ্রেভস ১৫*; হাসান ১/২৫, মিরাজ ১/৪৪, তাইজুল ২/৪৪)।
বাংলাদেশ : ১৩৮ রানে এগিয়ে।