
মোহাম্মদ জাফর ইকবাল টোকিও (জাপান) থেকে
বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের কৌশলগত অংশীদারত্বকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী। গতকাল মঙ্গলবার দুই প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
সেই সাথে আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে জ্বালানি, অবকাঠামো ও আইসিটি খাতে ৬.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (এক ট্রিলিয়ন জাপানি ইয়েন) বিনিয়োগ এবং দুই লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রাক্কলনকে স্বাগত জানিয়েছেন শীর্ষ দুই নেতা। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দ্রুত বাংলাদেশে জাপানি টিম পাঠানোর বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পায়।
জাপান সফরে ব্যস্ত সময় পার করছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গত সোমবার সকালে চার দিনের সরকারি সফরে টোকিওতে পৌঁছান তিনি ও তার সফরসঙ্গীরা। গতকাল মঙ্গলবার জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সাথে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে নেতৃত্ব দেন তারেক রহমান। বৈঠকে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের কৌশলগত অংশীদারত্বকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী। সেই সাথে আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে জ্বালানি, অবকাঠামো ও আইসিটি খাতে ৬.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (্এক ট্রিলিয়ন জাপানি ইয়েন) বিনিয়োগ এবং দুই লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রাক্কলনকে স্বাগত জানিয়েছেন শীর্ষ দুই নেতা। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দ্রুত বাংলাদেশে জাপানি টিম পাঠানোর বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পায়।
এ ছাড়া দুই দেশের মধ্যে ঐতিহাসিক অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি হস্তান্তর চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। গতকাল সকালে জাপানের রাজধানী টোকিওতে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক শেষে প্রকাশিত ১৪ দফার এক যৌথ বিবৃতিতে এসব তথ্য জানানো হয়। প্রধানমন্ত্রী জাপানে তার চার দিনের সরকারি সফরের দ্বিতীয় দিনে এ শীর্ষ বৈঠক এবং মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন। এ ছাড়াও এলএনজি টার্মিনাল ও থার্মাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। সফরকালে উষ্ণ অভ্যর্থনা ও আতিথেয়তার জন্য জাপানের প্রধানমন্ত্রী ও জনগণকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী। সেই সাথে সুবিধাজনক সময়ে জাপানের প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি সানায়েকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাত হোসেন স্বাধীন জানান, দুই প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় বৈঠেকে জ্বালানি, প্রযুক্তি, মহাকাশ গবেষণা, অবকাঠামো ও বিনিয়োগ সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, দ্বিপক্ষীয় এ বৈঠকে বাংলাদেশ ও জাপানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরো জোরদার, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, জ্বালানি নিরাপত্তা, প্রযুক্তি ও মহাকাশ গবেষণা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ও শিল্পায়নের লক্ষ্য অর্জনে জাপান সরকার ও দেশটির বেসরকারি খাতকে আরো সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেছেন, বাংলাদেশকে একটি অর্থনৈতিক, প্রযুক্তি ও উৎপাদনশিল্পের কেন্দ্রে পরিণত করার পরিকল্পনা নিয়ে সরকার কাজ করছে। ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের নবম বৃহত্তম ভোক্তা অর্থনীতিতে পরিণত হতে পারে এবং ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) এক ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
শহীদ জিয়াউর রহমান প্রসঙ্গ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে জাপানের বিশেষ স্থান রয়েছে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর জাপান প্রথম দিকের স্বীকৃতিদানকারী দেশগুলোর একটি এবং স্বাধীনতার পর থেকে দেশটি বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে ভূমিকা রেখে আসছে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা, শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার অভিন্ন আকাক্সক্ষার ভিত্তিতে দুই দেশের সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। তিনি তার পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দুইবার জাপান সফর এবং তার মাতা সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ক জোরদারে অবদানের কথা স্মরণ করেন। তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।
ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের প্রশংসা ও অভিনন্দন
দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বাংলাদেশে বিরাজমান প্রাণবন্ত গণতন্ত্রের উচ্চ প্রশংসা করেন। তিনি জাপান সরকারের নির্বাচন পর্যবেক্ষক দলের প্রত্যক্ষ করা চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বিশ্বাসযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ সাধারণ নির্বাচনকে স্বাগত জানান এবং প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করায় তারেক রহমানকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা-পরবর্তী পাঁচ দশকে উন্নয়ন যাত্রায় জাপানের ধারাবাহিক সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং বৈশ্বিক শান্তি ও স্থিতিশীলতায় জাপানের ভূমিকার প্রশংসা করেন।
‘অভিন্ন সমৃদ্ধির জন্য বিগ-বি’ ও অবকাঠামো উন্নয়ন
পরিবর্তিত বৈশ্বিক পরিস্থিতি ও সাপ্লাই চেইন ঝুঁকি বিবেচনায় দুই প্রধানমন্ত্রী জাপান-বাংলাদেশের ফ্ল্যাগশিপ উদ্যোগ ‘বিগ-বি’-কে উন্নীত করে ‘অভিন্ন সমৃদ্ধির জন্য বিগ-বি’ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এর আওতায় মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরকে কেন্দ্র করে মাতারবাড়ী-মহেশখালী অঞ্চলকে লজিস্টিকস, জ্বালানি ও শিল্পের একটি প্রধান কেন্দ্র (হাব) হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এ ছাড়া হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল দ্রুত চালু করার প্রস্তুতিমূলক কাজ এগিয়ে নেয়া, ঢাকার মেট্রোরেল (এমআরটি) লাইনগুলোর দ্রুত নির্মাণ এবং মাতারবাড়ী বন্দরের পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে কাজ করতে উভয় দেশ একমত হয়েছে।
ইপিএ স্বাক্ষর ও ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়ন
বৈঠকে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের মসৃণ ও টেকসই উত্তরণে সহায়তার লক্ষ্যে ‘জাপান-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি’ (ইপিএ) স্বাক্ষরকে স্বাগত জানিয়েছেন দুই প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি আঞ্চলিক ব্যাপক অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব (আরসিইপি) চুক্তিতে বাংলাদেশের যোগদানের অনুরোধের বিষয়েও ইতিবাচক আলোচনার আশ্বাস দিয়েছে জাপান। বাংলাদেশে বিনিয়োগ পরিবেশ আরো উন্নত করতে কর, কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স, রেমিট্যান্স ও লাইসেন্সিং প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি), কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাথে জাপানের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর তিনটি পৃথক সমঝোতা স্মারক (এমওসি) স্বাক্ষরিত হয়।
প্রতিরক্ষা চুক্তি ও ৬টি টহল নৌযান প্রদান
দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দ্বিপক্ষীয় নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদারে উভয় দেশের মধ্যে ‘প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি হস্তান্তর সংক্রান্ত চুক্তি’ স্বাক্ষর ও কার্যকর হওয়াকে স্বাগত জানানো হয়। জাতিসঙ্ঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের শীর্ষ ভূমিকার প্রশংসা করে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সমুদ্র ও বন্দর নিরাপত্তায় সহযোগিতা গভীর করার প্রতিশ্রুতি দেন। বাংলাদেশের উপকূলীয় নিরাপত্তা জোরদারে জাপানের ওডিএ সহায়তার আওতায় একটি বড় টহল জাহাজ (প্যাট্রোল ভেসেল) এবং ওএসএ কর্মসূচির আওতায় পাঁচটি প্যাট্রোল বোট প্রদানের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান দুই নেতা।
স্থানীয় সরকার, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়
স্থানীয় সরকারের প্রশাসনিক ও আর্থিক সক্ষমতা বাড়াতে ‘উপজেলা গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (২য় পর্যায়)’-এ ইয়েন ঋণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জাপান। পাশাপাশি বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি, জনস্বাস্থ্য, দুর্যোগ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের ক্ষেত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জাপানি ভাষা ও সংস্কৃতি বিভাগের ভূমিকার প্রশংসা করা হয় এবং মেক্সট (এমইএক্সটি) বৃত্তিসহ বাংলাদেশে জাপানি ভাষা শিক্ষার প্রসারে একমত হন দুই নেতা।
জাতিসঙ্ঘ, ইন্দো-প্যাসিফিক ও রোহিঙ্গা সঙ্কট
আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনায় বহুপাক্ষিকতা, আন্তর্জাতিক শান্তি ও আন্তর্জাতিক আইন সমুন্নত রাখার বিষয়ে দুই দেশের অভিন্ন অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের নির্বাচনে জাপানের সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। তার সভাপতিত্বে বহুপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদার এবং বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় জাপানের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।
যৌথ বিবৃতিতে মিয়ানমারের ক্রমাবনতিশীল পরিস্থিতি এবং এর ফলে সৃষ্ট রোহিঙ্গা বাস্তুচ্যুতি সঙ্কট নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি সব ধরনের সহিংসতা বন্ধ, নির্বিঘœ মানবিক সহায়তা নিশ্চিত এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে সংলাপের আহ্বান জানান।
সেই সাথে মিয়ানমারের রাখাইন থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রশংসা করেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, রোহিঙ্গা সমস্যার উৎপত্তি মিয়ানমারে এবং এর সমাধানও মিয়ানমারেই নিহিত। রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনই এ সঙ্কটের চূড়ান্ত সমাধান বলে উভয় নেতা একমত হন।
মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে দুই প্রধানমন্ত্রী
ফিলিস্তিনের গাজা পুনর্গঠনে ‘কমপ্রিহেনসিভ প্ল্যান’ এগিয়ে নেয়া এবং দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধানের মাধ্যমে ফিলিস্তিন সঙ্কটের ন্যায্য ও স্থায়ী সমাধানের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী। একই সাথে হরমুজ প্রণালী দ্রুত ও পুরোপুরি খুলে দেয়া এবং লোহিত সাগর ও বাব এল-মান্দেব প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা।
যৌথ কমিশন গঠনের প্রস্তাব
বৈঠকের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুই দেশের অগ্রাধিকারভিত্তিক খাতগুলো চিহ্নিত করা, সেগুলোর বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করা এবং সহযোগিতার সুযোগগুলোকে কার্যকর উদ্যোগে রূপ দিতে মন্ত্রী পর্যায়ের একটি যৌথ কমিশন প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেন। একই সাথে দুই দেশের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
এলএনজি টার্মিনাল ও বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শন
এ দিকে গতকাল মঙ্গলবার বেলা আড়াইটায় জাপানের চিবা প্রিফেকচারের ফুতসু শহরের জেরা’র (জেডইআরএ) স্থলভিত্তিক তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনাল ও বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিদ্যুৎকেন্দ্র ও এলএনজি টার্মিনাল পরিদর্শন করেন।
প্রধানমন্ত্রীর সাথে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো: শাকিরুল ইসলাম খান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো: মোস্তাকুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ পররাষ্ট্রসচিব, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী জাপানের নিতসু লজিস্টিকস হাব পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছে
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে জাপানের বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ূন কবির। মঙ্গলবার টোকিও দূতাবাসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।
হুমায়ূন কবির বলেন, প্রধানমন্ত্রী তার সফরের দ্বিতীয় কার্যদিবস মঙ্গলবার অত্যন্ত ব্যস্ততার মধ্য দিয়ে কাটিয়েছেন। এদিন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সাথে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দ্বিপক্ষীয় আনুষ্ঠানিক সামিট বৈঠক, গার্ড অফ অনার গ্রহণ, যৌথ প্রেস ব্রিফিং এবং মধ্যাহ্নভোজসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি সম্পন্ন হয়েছে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








