স্বজনদের কাছে ১০ লাশ হস্তান্তর, নিখোঁজ মুক্তার লাশ শনাক্ত

 কক্সবাজার অফিস 

Advertisement

কক্সবাজারের হ্নউখিয়ার ইনানীতে টুপটুপ রেস্তোরাঁ অ্যান্ড রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১০ জনের পরিচয় ডিএনএ পরীক্ষায় শনাক্তের পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। 
গতকাল মঙ্গলবার বেলা আড়াইটার দিকে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের মর্গ থেকে লাশগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো: আবদুল মান্নান, পুলিশ সুপার সাজেদুর রহমান এবং সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার আবুল কালাম সহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। 
এদিকে টুপটুপ রিসোর্টের ধ্বংসস্তুপ থেকে ঘটনার দিন পুড়ে যাওয়া নাসরিন আক্তার মুক্তার লাশ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। গতকাল দুপুরে মুক্তার স্বামী ফয়সালের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আবারো টুপটুপ রিসোর্টে উদ্ধার অভিযানে যায়। পরে রিসোর্টের পোড়া স্তুপ থেকে কঙ্কালসার মুক্তার লাশ উদ্ধার করে। জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে নিয়ে আসা হয়েছে। ময়নাতদন্ত এবং শনাক্তের পর এটি স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। 
জেলা প্রশাসক মো: আবদুল মান্নান জানিয়েছেন, ঢাকার সিআইডির তত্বাবধানে ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। সিআইডির পুলিশ সুপার আবুল কালাম ডিএনএ স্যাম্পল জেলা প্রশাসকের কাছে দেয়ার পর লাশগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। প্রত্যেক লাশ দাফন কাফনের জন্য ৫০ হাজার টাকা করে সরকারের পক্ষ থেকে দেয়া হয়েছে। 
নিহতদের মধ্যে একটি পরিবারের সদস্য মৌলিতা মেহজাবিন আলভি (১৯), তার খালাতো বোন লায়লা জাহান নাবিলা (২৫) ও ইসরাত জাহান মালিহা (২৭), তাদের আত্মীয় ফারিয়া কবির (৩৩), ফারিয়ার ছয় বছরে ছেলে মোহাম্মদ ফাইজান নূর এবং ফারিয়ার ভাই মোহাম্মদ নাফিস তেহামি (২৪) রয়েছেন। তারা ঢাকার বনশ্রী ও খিলগাঁও এলাকায় থাকতেন।
হ্ননাফিস তেহামি ‘জেরিফ’ নামেও পরিচিত ছিলেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে চীনা ভাষা ও সংস্কৃতি বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন। মৌলিতা মেহজাবিন আলভি ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে জনসংখ্যা ও জনস্বাস্থ্যবিজ্ঞান বিষয়ে পড়তেন। লায়লা জাহান নাবিলা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন
নিহত অন্য চারজন একই পরিবারের সদস্য। তারা হলেন- ঢাকার শ্যামলীতে গ্র্যান্ড পাওয়ার লিমিটেডের কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাহিদুর রহমান (৪১), তার স্ত্রী আফসানা মতিন (৩৬) এবং তাদের দুই মেয়ে রোজাইনা ইনায়া (৯) ও মুনাইনা ইহানা (৬)। তাদের গ্রামের বাড়ি সাতক্ষীরায়। তারা ঢাকার মোহাম্মদপুরে থাকতেন।
নাসরিন আক্তার মুক্তা ঢাকার উপকণ্ঠ সাভারের আশুলিয়ায় স্বপ্নবিলাস নিরিবিলি স্কুলের শিক্ষক ছিলেন। দুই বান্ধবীর সাথে বেড়াতে কক্সবাজারে এসেছিলেন তিনি। তার স্বামী দেওয়ান ফয়সাল ঢাকা জেলা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক নেতা। তার বাবার নাম মোস্তফা কামাল।