
ক্রীড়া প্রতিবেদক
বাংলাদেশের লক্ষ্য বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল, ওয়েস্ট ইন্ডিজের চাওয়া পয়েন্ট তালিকার নিচের দিক থেকে ওপরে ওঠা। এক দলের সামনে ইতিহাস গড়ার হাতছানি, অন্য দলের সামনে অতীতের ব্যর্থতা পেছনে ফেলার চ্যালেঞ্জ! দুই দলের লক্ষ্য আলাদা হলেও মিরপুরের লড়াইয়ে জয়ের প্রয়োজনীয়তা সমান। আগামিকাল শুরু হতে যাওয়া দুই টেস্টের সিরিজ তাই কেবল আরেকটি দ্বিপক্ষীয় লড়াই নয়, দুই দলের জন্যই নিজেদের অবস্থান বদলে দেয়ার সুযোগ।
এ বছর টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশ যে পথ পাড়ি দিয়েছে, তাতে স্বপ্ন দেখার যথেষ্ট কারণ আছে। ঘরের মাঠে পাকিস্তানকে দুই টেস্টে হারানো, অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে জয়-সব মিলিয়ে বদলে যাওয়া এক বাংলাদেশকে দেখেছে ক্রিকেটবিশ্ব। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায়ও সেই সাফল্যের ছাপ পড়েছে। ছয় ম্যাচে তিন জয় নিয়ে ফাইনালের দৌড়ে আছে দল। তবে স্বপ্নের পথে এগোতে হলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুই টেস্টেই জয় পেতে হবে বাংলাদেশকে।
বাংলাদেশের জন্য এই সিরিজে জয় মানে ফাইনালের স্বপ্নকে আরো শক্তিশালী করা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য জয় মানে পয়েন্ট তালিকায় উন্নতির পাশাপাশি আর্থিক প্রণোদনার সম্ভাবনা। দুই দলের প্রয়োজনের জায়গা আলাদা, কিন্তু লক্ষ্য অর্জনের প্রথম ধাপ একই-মিরপুরে ভালো ক্রিকেট খেলা। মাঠের বাইরের অস্থিরতা আর আর্থিক হতাশা পেছনে ফেলে শেষ পর্যন্ত কারা নিজেদের লক্ষ্য পূরণের পথে এগোয়, সেটিই দেখার অপেক্ষা!
সমস্যা হলো এমন গুরুত্বপূর্ণ সিরিজের আগে দলের চেয়ে আলোচনায় বেশি জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেটের প্রশাসনিক অস্থিরতা। সিরিজ শুরুর মাত্র তিন দিন আগে ব্যাটিং কোচের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে মোহাম্মদ আশরাফুলকে। ক্রিকেটার ও কোচিং স্টাফদের সাথে দীর্ঘ বৈঠক করেছেন বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল। নির্বাচক কমিটিতে পরিবর্তনের গুঞ্জনও রয়েছে। সব মিলিয়ে মাঠের বাইরের পরিস্থিতি বেশ সরগরম।
এমন পরিস্থিতিতে দলের প্রস্তুতি কিংবা মানসিকতায় কোনো প্রভাব পড়ছে কি না, জানতে চাওয়া হয়েছিল প্রধান কোচ ফিল সিমন্সের কাছে। তবে সরাসরি উত্তর না দিয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেটের পুরোনো বাস্তবতাই মনে করিয়ে দিয়েছেন। মিরপুরে গতকাল সিমন্সের পাল্টা প্রশ্ন, ‘আপনি আমার চেয়ে অনেক বেশি সময় ধরে বাংলাদেশে আছেন। অ ামার চেয়ে অনেক বেশি সময় ধরে বিশ্ব ক্রিকেট দেখছেন। কোনো ম্যাচের আগে কি এই প্রথম এমন বিশৃঙ্খলা দেখছেন?’
সিমন্সের প্রশ্নে একধরনের বাস্তবতা যেমন আছে, তেমনি আছে পরিস্থিতিকে স্বাভাবিকভাবে নেয়ার বার্তাও। তবে বিশৃঙ্খলাকে স্বাভাবিক মনে করলেও সেটিকে দলের প্রস্তুতিতে প্রভাব ফেলতে দিতে চান না তিনি। কোচের কাছে বাইরের আলোচনা নয়, গুরুত্বপূর্ণ হলো খেলোয়াড়রা মাঠে নিজেদের দায়িত্ব কতটা ঠিকভাবে পালন করছেন। তার কথায়, ‘আসল বিষয় হলো, আমরা কীভাবে নিজেদের কাজটা করি, সিরিজের জন্য কিভাবে প্রস্তুতি নিই। আমার মনে হয়, গত তিন-চার দিনে এখানে যে দলটি ছিল, তারা দারুণ কাজ করেছে। তারা নিজেদের কাজ করেছে। এখন পুরো দল একসাথে হচ্ছে। ম্যাচের আগ পর্যন্ত আমরা কী করি, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। বাইরে কী ঘটছে, সেটি নয়; দল হিসেবে প্রস্তুতির জন্য আমরা কী করছি, সেটিই আসল।’
প্রস্তুতির সময় নিয়েও কিছুটা পিছিয়ে বাংলাদেশ। ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল প্রায় এক সপ্তাহ আগে দেশে এসে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছে। অন্য দিকে ত্রিদেশীয় সিরিজ শেষ করে বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা একসাথে অনুশীলনের সুযোগ পেয়েছেন মাত্র দুই থেকে তিন দিন। তবে সিমন্সের কাছে সময়ের এই ব্যবধান বড় কোনো দুশ্চিন্তা নয়। দলের যে অংশটি আগে থেকে অনুশীলনে ছিল, তাদের প্রস্তুতি নিয়ে সন্তুষ্ট তিনি। বাকি খেলোয়াড়রা যোগ দিলে দুই দিনের মধ্যেই সব কিছু গুছিয়ে নেয়ার প্রত্যাশা তার।
বাংলাদেশের এই আত্মবিশ্বাসের পেছনে অবশ্য বড় কারণ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল। এর আগে কখনো ফাইনালে খেলার এতটা বাস্তব সম্ভাবনা তৈরি হয়নি বাংলাদেশের সামনে। চলতি চক্রে বাকি ছয় টেস্টের অন্তত চারটিতে জিততে পারলে সেই স্বপ্ন পূরণের পথে এগিয়ে যাবে দল। সিমন্সের বিশ্বাস, খেলোয়াড়রাও বিষয়টি বুঝতে পারছেন। ফাইনালে খেলার আকাক্সক্ষা এখন দলের সবার মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে।
বাংলাদেশের বিপরীতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের গল্পটা কিছুটা ভিন্ন। আগের দুই চক্রেই আট নম্বরে থেকে অভিযান শেষ করা দলটি এবারও ১২ ম্যাচে মাত্র দু’টি জয় নিয়ে পয়েন্ট তালিকার তলানির দিকে। তবে বাংলাদেশের বিপক্ষে দুই টেস্ট জিতে অবস্থার উন্নতি করতে চায় তারা। উইন্ডিজ কোচ ড্যারেন সামির লক্ষ্য অন্তত সেরা পাঁচে জায়গা করে নেয়া। আর সেই লক্ষ্যের সাথে এবার জড়িয়ে গেছে ক্রিকেটারদের আর্থিক স্বার্থও।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








