১০ বছর বয়সেও শিশু বিছানা ভেজায়? কী করবেন অভিভাবকরা

১০ বছর বয়সেও কোনো শিশু ঘুমের মধ্যে বিছানায় প্রস্রাব করলে উদ্বিগ্ন হওয়ার পাশাপাশি বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা প্রয়োজন। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এ সমস্যাকে বলা হয় নকটার্নাল এনিউরেসিস। এটি শিশুর ইচ্ছাকৃত আচরণ নয়; তাই বকাঝকা, শাস্তি বা অপমান না করে প্রয়োজন সহানুভূতি ও সঠিক পরিচর্যা। 
কেন এমন হয়? 
গভীর ঘুম, রাতে অতিরিক্ত প্রস্রাব তৈরি হওয়া, মূত্রথলির কার্যমতার সমস্যা, কোষ্ঠকাঠিন্য কিংবা পারিবারিক ইতিহাস এর কারণ হতে পারে। কখনো মানসিক চাপ, ডায়াবেটিস, প্রস্রাবে সংক্রমণ বা ঘুমের মধ্যে শ্বাসপ্রশ্বাসের সমস্যাও দায়ী হতে পারে। 
অভিভাবকদের করণীয় 
চিকিৎসকের পরামর্শ নিন : ১০ বছর বয়সেও নিয়মিত বিছানা ভেজালে শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেয়া ভালো। প্রয়োজন অনুযায়ী প্রস্রাব পরীা বা অন্যান্য পরীা করা হতে পারে। 
ঘুমানোর আগে প্রস্রাব করান : রাতে বিছানায় যাওয়ার আগে শিশুকে টয়লেটে যেতে উৎসাহিত করুন। 
পানি পানে ভারসাম্য রাখুন : দিনের বেলায় পর্যাপ্ত পানি পান করতে দিন। ঘুমানোর ঠিক আগে অতিরিক্ত তরল পান এড়িয়ে চলুন, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া পানি পানে কঠোর নিষেধাজ্ঞা দেবেন না। 
কোষ্ঠকাঠিন্যের চিকিৎসা করুন : নিয়মিত পায়খানা হচ্ছে কি না খেয়াল রাখুন। কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে তার চিকিৎসা প্রয়োজন। 
শিশুকে উৎসাহ দিন : বিছানা শুকনো থাকলে প্রশংসা করুন; তবে বিছানা ভেজালে শাস্তি দেবেন না। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে বেডওয়েটিং অ্যালার্ম ব্যবহার করা যায়। 
লণ খেয়াল করুন : আগে দীর্ঘদিন বিছানা না ভেজানোর পর নতুন করে এ সমস্যা শুরু হলে, প্রস্রাবে জ্বালা, অতিরিক্ত তৃষ্ণা, ঘন ঘন প্রস্রাব বা ওজন কমার মতো লণ থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। 
মনে রাখুন : অধিকাংশ শিশুর েেত্রই সঠিক পরিচর্যা ও চিকিৎসায় এ সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। শিশুকে দোষারোপ নয়, দিন নিরাপত্তা, ভালোবাসা ও সহযোগিতা।

Advertisement