
ক্রীড়া ডেস্ক
ব্যক্তিগত নৈপুণ্য, গোলের ধারাবাহিকতা আর অসাধারণ একটি মৌসুম। আর তাতে দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার ব্যালন ডি’অর জিতলেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেন। লন্ডনের প্যালাডিয়াম থিয়েটারে অনুষ্ঠিত ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠানে গত পরশু পুরুষদের বিভাগে সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন বায়ার্ন মিউনিখের এই ইংলিশ স্ট্রাইকার। জমকালো অনুষ্ঠানে বায়ার্ন মিউনিখ স্ট্রাইকারের হাতে তুলে দেয়া হয় ফরাসি সাময়িকী ‘ফ্রান্স ফুটবল’-এর পুরস্কার, ব্যালন ডি’অর ২০২৬। ৩৩ বছর বয়সী এই ফুটবলারের হাতে পুরস্কারটি তুলে দেন দুইবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী ও কিংবদন্তি ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার রোনালদো। ২৫ বছর পর কোনো ইংলিশ ফুটবলারের হাতে উঠল এই পুরস্কার। এর আগে ২০০১ সালে ব্যালন ডি’অর জিতেছিলেন ইংল্যান্ডের মাইকেল ওয়েন।
এবারের ব্যালন ডি’অরের লড়াইয়ে কেনের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলাররা। ভোটের হিসাবে দ্বিতীয় হয়েছেন ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে। তৃতীয় স্থান পেয়েছেন স্পেন ও বার্সেলোনার তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল। চতুর্থ হয়েছেন রদ্রি এবং পঞ্চম স্থানে রয়েছেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি লিওনেল মেসি। প্রতিদ্বন্দ্বীদের পেছনে ফেলে শীর্ষস্থান পৌঁছানো আরো তাৎপর্যপূর্ণ করেছে কেনের অর্জনকে। বিশেষ করে এমবাপ্পে ও ইয়ামালের মতো তারকাদের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে এই পুরস্কার জেতা ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের বড় স্বীকৃতি কেনের।
ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের বাইরে এবারই প্রথমবারের মতো লন্ডনে আয়োজন করা হয় ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠান। পুরস্কারটির ৭০তম আসর বসে ঐতিহ্যবাহী লন্ডন প্যালাডিয়াম থিয়েটারে। ১৯৫৬ সালে প্রথম ব্যালন ডি’অর জিতেছিলেন ইংল্যান্ডের স্ট্যানলি ম্যাথিউস। সেই ইতিহাসের সাথে মিল রেখেই এবারের অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয় ইংল্যান্ডের রাজধানীতে। আর সেই মঞ্চেই ইংলিশ ফুটবলের নতুন ইতিহাস গড়লেন কেন।
ব্যালন ডি’অর জয়ের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা ছিল কেনের গোল করার অসাধারণ ক্ষমতা। ২০২৫-২৬ মৌসুমে বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে বুন্দেসলিগা, জার্মান কাপ ও জার্মান সুপার কাপ জিতেছেন তিনি। তিনটি শিরোপা জয়ে তার অবদান ছিল গুরুত্বপূর্ণ। জার্মান লিগে টানা তৃতীয়বারের মতো সর্বোচ্চ গোলদাতাও হয়েছেন এই ইংলিশ স্ট্রাইকার। ইউরোপের সর্বোচ্চ পর্যায়ের প্রতিযোগিতা উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগেও নিজের সামর্থ্যরে প্রমাণ দিয়েছেন কেন। গত মৌসুমে এই প্রতিযোগিতায় করেছেন ১৪ গোল। ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলে ৬৫ ম্যাচে করেছেন ৭৩ গোল। এর মধ্যে বায়ার্নের হয়ে ৬১টি এবং ইংল্যান্ডের হয়ে ১২টি গোল রয়েছে। তার এমন গোলবন্যার সুবাদেই ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে পেছনে ফেলেছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে ও লামিনে ইয়ামালের মতো তারকাদের।
জাতীয় দলের হয়েও দুর্দান্ত সময় কাটিয়েছেন কেন। ২০২৬ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে সেমিফাইনালে তুলতে অধিনায়ক হিসেবে নেতৃত্ব দিয়েছেন। টুর্নামেন্টে করেছেন ৬ গোল। বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডও তার দখলে। ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে এমন ধারাবাহিক সাফল্য তাকে ব্যালন ডি’অরের অন্যতম শক্তিশালী দাবিদার করে তুলেছিল।
কেন হলেন এই সম্মান পাওয়া পঞ্চম ইংলিশ ফুটবলার। এর আগে এই পুরস্কার জিতেছেন ১৯৫৬ সালে প্রথম আসরেই স্ট্যানলি ম্যাথিউস। ১৯৬৬ সালে ববি চার্লটন। ১৯৭৮ ও ১৯৭৯ সালে টানা দুইবার পুরস্কার জেতেন কেভিন কিগান। এরপর দীর্ঘ বিরতির পর ২০০১ সালে এই পুরস্কার জেতেন মাইকেল ওয়েন। তবে ওয়েনের পর ইংল্যান্ডের আর কোনো ফুটবলার পুরস্কারটি জিততে পারেননি, যা এই অপেক্ষাকে ২৫ বছরে নিয়ে গিয়েছিল।
পুরস্কার গ্রহণের পর আবেগ ধরে রাখতে পারেননি কেইন। নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেছেন, ‘এত গোল করা কখনোই একক প্রচেষ্টার ফল নয়। অনুশীলন থেকে শুরু করে ম্যাচ পর্যন্ত সতীর্থদের সহযোগিতা এবং প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব আরো ভালো খেলতে সাহায্য করেছে আমাকে।’
এবারের অনুষ্ঠানে নারীদের ব্যালন ডি’অর জিতেছেন স্পেনের আলেক্সিয়া পুতেয়াস। এটি তার ক্যারিয়ারের তৃতীয় ব্যালন ডি’অর। বার্সেলোনার হয়ে দুর্দান্ত মৌসুম কাটানোর স্বীকৃতি পেয়েছেন তিনি। পুরুষদের কোপা ট্রফি, সেরা তরুণ খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন স্পেনের তরুণ সেনসেশন লামিনে ইয়ামাল। নারীদের কোপা ট্রফি পেয়েছেন বার্সেলোনা ও স্পেনের ভিকি লোপেজ। পুরুষদের সেরা গোলরক্ষকের পুরস্কার পেয়েছেন স্পেনের উনাই সিমন। নারীদের সেরা গোলরক্ষক হয়েছেন বার্সেলোনা ও স্পেনের কাতা কোল। সেরা কোচ হয়েছেন স্পেন জাতীয় দলের লুইস দে লা ফুয়েন্তে। নারী সেরা কোচের পুরস্কার পেয়েছেন বার্সেলোনার পেরে রোমেউ। পুরুষদের সেরা ক্লাব নির্বাচিত হয়েছে প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি)। নারীদের সেরা ক্লাব এফসি বার্সেলোনা। পুরুষদের গার্ড মুলার ট্রফি (সেরা স্ট্রাইকার) হয়েছেন হ্যারি কেন। আর মানবিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতিস্বরূপ সক্রেটিস পুরস্কার পেয়েছেন ইংল্যান্ডের বুকায়ো সাকা।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








