চার দিনের সফরে জাপানে প্রধানমন্ত্রী

মোহাম্মদ জাফর ইকবাল

Advertisement

বিনিয়োগ, বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে চার দিনের সফরে জাপান এসে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ রিপোর্ট লেখার সময় জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে রোববার মধ্যরাতে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে চার দিনের সরকারি সফরে টোকিওর উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন প্রধানমন্ত্রী। তাকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটটি সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে টোকিওর নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সেখানে জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নাকাসোনে ইয়াসুতাকা তাকে স্বাগত জানাবেন। সফরকালে প্রধানমন্ত্রী টোকিওর ইম্পেরিয়াল হোটেলে অবস্থান করবেন। হোটেল প্রাঙ্গণে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত করবেন দলীয় নেতাকর্মীসহ প্রবাসে থাকা বাংলাদেশীরা। 
২৬ থেকে ২৯  অক্টোবর পর্যন্ত এ সফরে দু’দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়ে গুরুত্ব দেয়া হবে। পাশাপাশি ঢাকার মেট্রোরেল-সহ চলমান অবকাঠামো প্রকল্পের ব্যয় কমানো এবং জাপানের কাছ থেকে নেয়া ঋণের সুদের হার হ্রাসের বিষয়েও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। সফরকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানের প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সাথে বৈঠক, শিল্প ও জ্বালানি স্থাপনা পরিদর্শন এবং বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক ফোরামে মূল বক্তব্য দেয়ার কর্মসূচি রয়েছে। 
জানা গেছে, বিনিয়োগ, বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ২০২৬ থেকে ২০৩১ মেয়াদে জাপানের সাথে ১২টি অগ্রাধিকার খাতে ১৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ ও সহযোগিতা প্যাকেজের প্রস্তাব প্রস্তুত করেছে বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে প্রস্তাবিত প্যাকেজের বিভিন্ন উদ্যোগ, বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং দু’দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরো বিস্তৃত করার বিষয়গুলো গুরুত্ব দেবেন। প্রস্তাবিত প্যাকেজের কিছু উদ্যোগ বঙ্গোপসাগরীয় শিল্প প্রবৃদ্ধি বলয় বা বিআইজি-বি উদ্যোগের আওতাভুক্ত বলে জানা গেছে। 
সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তারা জানান, প্রস্তাবিত বিনিয়োগ প্যাকেজে পরিবহন ও নগর যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে ৩ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন ডলার, মাতারবাড়ীসহ সমন্বিত শিল্প, বন্দর ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র গড়ে তুলতে ৩ দশমিক ১৪ বিলিয়ন ডলার, উৎপাদন ও ইলেকট্রনিকস খাতে ১ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন ডলার, জ্বালানি ও সবুজ রূপান্তরে ১ দশমিক ২৬ বিলিয়ন ডলার এবং জলবায়ু-সহনশীল অবকাঠামো উন্নয়নে ৯৪০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব রয়েছে। এ ছাড়া কৃষি, ওষুধশিল্প, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি, ব্লু ইকোনমি, পর্যটন এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পসহ অন্যান্য খাতে ৩ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব করা হয়েছে। সফরের মাধ্যমে দু’দেশের বিদ্যমান সম্পর্ককে আরো শক্তিশালী করার পাশাপাশি অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের নতুন ক্ষেত্র চিহ্নিত করার ওপর জোর দেয়া হবে।
সফরের প্রথম দিন আজ সোমবার বিকেলে জাপান-বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ লিগের সভাপতি তারো আসোর সাথে সাক্ষাৎ করবেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় লিগের জ্যেষ্ঠ সদস্য এবং জাপানের ভূমি, অবকাঠামো, পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী তাতসুনোরি ইবায়াশিও উপস্থিত থাকবেন। একই দিন জাপান-বাংলাদেশ কমিটি ফর কমার্শিয়াল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশনের চেয়ারম্যান মাসুমি কাকিনোকি এবং জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা জাইকার প্রেসিডেন্ট ড. আকিহিকো তানাকার সাথে পৃথক বৈঠক করবেন তিনি। সন্ধ্যায় নিপ্পন ফাউন্ডেশন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের সম্মানসূচক চেয়ারম্যান ইয়োহেই সাসাকাওয়ার দেয়া নৈশভোজে অংশ নেয়ার কথা রয়েছে তার।
সফরের দ্বিতীয় দিন ২৭ অক্টোবর জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সানায়ে তাকাইচির সাথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকের আগে তাকে আনুষ্ঠানিক গার্ড অব অনার দেয়া হবে। বৈঠক শেষে দু’দেশের প্রধানমন্ত্রী যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেবেন। পরে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর দেয়া মধ্যাহ্নভোজে যোগ দেবেন তারেক রহমান।
শীর্ষ বৈঠকে দু’দেশের কৌশলগত অংশীদারত্ব জোরদার, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, অবকাঠামো উন্নয়ন, উন্নয়ন সহযোগিতা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। বিশেষ গুরুত্ব পাবে ঢাকার মেট্রোরেল প্রকল্পের ব্যয় কমানো এবং জাপান থেকে নেয়া ঋণের সুদের হার হ্রাসের বিষয়। মেট্রোরেল ছাড়াও অন্যান্য অবকাঠামো প্রকল্পের বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করা এবং নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ করার বিষয়েও দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা হবে। একই দিন জাপানের চিবা প্রিফেকচারের ফুতসু শহরে জেরা বা জেইআরএর স্থলভিত্তিক তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের টার্মিনাল ও বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শন করবেন প্রধানমন্ত্রী। পরে ইচিকাওয়া শহরে নিটসু লজিস্টিকস হাব পরিদর্শনের কর্মসূচি রয়েছে তার। এসব পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে জাপানের শিল্প ও জ্বালানি খাতের বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে জানার সুযোগ পাবেন সফরসঙ্গীরা।
সফরের তৃতীয় দিন ২৮ অক্টোবর জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশনের গভর্নর কাজুহিকো আমাকাওয়ার সাথে সাক্ষাৎ করবেন প্রধানমন্ত্রী। পরে জাপানের তৈরী পোশাক প্রতিষ্ঠান ইউনিক্লোর সদর দফতরে প্রতিষ্ঠানটির প্রেসিডেন্ট ও পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের সাথে বৈঠক করবেন তিনি। একই দিন জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশন বা জেট্রোর প্রেসিডেন্ট সুসুমু কাতাওকার সাথে বৈঠক ও তার দেয়া মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। এ ছাড়া মিৎসুই অ্যান্ড কোম্পানি, সুমিতোমো করপোরেশন এবং জেরার প্রতিনিধিদের সাথে পৃথক বৈঠক করবেন তারেক রহমান। জাপানের আরো ১৪টি বিশিষ্ট কোম্পানির প্রতিনিধিদের সাথে দু’টি দলীয় বৈঠকও অনুষ্ঠিত হবে। এসব বৈঠকে বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কারখানা স্থাপন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিল্পায়ন, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
একই দিন বিকেলে টোকিওর জেট্রো ভবনে বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক ফোরামে মূল বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী। এ ফোরামে দু’দেশের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরির বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। সন্ধ্যায় বাংলাদেশ দূতাবাসে শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নবিষয়ক সমঝোতাস্মারক স্বাক্ষরকারীদের সাথে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন তিনি। পরে টোকিওর হোটেল নিউ ওতানিতে প্রবাসী বাংলাদেশীদের সাথে একটি কমিউনিটি অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার কথা রয়েছে তার।
সফরের শেষ দিন ২৯ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শিনকানসেন বা বুলেট ট্রেনে টোকিও থেকে নাগোয়া যাবেন। সেখানে টয়োটা মোটর করপোরেশনের মটোমাচি কারখানা পরিদর্শন করবেন তিনি। পরে টয়োটা সুসো করপোরেশনের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তোশিমিতসু ইমাইয়ের দেয়া মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেবেন। নাগোয়ায় টয়োটা কমেমোরেটিভ মিউজিয়াম অব ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড টেকনোলজিও পরিদর্শন করবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর বুলেট ট্রেনে টোকিও ফিরে নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন তিনি। বৃহস্পতিবার রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে তার ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
গত ২০ অক্টোবর বাংলাদেশ ও জাপান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রীর এ সফরের ঘোষণা দেয়। পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম জানিয়েছেন, সফরে কৃষি, মৎস্যসম্পদ, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও দক্ষতা বৃদ্ধি, বেসামরিক বিমান পরিবহন, সামুদ্রিক পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার আধুনিকায়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ে আলোচনা হবে। এসব খাতে প্রায় আটটি সমঝোতাস্মারক নিয়ে আলোচনা চলছে। এর মধ্যে তিন থেকে চারটি স্বাক্ষরিত হতে পারে বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন খাতে পৃথকভাবে বেশ কিছু সমঝোতাস্মারক বিনিময়ের কর্মসূচিও রয়েছে।
পররাষ্ট্র সচিবের ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের অগ্রাধিকার বিবেচনায় কারখানা স্থাপন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে জাপানের সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি, পরিবেশ, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, ডিজিটাল উদ্ভাবন ও গবেষণার মতো নতুন ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি বা ইপিএ স্বাক্ষরিত হওয়ায় দু’দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর এ সফরে জাপানের বাজারে বাংলাদেশী পণ্যের প্রবেশাধিকার বাড়ানো, বিনিয়োগসংক্রান্ত প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং ব্যবসায়িক আস্থা জোরদারের বিষয়গুলোও গুরুত্ব পাবে।
স্বাধীনতার পর থেকে জাপান বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে ভূমিকা রেখে আসছে। ঢাকার মেট্রোরেল, হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল এবং মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও যোগাযোগ প্রকল্পে দেশটির সহযোগিতা রয়েছে। স্বাধীনতার পর দু’দেশের সম্পর্ক জোরদারে বিভিন্ন সময়ে উচ্চপর্যায়ের সফরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৮ ও ১৯৮০ সালে জাপান সফর করেন। পরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯৪ ও ২০০৫ সালে দেশটি সফর করেন। এসব সফরের ধারাবাহিকতায় দু’দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। এবারের সফরে অর্থনৈতিক সহযোগিতার পাশাপাশি রোহিঙ্গা সঙ্কটের টেকসই ও শান্তিপূর্ণ সমাধান, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি-স্থিতিশীলতা এবং জ্বালানি সঙ্কট মোকাবেলায় সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা হতে পারে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন- তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, বিডার চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মো: শাকিরুল ইসলাম খান। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিরাও সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন।
চার দিনের এ সফরে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে বিদ্যমান উন্নয়ন সহযোগিতাকে আরো বিস্তৃত করা, নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়ে আলোচনা হবে। একই সাথে প্রস্তাবিত ১৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ ও সহযোগিতা প্যাকেজ বাস্তবায়নের সম্ভাবনা এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন অগ্রাধিকার খাতে জাপানের অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়গুলোও সফরের অর্থনৈতিক গুরুত্বকে সামনে নিয়ে আসছে।
প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন জাপান সফর নতুন জাপানি বিনিয়োগ আনতে ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। তিনি নয়া দিগন্তকে বলেন, এই সফর প্রত্যাশার বাইরেও সফল হবে। তিনি বলেন, জাপানের সাথে বাংলাদেশের সুসম্পর্ক দীর্ঘদিনের। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে দুই দেশের সম্পর্ক আরো সমৃদ্ধ হবে বলে আমি মনে করি। তিনি বলেন, এই সফরে চারটি সমঝোতাস্মারক স্বাক্ষরিত হতে পারে। দেশের বিনিয়োগ, বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যই হচ্ছে এই সফরের মূল উদ্দেশ্য।