কারচুপি হলে ঠাকুরগাঁও থেকেই সরকার পতনের অন্দোলন শুরু হবে : মিয়া গোলাম পরওয়ার

 ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, উপনির্বাচনে কারচুপি বা ইঞ্জিনিয়ারিং হলে ঠাকুরগাঁও থেকেই সরকার পতনের আন্দোলন শুরু  হবে। তিনি বলেন, চারদিক থেকে যে খবর পাচ্ছি, গত আট মাসে বিএনপির লেজে গোবরে অবস্থা হয়েছে। ইতঃমধ্যে তাদের চারজন মন্ত্রী এমপি পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন। তাদের সকালে এক কথা, বিকালে এক কথা, মাথা ঠিক নাই। জ্বর বেশি উঠলে তখন কাকে বলতে হয় তা ঠিক থাকে না। বিএনপির মাথায় জ্বর ওঠে গেছে। পিস্তল নিয়ে মাঠে নামে, তাদের প্রভাবশালী মন্ত্রীর বাড়ির পাশ দিয়ে মাদকের চালান আসে। হাজার হাজার কোটি টাকার কাজ মন্ত্রীর ছেলে আর ভাইকে দিয়েছে। আসলে বিএনপি লুটপাটের হাট বসিয়েছে। অপর দিকে জামায়াতের এমপিরা কোনো দুর্নীতির সাথে নেই। তাদের বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতির অভিযোগ নেই। ঠাকরগাঁও থেকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এমপি হয়ে মন্ত্রী হয়েছিলেন। এখন তিনি রাষ্ট্রপতি হয়েছেন। তিনি যে শত শত কোটি টাকা বরাদ্দ এনেছিলেন, তার সব বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলসহ নেতাকর্মীদের পকেটে ঢুকেছে। এবারও যদি ফখরুলের ভাইকে এমপি বানান তাহলে সব উন্নয়ন বিএনপির পকেটে চলে যাবে। ঠাকুরগাঁওয়ের জনগণকে একটি পরিবারের কাছে বন্দী করে রাখা যাবে না। যে পরিবার বারবার জনগণকে শোষণ করেছে। অপর দিকে ১১ দলের প্রার্থী মজলুম জননেতা দেলাওয়ার হোসেনকে এমপি বানালে সরকারি বরাদ্দের পাশাপাশি বিভিন্ন দান অনুদানের মাধ্যমে ঠাকরগাঁওকে একটি মডেল ঠাকুরগাঁওয়ে পরিণত করতে পারবে। কারণ ঠাকুরগাঁওয়ের জন্য তিনিই একজন যোগ্য নেতা। কারণ তিনি দুর্নীতিমুক্ত একজন সৎ, চরিত্রবান ও জনবান্ধব নেতা। আগামী ২৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য ঠাকরগাঁও-১ (সদর, ভূল্লি ও রুহিয়া) আসনের উপনির্বাচন উপলক্ষে  শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে  ঠাকরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয় মাঠে (বড়মাঠ)  আয়োজিত ১১ দলের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ে মাগুরা মার্কা নির্বাচনের চেষ্টা করলে আবারো ক্ষমতা থেকে বিদায় নিতে হবে। বিএনপি তাদের নিশ্চিত পরাজয় বুঝতে পেরে ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের মতো ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচনেও ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ষড়যন্ত্র করছে। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই এই নির্বাচনে ইঞ্জিনিয়ারিং করা হলে ঠাকুরগাঁও থেকেই সরকার পতনের আন্দোলন শুরু হবে। যে কেন্দ্রে জনগণের ভোটের ফলাফল নিয়ে কারচুপির চেষ্টা করা হবে, ওই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসারকে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখতে হবে। জনগণের ভোটের হিসাব বুঝে না পাওয়া পর্যন্ত কেন্দ্রে অবস্থান করতে।
প্রধান বক্তা হিসেবে ঠাকরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ১১ দলের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন বলেন, আমি এমপি হলে এই আসনের তিনটি উপজেলায় মা ও শিশু হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা, মেডিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠা, ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতাল ৬০০ শয্যায় উন্নীত করা হবে, প্রতিটি ইউনিয়নে কমিউনিটি ক্লিনিক চালু করা হবে। যাতে চিকিৎসার জন্য কোনো মানুষকে আর গরু ছাগল বা জমিজমা বিক্রি করে ঢাকায় চিকিৎসা করাতে যেতে না হয়। 
তিনি প্রশাসনকে উদ্দেশ করে বলেন, আমরা জানতে পেরেছি, আপনারা কেউ কেউ ছাত্রজীবনে বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। কিন্তু মনে রাখবেন যে চেয়ারে আপনারা বসে আছেন সেটি নিরপেক্ষ চেয়ার। সুতরাং সরকারি দায়িত্ব নিরপেক্ষভাবে পালন করবেন। পক্ষপাতিত্ব করে নির্বাচনী ফলাফল ছিনতাই হলে নির্বাচন কমিশন ঘেরাও করা হবে। আমরা ঠাকুরগাঁওয়ে মাগুরার মতো নির্বাচন দেখতে চাই না। যদি এমনটা হয় তা হলে ঠাকুরগাঁও থেকেই বিএনপির পতনের অন্দোলন শুরু হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, দেশ ভালো নেই, তাই দেশের নাগরিকরাও ভালো থাকতে পারেন না। তিনি বলেন, ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে পরবর্তীতে যিনি রাষ্ট্রপতি হয়েছেন, তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন যে বিএনপি সরকারের পাঁচ মাসে কোনো পরিবর্তন হয়নি। আগের মতোই ঘুষ, চাঁদাবাজি আর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হচ্ছে। রাষ্ট্রপতি তার ওই বক্তব্যে নিজেই স্বীকার করেছেন যে তার ভাই সন্ত্রাসী, তার ভাই চাঁদাবাজ, তার ভাই মাদকসেবী ও মাদক কারবারি! আবার রাষ্ট্রপতি নিজেই দেলাওয়ার হোসেনের ব্যাপারে মন্তব্য করেছিলেন, দেলাওয়ার ভালো ছেলে, সৎ ছেলে। রাষ্ট্রপতির এই দুটি কথা মূল্যায়ন করলেই ঠাকুরগাঁওবাসী সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচন করতে পারবেন। 
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও রংপুর দিনাজপুর অঞ্চল পরিচালক মাওলানা আবদুল হালিম বলেন, দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন আওয়ামী লীগের জুলুমের শিকার হলেও বিএনপি প্রার্থী আওয়ামী লীগের সাথে আঁতাত করে মেয়র হয়েছিলেন। তার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ একটি মামলাও করেছে কি না? যে দলের নেতারা হাসপাতাল ভেঙে জমি দখল নেন, যে দলের নেতারা কৃষকের সার লুট করে পাচার করেন, যে দল জনগণকে প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় গিয়ে সেই প্রতিশ্রুতি কেবল ভোট পাওয়ার জন্য ছিল বলে সংসদে স্বীকার করে, সেই দলকে কোনোভাবেই আর ভোট দেওয়া যায় না।
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ বলেন, যারা ভোট পাওয়ার জন্য জনগণের সাথে মিথ্যাচার ও প্রতারণা করে, তাদের ২৯ অক্টোবর ব্যালটের মাধ্যমে বয়কট করতে হবে। বিএনপি জাতীয় সরকার গঠনের ঘোষণা দিয়ে ক্ষমতা গ্রহণের পর শুধু দলীয় সরকার নয়, বরং পারিবারিক সরকার গঠন করেছে। 
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা এনামুল হক মুসা বলেন, বিএনপি সরকার গণভোটের রায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করে দেশের ৭০ শতাংশ জনগণের সাথে বেঈমানি করেছে।
জাগপার সহসভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান বলেন, ঠাকুরগাঁওবাসী এক চমৎকার সুযোগ পেয়েছেন, যে সুযোগ দেশের অন্য আসনের জনগণ পাননি। তিনি বলেন, সেই সুযোগ হচ্ছে বিগত আট মাসে বিএনপি সরকারের দুর্নীতি, অনিয়ম, লুটপাট, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও দলীয়করণের প্রতিবাদে দাঁড়িপালা প্রতীকে ভোট দেওয়া।
আগামী ২৯ অক্টোবর ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে কারচুপির চেষ্টা করা হলে এটাই হবে বিএনপি সরকারের শেষ নির্বাচন উল্লেখ করে ডাকসু ভিপি আবু সাদিক কায়েম বলেন, দাঁড়িপালা প্রতীকে দেলাওয়ার হোসেন এমপি নির্বাচিত হলে ঠাকরগাঁওয়ের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। মা-বোনদের ইজ্জত ও সম্মান এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে। 
ঠাকুরগাঁও জেলা আমির অধ্যাপক বেলাল উদ্দিন প্রধানের সভাপতিত্বে এবং জেলা সেক্রেটারি মোহাম্মদ আলমগীর ও সহকারী জেলা সেক্রেটারি অধ্যক্ষ কফিল উদ্দিন আহাম্মদ এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত জনসভায় আরো বক্তব্য রাখেন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের নায়েবে আমীর অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি ড. আবদুল মান্নান, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ড. মোবারক হোসাইন, জামায়াতের রংপুর অঞ্চল টিম সদস্য মাওলানা আব্দুল হাকিম ও মাওলানা আনোয়ারুল ইসলাম, দিনাজপুর জেলা আমির আনিসুর রহমান, পঞ্চগড় জেলা আমির ইকবাল হোসেন, এনসিপির ঠাকুরগাঁও জেলার আহ্বায়ক খলিলুর রহমান, খেলাফত মজলিসের জেলা সভাপতি সাঈদ আহমেদ সাঈফীসহ ১১ দলীয় ঐক্যের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।

Advertisement