স্থানীয় নির্বাচনের নিরপেতা নিয়ে প্রশ্ন জামায়াতের
ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচন নিয়ে ব্রিফিংয়ে কথা বলেন মিয়া গোলাম পরওয়ার : নয়া দিগন্ত।

 নিজস্ব প্রতিবেদক

Advertisement

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে যেতে বাধা, ভয়ভীতি প্রদর্শন, নির্বাচনী এজেন্টদের দায়িত্ব পালনে বাধা, ব্যালটের মুড়িতে আগাম সিল ও স্বারসহ ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এসব ঘটনার তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া এবং ভোটারদের নির্বিঘেœ ভোটদানের পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে দলটি।
দলের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম পরওয়ার বলেন, একটি উপনির্বাচনেই যদি অনিয়মের অভিযোগ কার্যকরভাবে মোকাবেলা করা না যায়, তাহলে ভবিষ্যতে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন ও উপজেলা পরিষদের নির্বাচন কিভাবে নিরপেভাবে সম্পন্ন হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়। গতকাল বিকেলে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি  এসব অভিযোগ করেন। 
তিনি বলেন, উপনির্বাচনে ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে যেতে বাধা দেয়া হয়েছে। কোনো কোনো ভোটার কেন্দ্রে গিয়ে জানতে পেরেছেন, তাদের ভোট আগেই দেয়া হয়ে গেছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কার্যকর পদপে না থাকায় তারা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। তিনি নির্বাচন কমিশন, ঠাকুরগাঁওয়ের রিটার্নিং কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রাকারী বাহিনীর প্রতি অবশিষ্ট সময়ে ভোট গ্রহণ সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেভাবে সম্পন্ন করতে কার্যকর পদপে নেয়ার আহ্বান জানান।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, সরকারদলীয় শীর্ষ পর্যায় থেকে উপনির্বাচনকে সুষ্ঠু, নিরপে ও শান্তিপূর্ণ বলে দাবি করা হলেও গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ছবি ও ভিডিওতে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে বলে দাবি করা বাস্তবতার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। এ ধরনের বক্তব্য জনগণকে বিভ্রান্ত করতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
গোলাম পরওয়ার জানান, নির্বাচনের আগে জামায়াতের একটি প্রতিনিধিদল প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সাথে সাাৎ করে লিখিতভাবে ৯ দফা অভিযোগ ও তিনটি দাবি পেশ করেছিল। পরে ১১ দলীয় ঐক্যের প থেকেও নির্বাচন কমিশনের কাছে অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানানো হয়। তবে এসব অভিযোগের কার্যকর প্রতিকার দৃশ্যমান হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাইরুজ ইসলামের বিরুদ্ধে একটি নির্দিষ্ট দলের প্রার্থীর পে অবস্থান নেয়ার অভিযোগ তুলে গোলাম পরওয়ার বলেন, তাকে দায়িত্ব থেকে সরানোর দাবি জানানো হলেও এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। নির্বাচনের নিরপেতা নিশ্চিত করতে এ বিষয়ে পদপে নেয়া প্রয়োজন ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি। 
হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটারদের মধ্যে বিশেষভাবে ভীতি সৃষ্টি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, সরকারি চাকরিজীবী ও শিাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিদের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পে কাজ করলে চাকরিতে সমস্যার মুখে পড়তে পারেনÑ এমন ইঙ্গিত দিয়ে চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ভোটারদের স্বাধীনভাবে ভোট দেয়ার অধিকার ক্ষুণœ করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
নির্ধারিত সময়ের আগে নির্বাচনী প্রচারণা চালানো এবং ধানের শীষ প্রতীক রঙিনভাবে ব্যবহারের অভিযোগের ছবি নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দেয়া হয়েছিল বলেও জানান তিনি। এ ছাড়া জামায়াতের নেতাকর্মীদের মারধর করে আহত করা, নারী ভোটারদের বাধা দেয়া এবং নির্বাচনী এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়ার অভিযোগ করেন গোলাম পরওয়ার।
তিনি আরো বলেন, কয়েকটি ভোট কেন্দ্রে প্রিসাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তাদের পরিচয়পত্র বা পরিচয় শনাক্ত করার প্রয়োজনীয় ব্যাজ দেখা যায়নি। এ বিষয়ে প্রশ্ন তোলা হলে কোনো কোনো কর্মকর্তা যথাযথ পরিচয়পত্র দেখাতে পারেননি। কয়েকটি ব্যালট বইয়ের মুড়িতে আগাম সিল ও স্বার করে রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
গোলাম পরওয়ার বলেন, নিয়ম অনুযায়ী ভোটারকে ব্যালট দেয়ার প্রক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট সিল ও স্বার সম্পন্ন হওয়ার কথা। আগাম সিল ও স্বার করে রাখার ফলে জাল ভোটের সুযোগ তৈরি হতে পারে। নির্বাচনী এলাকায় অর্থ বিতরণের ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি। এসব ঘটনার তদন্ত, নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তিদের পরিচয় ও নিরপেতা নিশ্চিত করা এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান জামায়াতের এই নেতা।
ভোট কেন্দ্রে সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবির কথা উল্লেখ করে গোলাম পরওয়ার বলেন, আইনশৃঙ্খলা রাকারী বাহিনীর সদস্যসংখ্যা বেশি থাকলেই নির্বাচন নিরপে হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। তবে ভোটারদের নিরাপত্তা, জাল ভোট প্রতিরোধ ও ভোট কেন্দ্রে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সেনাবাহিনীর কার্যকর ভূমিকা থাকতে পারত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেনÑ জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য আতাউর রহমান সরকার।